নারী এজেন্টের হার এখনো ১০ শতাংশের নিচে
ব্যাংকিং সেবাকে গ্রাম ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে পৌঁছে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে এজেন্ট ব্যাংকিং।
গত এক দশকে বিস্তৃত হওয়া এ সেবার মাধ্যমে দেশের মোট জনগোষ্ঠীর বড় একটি অংশ আনুষ্ঠানিক আর্থিক ব্যবস্থার আওতায় এসেছে। তবে এ খাতে নারীর সরাসরি অংশগ্রহণ এখনো সীমিত। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, এজেন্ট ব্যাংকিংয়ে নারী এজেন্টের হার এখনো ১০ শতাংশের নিচে রয়ে গেছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশে প্রায় ১৫ হাজার ৩২৮ জন ব্যক্তি এজেন্ট ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এর মধ্যে নারী এজেন্টের সংখ্যা মাত্র ১ হাজার ৫৩১, যা মোট এজেন্টের প্রায় ৯ দশমিক ৯৯ শতাংশ। অর্থাৎ এ খাতে পুরুষদের তুলনায় নারীদের উপস্থিতি এখনো অনেক কম।
দেশের আর্থিক খাতে নারীর অংশগ্রহণ বৃদ্ধি নিশ্চিত করতে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের নারী এজেন্ট নিয়োগে গুরুত্ব দিচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। গত বছরের ৮ মে এজেন্ট ব্যাংকিং পরিচালনাকারী ব্যাংকগুলোকে এজেন্ট নিয়োগের ক্ষেত্রে অন্তত ৫০ শতাংশ নারী এজেন্ট নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেয়া হয়। এর পরও এ খাতে নারীর অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পায়নি।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা জারির পর গত জুনে নারী এজেন্টের সংখ্যা ছিল ১ হাজার ৪৩৪। এর ছয় মাস পর এ সংখ্যা কিছুটা বাড়লেও তা এখনো ১০ শতাংশের নিচেই রয়ে গেছে। গত জুনে ব্যাংকগুলোর মোট এজেন্টের ৯ দশমিক ৩২ শতাংশ ছিল নারী। পরবর্তী ছয় মাসে তা বৃদ্ধি পেয়েছে মাত্র দশমিক ৬৭ শতাংশ।
এজেন্ট হিসেবে নারীর সংখ্যা কম হলেও গ্রাহক হিসেবে নারীর অংশগ্রহণ দ্রুত বাড়ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মোট আমানত হিসাবের প্রায় অর্ধেকই নারী। বর্তমানে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ে মোট আমানত হিসাব রয়েছে ২ কোটি ৫৮ লাখ ৩২ হাজার ৯৭৯টি। এর মধ্যে ১ কোটি ২৮ লাখ ৬ হাজার ৩৬২টি হিসাব নারীদের নামে রয়েছে; যা মোট হিসাবের ৪৯ দশমিক ৫৭ শতাংশ। এক বছরে নারী আমানত হিসাবের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৭ দশমিক ৫ শতাংশ।
আমানতের হিসাবে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ে নারীর সংখ্যা প্রায় অর্ধেক হলেও ঋণ গ্রহণের ক্ষেত্রে অবশ্য তারা বেশ পিছিয়ে রয়েছে। গত ডিসেম্বর শেষে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ে ঋণ হিসাব ছিল ২ লাখ ৩৯ হাজার ২১৫টি। এর মধ্যে নারীর হিসাব ছিল ৮৯ হাজার ৫৬৭টি; যা মোট হিসাবের ৩৭ দশমিক ৪৪ শতাংশ। যদিও গত এক বছরে নারী ঋণ হিসাবধারীর প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৬ দশমিক ৪ শতাংশ হারে। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে নারী ঋণ হিসাব ছিল ৮৪ হাজার ১৪৫টি।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যানুযায়ী, গত ডিসেম্বর শেষে এজেন্ট ব্যাংকিং সেবায় আমানতের স্থিতি ছিল ৪৯ হাজার ৩৫৬ কোটি টাকা। একই সময়ে বিতরণকৃত ঋণের পরিমাণ ছিল ১১ হাজার ৭৫৫ কোটি টাকা। এ সময়ে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে বিতরণ করা প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্সের পরিমাণ ছিল ৮ হাজার ৪৩৮ কোটি টাকা।
বিশ্বে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের ধারণা প্রথম বাস্তবায়ন করা হয় ব্রাজিলে। বাংলাদেশ ব্যাংক ২০১৩ সালের ৯ ডিসেম্বর এজেন্ট ব্যাংকিং পরিচালনা-সংক্রান্ত নীতিমালা প্রকাশ করে। সেই নীতিমালার ভিত্তিতে ২০১৪ সালের ১৭ জানুয়ারিতে দেশে প্রথম এজেন্ট ব্যাংকিং কার্যক্রম শুরু করে ব্যাংক এশিয়া পিএলসি। শুরুর দিকে পরীক্ষামূলক উদ্যোগ হিসেবে মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলায় এ সেবা চালু করা হয়। ওই উপজেলার জৈনসার ইউনিয়নের ব্যবসায়ী ইসলাম শেখকে প্রথম এজেন্ট হিসেবে নিয়োগ দেয় ব্যাংকটি। এরপর এক দশকের বেশি সময়ে দেশে এজেন্ট ব্যাংকিং সেবার দ্রুত বিস্তৃত হয়েছে।


