নিষেধাজ্ঞা নয়, ব্যক্তিগত কারণে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ২ কর্মকর্তার সফর প্রত্যাহার
বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালক লিজা ফাহমিদা ও অতিরিক্ত পরিচালক কামরুল ইসলামের ৯ থেকে ১১ মার্চ সিঙ্গাপুরে একটি কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার কথা ছিল। এ জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ৯ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদলকে গত ১০ ফেব্রুয়ারি অনুমোদন দেওয়া হয়। তবে সফরের এক দিন আগে ৮ মার্চ মানবসম্পদ বিভাগ থেকে পরিচালক নাসিমা সুলতানা স্বাক্ষরিত এক আদেশে ওই দুই কর্মকর্তার নাম প্রতিনিধিদল থেকে প্রত্যাহার করা হয়। ফলে তারা নির্ধারিত সফরে অংশ নিতে পারেননি।
তবে বেশ কিছু গণমাধ্যমে বিদেশ সফরে নিষেধাজ্ঞা উল্লেখ করে নিউজ প্রকাশ হয়েছে।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, পরিচালক লীজা ফাহমিদা ব্যক্তিগত ও পারিবারিক কারণে ওই সফর থেকে নিজের নাম প্রত্যাহার করার জন্য আবেদন করেন যা যথাযথ কর্তৃপক্ষ কর্তৃক গৃহীত হয়। পাশাপাশি সাবেক গভর্নরের পিএস কামরুল ইসলাম অন্যত্র বদলি হওয়ায় আলোচ্য প্রশিক্ষণের সঙ্গে তার কাজের সম্পৃক্ততা না থাকায় তার নাম প্রত্যাহার করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভাষ্যমতে এটা কোনো নিষেধাজ্ঞা নয়।
প্রসঙ্গত, গত ২৬ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুরের নিয়োগ বাতিল করে মো. মোস্তাকুর রহমানকে একই পদে নিয়োগ দিয়েছে সরকার। সেই গভর্নরের পিএস ছিলেন কামরুল ইসলাম।
বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তাদের দাবি, মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ কাঠামো অনুযায়ী বিএফআইইউ এর স্পর্শকাতর ও গোপনীয় তথ্য গভর্নর অফিসে সংরক্ষণ বা একান্ত সচিবের কাছে রাখার বিধান নেই। কিন্তু বিএফআইইউ থেকে প্রাপ্ত এসব তথ্য গভর্নরের স্ত্রী ও তার একান্ত সচিব কামরুল ইসলামের যোগসাজশে একটি সিন্ডিকেটের কাছে পাচার করা হচ্ছে।
অভিযোগে আরো বলা হয়, ওই সিন্ডিকেট ফ্রিজ থাকা হিসাব সচল করার তদবিরের নামে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে বিপুল অর্থ আদায় করেছে। যদিও এ সংক্রান্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রমাণ এখনো প্রকাশ্যে আসেনি, তবে বিষয়টি আর্থিক খাতে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
সংশ্লিষ্ট মহল বলছে, অভিযোগ সত্য হলে তা বিএফআইইউয়ের অপারেশনাল স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন করার পাশাপাশি মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের সরাসরি লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।


