আড়াই শতাংশের বেশি বেড়েছে সূচক

দেশের পুঁজিবাজারে গত সপ্তাহে সূচক ও লেনদেন দুটোই ঊর্ধ্বমুখী ছিল। আলোচ্য সপ্তাহে প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সার্বিক সূচক ডিএসইএক্স বেড়েছে ২ দশমিক ৬৬ শতাংশ। পাশাপাশি দৈনিক গড় লেনদেন বেড়েছে ২৬ শতাংশের বেশি। ডিএসইর সাপ্তাহিক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।
বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত সপ্তাহে ডিএসইএক্স সূচক আগের সপ্তাহের তুলনায় ১৪২ দশমিক ৯৯ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ৫১৮ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, গত সপ্তাহে যা ছিল ৫ হাজার ৩৭৫ পয়েন্ট। নির্বাচিত কোম্পানির সূচক ডিএস-৩০ সপ্তাহের ব্যবধানে ৬৭ দশমিক ৫৫ পয়েন্ট বেড়ে ২ হাজার ১৫৭ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের সপ্তাহ শেষে যা ছিল ২ হাজার ৮৯ পয়েন্ট। ডিএসইর শরিয়াহ সূচক ডিএসইএস গত সপ্তাহে ২৬ দশমিক ৮৬ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ২০৭ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের সপ্তাহ শেষে যা ছিল ১ হাজার ১৮০ পয়েন্ট।
ডিএসইতে গত সপ্তাহে মোট ৩৯৬টি কোম্পানি, মিউচুয়াল ফান্ড ও করপোরেট বন্ডের লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে দর বেড়েছে ২৬৮টির, কমেছে ১০৫টির ও দর অপরিবর্তিত ছিল ২৩টির। আর লেনদেন হয়নি ১৭টির। গত সপ্তাহে সূচকের উত্থানে সবচেয়ে বেশি অবদান রেখেছে বীকন ফার্মাসিউটিক্যালস, ব্র্যাক ব্যাংক, সিটি ব্যাংক, ইসলামী ব্যাংক ও বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালসের শেয়ার।
গত সপ্তাহে ডিএসইতে মোট ৫ হাজার ৭২৯ কোটি ৫৬ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। যেখানে আগের সপ্তাহে লেনদেন ছিল ৪ হাজার ৫৩৫ কোটি ৬৯ লাখ টাকা। সে হিসাবে এক সপ্তাহের ব্যবধানে এক্সচেঞ্জটিতে দৈনিক গড় লেনদেন বেড়েছে ২৬ দশমিক ৩২ শতাংশ।
খাতভিত্তিক লেনদেনে গত সপ্তাহে ওষুধ ও রসায়ন খাতের আধিপত্য ছিল। লেনদেনচিত্র বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত সপ্তাহে ডিএসইর মোট লেনদেনের ১৪ দশমিক ৮৯ শতাংশ দখলে নিয়ে শীর্ষ অবস্থান করছে ওষুধ ও রসায়ন খাত। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১৪ দশমিক ৫১ শতাংশ দখলে নিয়েছে বস্ত্র খাত। ৮ দশমিক ৯৩ শতাংশ লেনদেনের ভিত্তিতে তৃতীয় অবস্থানে ব্যাংক খাত। চতুর্থ অবস্থানে থাকা প্রকৌশল খাতের দখলে ছিল লেনদেনের ৮ দশমিক ৮৭ শতাংশ। আর ৮ দশমিক ১১ শতাংশ লেনদেনের ভিত্তিতে তালিকার পঞ্চম অবস্থানে ছিল সাধারণ বীমা খাত।
গত সপ্তাহে ডিএসইতে দুটি খাত বাদে সব খাতের শেয়ারেই ইতিবাচক রিটার্ন এসেছে। এর মধ্যে ভ্রমণ ও অবকাশ খাতে শেয়ারে সবচেয়ে বেশি ১০ দশমিক ২১ শতাংশ ইতিবাচক রিটার্ন ছিল। এছাড়া জীবন বীমা খাতে ১০ দশমিক ১৯ শতাংশ, কাগজ ও মুদ্রণ খাতে ১০ দশমিক শূন্য ৭ ও বস্ত্র খাতে ৭ দশমিক ৯৯ শতাংশ ইতিবাচক রিটার্ন এসেছে। অন্যদিকে গত সপ্তাহে পাট খাতে সবচেয়ে বেশি ২ দশমিক ৬৪ শতাংশ নেতিবাচক রিটার্ন এসেছে। এছাড়া চামড়া প্রতিষ্ঠান খাতে দশমিক ৭৪ নেতিবাচক রিটার্ন ছিল।
দেশের আরেক পুঁজিবাজার চিটাগং স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) গত সপ্তাহে সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ২ দশমিক ২১ শতাংশ বেড়ে ১৫ হাজার ৩৫৭ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের সপ্তাহে যা ছিল ১৫ হাজার ২৫ পয়েন্ট। সিএসসিএক্স সূচকটি গত সপ্তাহে ২ দশমিক ৪৬ শতাংশ বেড়ে ৯ হাজার ৪৪৫ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের সপ্তাহে যা ছিল ৯ হাজার ২১৮ পয়েন্ট।
সিএসইতে গত সপ্তাহে ১২৫ কোটি ৭৪ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে, আগের সপ্তাহে যা ছিল ৬৮ কোটি ৮৮ লাখ টাকা। আলোচ্য সপ্তাহে সিএসইতে লেনদেন হওয়া ৩৩৩টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ২০২টির, কমেছে ১১১টির আর অপরিবর্তিত ছিল ২০টির বাজারদর।