শিরোনাম

South east bank ad

বগুড়ায় মৃত্যুর দায় এড়াতে বন্ধুর লাশ গুম ও অপহরণের নাটক

 প্রকাশ: ২২ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১২:০০ পূর্বাহ্ন   |   অটোমোবাইল

প্রদীপ মোহন্ত, (বগুড়া) :

বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলার দুই বন্ধু একসঙ্গে বসে মাদক সেবন করেছিলেন। মাদকের মাত্রা সহ্য করতে না পেরে মারা যান একজন। এই মৃত্যুর দায়ভার এড়াতে লাশ গুম করে অপহরণের নাটক সাজান অপর বন্ধু। কিন্তু রক্ষা হয়নি। পুলিশের হাতে ধরার পরার পর বেরিয়ে আসে আসল ঘটনা।
গ্রেপ্তার হওয়া সেই বন্ধুর নাম হারুন অর রশিদ (৩৪)। তিনি উপজেলার ইসলামপুর খাঁ পাড়ার বাসিন্দা এবং পেশায় অটোরিকশা চালক। মাদক সেবনে মারা যাওয়া তার বন্ধু একই এলাকার কৃষক হুমায়ন কবির (৩৫)।

মঙ্গলবার সকালে নিজ বাড়ির পাশের ডোবা থেকে হুমায়ুনের লাশ উদ্ধার করা হয়। পরে তথ্য প্রযুক্তির সাহায্যে মঙ্গলবার দিবাগত রাতে হারুনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গ্রেপ্তারের পর পুলিশের কাছে এসব ঘটনা স্বীকার করেছেন হারুন।

বুধবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে বগুড়া জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) সুদীপ কুমার চক্রবর্ত্তী এসব বিষয় জানান।

এসপি বলেন, গত শনিবার রাতে বাজারে আড্ডা দেওয়ার কথা বলে বের হন হুমায়ুন কবির। এরপর থেকে নিখোঁজ ছিলেন। পরের দিন রোববার হুমায়ুনের ব্যবহত মুঠোফোন থেকে তার বাবার কাছে ফোন করে এক লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে অপরিচিত ব্যক্তি। সোমবারেও ফোন করে কয়েক দফায় মুক্তিপণ দাবি করা হয়।

এর মধ্যে গত মঙ্গলবার সকাল ৯টার দিকে হুমায়ুনের নিজ এলাকার একটি ডোবা থেকে তার বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনার পর থানা পুলিশ তথ্য প্রযুক্তির সাহায্যে তার বন্ধু হারুনকে মঙ্গলবার দিবাগত রাতে তার নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে।

সংবাদ সম্মেলনে হারুনের স্বীকারোক্তির বরাতে পুলিশ জানায়, শনিবার রাতে তারা দু’জন বন্ধু তার অটোরিকশায় করে মাদকদ্রব্য কিনতে দুপচাঁচিয়া উপজেলা শহরে আসেন। হারুনের বাড়িরে কেউ না থাকার সুযোগে সেখানে বসে পানীয় মাদকদ্রব্য ও ডাইডিল ট্যাবলেট একসঙ্গে সেবন করতে থাকেন।

হুমায়ন কবির অতিরিক্ত মাদকদ্রব্য সেবন করায় মাতলামি করতে থাকে। একপর্যায়ে টিউবওয়েল পাড়ে গেলে সেখানে পড়ে যান তিনি। তখন হারুন তাকে উঠানোর চেষ্টা করতে থাকেন। কিন্তু অতিরিক্ত পরিমাণ মাদকদ্রব্য সেবন করার কারণে হুমায়ন বেসামাল হয়ে যায়। এ সময় হারুন পা দিয়ে হুমায়ুনের পিঠে জোরে কয়েকটি লাথি মারলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। কিছুক্ষণ পরে ভিকটিমের শরীর ঠান্ডা ও নিস্তেজ হয়ে যায় তখন হারুন বুঝতে পারে হুমায়ন মারা গেছে।

হুমায়ুনের মৃত্যুতে সবদোষ নিজের কাঁধে আসবে ভেবে হারুন ঠিক করে লাশ গুম করে ফেলবেন। এই ভাবনা থেকে নিজ বাড়িতে থাকা একটি সাদা প্লাস্টিকের বস্তার ভিতরে লাশকে তুলে রাখে। পরে সুযোগ বুঝে এলাকার একটি ডোবায় নেমে বস্তাবন্দি হুমায়নের লাশের সঙ্গে ইট বেঁধে বস্তাটি ডুবিয়ে দেয়।

পুলিশ কর্মকর্তা জানান, এরপর বিষয়টি ধামাচাপা দিতে কৌশল হিসেবে অপহরণ ও ভিকটিমের ব্যবহৃত মুঠোফোন ব্যবহার করে অপহরণ নাটক সাজান হারুন।

পুলিশ সুপার সুদীপ কুমার চক্রবর্ত্তী বলেন, গ্রেপ্তার হারুনকে আদালত পাঠিয়ে বিষয়গুলো আরও নিশ্চিত হতে রিমান্ড আবেদন করা হবে। পাশাপাশি দুপচাঁচিয়াতে মাদকদ্রব্য ব্যবসায়ীদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হবে।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যানদের মধ্যে ছিলেন জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) আলী হায়দার চৌধুরী, (অপরাধ) আব্দুর রশিদ, (সদর সার্কেল ও মিডিয়া মুখপাত্র) ফয়সাল মাহমুদ, (সদর হেডকোয়ার্টার) হেলেনা আক্তার, সিনিয়র সহকারি পুলিশ সুপার আদমদীঘি সার্কেল নাজরান রউফ ও দুপচাঁচিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হাসান আলী।

BBS cable ad

অটোমোবাইল এর আরও খবর: