শিরোনাম

South east bank ad

চাহিদা নিম্নমুখী হওয়ায় দাম কমবে তামার

 প্রকাশ: ১২ এপ্রিল ২০২৬, ১২:০০ পূর্বাহ্ন   |   ক্রয়-বিক্রয়

চাহিদা নিম্নমুখী হওয়ায় দাম কমবে তামার

বৈশ্বিক বাজারে তামার চাহিদা কমে যাওয়ায় চলতি বছরের জন্য এ ধাতুর দামের পূর্বাভাস কমিয়ে দিয়েছে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ ব্যাংক গোল্ডম্যান স্যাকস।

বিশ্ব অর্থনীতির শ্লথগতি ও ভূরাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে চাহিদায় ভাটা পড়ায় এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। তবে দীর্ঘমেয়াদে পরিবেশবান্ধব বিদ্যুৎ খাতের প্রসারের কারণে তামার উজ্জ্বল ভবিষ্যতের ব্যাপারে আশাবাদী তারা। খবর হেলেনিক শিপিং নিউজ।

সংস্থাটির নতুন প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি টন তামার গড় দাম দাঁড়াতে পারে ১২ হাজার ৬৫০ ডলারে। এর আগে এ পূর্বাভাস ছিল ১২ হাজার ৮৫০ ডলার। ব্যাংকটির বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার ফলে জ্বালানির বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এর প্রভাবে বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হওয়ায় শিল্প খাতে তামার ব্যবহার আগের তুলনায় কমেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরে তামার বৈশ্বিক চাহিদার তুলনায় সরবরাহ ৪ লাখ ৯০ হাজার টন বেশি হতে পারে। আগে এ উদ্বৃত্তের পরিমাণ ৩ লাখ ৮০ হাজার টন হবে বলে ধারণা করা হয়েছিল। গোল্ডম্যান স্যাকস তামার বৈশ্বিক চাহিদার প্রবৃদ্ধিও ২ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১ দশমিক ৬ শতাংশ নির্ধারণ করেছে। বিশেষ করে জ্বালানির উচ্চমূল্যের কারণে বিশ্ব অর্থনীতির যে ক্ষতি হচ্ছে, তার সরাসরি প্রভাব পড়ছে তামার মতো শিল্প ধাতুর ওপর।

তবে অ্যালুমিনিয়ামের মতো অন্যান্য ধাতুর তুলনায় তামা কিছুটা সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। গোল্ডম্যান স্যাকসের বিশ্লেষক অরেলিয়া ওয়ালথামের মতে, তামা এখন একটি ‘কৌশলগত’ ধাতু হিসেবে পরিচিতি পাচ্ছে। বৈদ্যুতিক গাড়ি, সোলার প্যানেল ও উন্নত বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন তৈরির জন্য তামা অপরিহার্য। এ কারণে বিশ্ব অর্থনীতিতে ওঠানামা থাকলেও তামার চাহিদায় বড় ধরনের ধস নামার সম্ভাবনা কম।

স্বল্পমেয়াদে তামার বাজারে অস্থিরতা বজায় থাকতে পারে বলে সতর্ক করেছে ব্যাংকটি। পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে (এপ্রিল-জুন) তামার দাম ১২ হাজার ৭০০ ডলারের আশপাশে থাকলেও বছরের শেষার্ধে তা কমে ১২ হাজার ডলারে নেমে আসতে পারে। যদি বিশ্ব অর্থনীতির পরিস্থিতি আরো খারাপ হয়, তবে দাম ১১ হাজার ১০০ ডলার পর্যন্ত নিচে নামার ঝুঁকিও রয়েছে।

আফ্রিকার দেশ ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো (ডিআরসি) বিশ্বের মোট তামার ১৫ শতাংশ উৎপাদন করে। এ খনিগুলো পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় রাসায়নিক দ্রব্য মধ্যপ্রাচ্যের সমুদ্রপথ হয়ে আসে। মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী কোনো সংকটে সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাহত হলে তামার দাম আবারো অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে বেড়ে যেতে পারে। তবে দীর্ঘমেয়াদে ২০৩৫ সাল নাগাদ প্রতি টন তামার দাম ১৫ হাজার ডলারে পৌঁছতে পারে বলে মনে করছে গোল্ডম্যান স্যাকস।

BBS cable ad