শিরোনাম

South east bank ad

টাকার বিনিময়ে টিকা নিবন্ধনের অভিযোগে স্বাস্থ্যকর্মী প্রত্যাহার

 প্রকাশ: ০৭ অগাস্ট ২০২১, ১২:০০ পূর্বাহ্ন   |   অটোমোবাইল

মো. রাকিব হোসাইন রনি, (লক্ষ্মীপুর) :

লক্ষ্মীপুরের রায়পুরের বিনামূল্যে করোনা টিকা গ্রহণে জন্য নিবন্ধন করতে টাকা আদায়ের অভিযোগে উঠেছে সুনীল চন্দ্র দেবনাথ নামে এক স্বাস্থ্য সহকারী ও তার দুই সহযোগীর বিরুদ্ধে। উপজেলার চরপাতা ইউনিয়নের গাজীনগর এলাকায় গত ৪-৫ দিন ধরে এমন ঘটনা ঘটলেও বৃহস্পতিবার (৫ আগস্ট) বিষয়টি জানাজানি হয়। এ ঘটনাটি চারদিকে ছড়িয়ে পড়ার পর অভিযুক্তদের টিকাদান কর্মসূচি থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। এদিকে অভিযোগের বিষয়টি তদন্তে ৩ সদস্যের কমিটি গঠন করেছেন স্বাস্থ্য বিভাগ। শনিবার দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে জেলা সিভিল সার্জন ডাঃ আবদুল গফফার।

ভুক্তভোগীরা জানায়, টাকা দিলে নিবন্ধন পাচ্ছেন করোনার টিকা নিতে আসা নারী-পুরুষ। যারা টাকা দিতে রাজী নন তাদের নিবন্ধনও করা হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন তারা। অথচ যে স্বাস্থ্যকর্মী এটি করেছেন সেটি তার দায়িত্বের মধ্যেও পড়ে না। শুধুমাত্র বাড়তি টাকা আয়ের জন্যই এমন ঘটনাটি ঘটিয়েছেন ওই এলাকার দায়িত্বরত স্বাস্থ্য সহকারী। তার নাম সুনীল চন্দ্র দেবনাথ। এ কাজে তাকে সহযোগিতা করেছেন গাজি নগর কমিউনিটি ক্লিনিকের সিএইচসি নুরজাহান বেগম ও পরিবার পরিকল্পনা কল্যাণ সহকারী চন্দনা রানী নাথ।

বিষয়টি নিয়ে কথা হয় গাজীনগর এলাকার রঞ্জন আলী পাটওয়ারী বাড়ির মোঃ মিজান, রাশিদা বেগম, আনোয়ার উল্যা পাটওয়ারী, মেহেরুন্নেছা ও রমজান আলী পাটওয়ারী বাড়ির হামিদ উল্যা পাটওয়ারী, তাছলিমা আক্তার, আফরোজা আক্তারসহ অনেকের সাথে। তারা জানান, কমিউনিটি সেন্টার ও রমজান আলী পাটওয়ারী বাড়ির ইপিআই টিকাকেন্দ্রে বসে করোনার টিকা দেওয়ার জন্য নিবন্ধন করেন স্বাস্থ্য সহকারী সুনীল চন্দ্র দেবনাথ। তিনি জনপ্রতি ৫০ টাকা করে নিয়ে করোনার টিকার নিবন্ধন করে দেন। যারা টাকা দিতে পারেননি তিনি তাদের এনআইডি কার্ডের নাম্বার লিপিবদ্ধ করেননি। গত ৩ দিন ধরেই তিনি এখানে এ কার্যক্রম করে যাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন গ্রামের লোকজন। কমিউনিটি সেন্টারে বসেও তিনি একই কাজ করেন বলে জানান তারা।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত পরিবার কল্যাণ সহকারী চন্দনা রানী নাথ বলেন, টাকা নেওয়ার বিষয়টির সঙ্গে আমার সংশ্লিষ্টতা নেই। স্বাস্থ্য সহকারী সুনিল বাবু অনুরোধ করায় ইপিআই কেন্দ্রে নিবন্ধনের জন্য আসা ব্যক্তিদের এনআইডি নাম্বারগুলো খাতায় লিখে দিয়েছি। তিনি নিজ দায়িত্বে ৫০ টাকা করে নিয়েছেন। আমি টাকা ছুঁয়েও দেখিনি। একই কথা বলেছেন গাজিনগর কমিউনিটি ক্লিনিকের কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার (সিএইচসি) নুরজাহান বেগম। তিনি বলেন, বিষয়টির সঙ্গে আমি মোটেও জড়িত নই। আমি আমার ক্লিনিকের ভিতরে বসে সেবা দেই। বারান্দায় বসে স্বাস্থ্য সহকারী কি করেছেন তা আমি জানি না।

টাকা নেয়ার বিষয় স্বীকার করে অভিযুক্ত স্বাস্থ্য সহকারী সুনিল চন্দ্র দেবনাথ বলেন, করোনার টিকার নিবন্ধনের জন্য এনআইডি নাম্বার খাতায় লিখে ৫০ টাকা করে কম্পিউটারের খরচ নিয়েছি। গত দু’দিনও অর্ধ শতাধিক লোকের নিবন্ধন করে তাদের টিকা কার্ড দিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডাক্তার বাহারুল আলম বলেন, কোনো স্বাস্থ্যকর্মীর এ ধরণের নিবন্ধনের কোনো সুযোগ নেই। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী ইউনিয়নগুলোতে টিকা দান কার্যক্রম শুরু হলে দায়িত্বপ্রাপ্তরা শুধুমাত্র নাম, এনআইডি ও মোবাইল নম্বর রেজিস্টারে অন্তর্ভূক্ত করেই টিকা দিবেন।

এ বিষয়ে জেলা সিভিল সার্জন ডাঃ আবদুল গফফার জানান, টিকা নিবন্ধন করতে কোনো টাকা পয়সা লাগেনা। রায়পুর এলাকার এক স্বাস্থ্য সহকারী ও এক পরিবার পরিকল্পনা কল্যাণ সহকারীর বিরুদ্ধে টাকা নেয়ার অভিযোগ শুনেছি। তাদেরকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। তাদেরকে আগামী তিন দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণ হলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

BBS cable ad

অটোমোবাইল এর আরও খবর: