অর্থনীতিতে সিএমএসএমই খাতের অংশীদারত্ব ৬০ শতাংশে উন্নীত করতে চায় সরকার
দেশের অর্থনীতিতে কুটির, অতিক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (সিএমএসএমই) খাতের অবদান ৩৪ থেকে বাড়িয়ে অন্তত ৬০ শতাংশে উন্নীত করতে চায় সরকার।
এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে সম্ভাবনাময় শিল্প খাতের সম্প্রসারণ, নতুন উদ্যোক্তা সৃষ্টি, অব্যবহৃত শিল্প প্লটের কার্যকর ব্যবহার এবং চলমান প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
রাজধানীর তেজগাঁওয়ে বিসিক ভবনের সম্মেলন কক্ষে গতকাল ‘বিসিক বর্ষা মেলা ২০২৬’-এর উদ্বোধন ও বিসিক শিল্পনগরী কর্মকর্তা সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক) আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংস্থাটির চেয়ারম্যান মো. সাইফুল ইসলাম। এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব আব্দুন নাসের খান।
দেশের সিএমএসএমই খাতের চিত্র তুলে ধরে শিল্পমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমানে এ খাত সম্মিলিতভাবে দেশের মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) প্রায় ৩৪ শতাংশ অবদান রাখছে। এছাড়া বিসিকের ৮৪টি শিল্প পার্ক থেকে বছরে প্রায় ৬৫ হাজার কোটি টাকা জাতীয় অর্থনীতিতে যুক্ত হচ্ছে এবং এসব শিল্প পার্ক থেকে প্রায় ৩০০ কোটি টাকার পণ্য রফতানি হচ্ছে।’
তবে এ অর্জন সন্তোষজনক নয় বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের সমমানের অর্থনীতির দেশ—ভিয়েতনাম ও কম্বোডিয়ায় সিএমএসএমই খাতের অবদান ৫০ শতাংশেরও বেশি। কোথাও কোথাও ৫৮ থেকে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছেছে। বাংলাদেশকেও সেই অবস্থানে নিয়ে যেতে হবে।’
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, ‘সিএমএসএমই খাত যত বিস্তৃত হবে, ততই আয়বৈষম্য কমবে এবং দেশের বৃহত্তর জনগোষ্ঠী উৎপাদন ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের মূল ধারায় যুক্ত হওয়ার সুযোগ পাবে।’
শিল্পমন্ত্রী আরো বলেন, ‘আগামীতে দেশের অর্থনীতিতে সিএমএসএমই খাতের অংশীদারত্ব অন্তত ৬০ শতাংশে উন্নীত করাই সরকারের লক্ষ্য। এজন্য শিল্প খাতের সম্প্রসারণে পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ নেয়া হবে।’ লক্ষ্য অর্জনে বিসিকের মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের আগামী সাতদিনের মধ্যে নিজ নিজ এলাকার শিল্প সম্ভাবনা ও প্রয়োজনীয় উদ্যোগ সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব পাঠানোর নির্দেশ দেন তিনি। এসব প্রস্তাবের ভিত্তিতে জেলা ও শিল্প পার্কভিত্তিক সম্ভাবনা মূল্যায়ন করে পরবর্তী কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে। বিশেষ করে কৃষি প্রক্রিয়াকরণ ও লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্পের সম্ভাবনাময় এলাকাগুলোয় নতুন উদ্যোক্তা তৈরির উদ্যোগ জোরদার করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় তথ্য ও সুপারিশ দ্রুত পাঠানোর আহ্বান জানান মন্ত্রী।
অনুষ্ঠানে বিসিক চেয়ারম্যান মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘বিসিক শুধু একটি প্রতিষ্ঠান নয়, এটি দেশের শিল্পায়নের বাস্তব রূপ। ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের উন্নয়নের মাধ্যমেই একটি সুখী, সমৃদ্ধ ও শিল্পসমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারব বলেই আমাদের দৃঢ়বিশ্বাস।’
বর্ষার আবহ, বাংলার ঐতিহ্য এবং দেশীয় ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের বৈচিত্র্য তুলে ধরতে আয়োজিত বিসিক বর্ষা মেলায় হস্তশিল্প, চামড়াজাত পণ্য, জামদানি, শতরঞ্জি, মণিপুরি শাড়ি, নকশিকাঁথা, পাটজাত পণ্য, বাঁশ ও বেতজাত পণ্য, মধুসহ বিভিন্ন ক্যাটাগরির ৫৬টি স্টল অংশ নিয়েছে। তেজগাঁও শিল্প এলাকায় বিসিক ভবনের নিচতলায় ৯ জুলাই পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত মেলাটি সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে।
মেলায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ক্ষুদ্র, কুটির ও হস্তশিল্প উদ্যোক্তারা তাদের উৎপাদিত ঐতিহ্যবাহী ও মানসম্পন্ন পণ্য প্রদর্শন এবং বিক্রির সুযোগ পাচ্ছেন। আয়োজক সংস্থা বিসিক জানিয়েছে, দেশীয় শিল্প, সৃজনশীলতা এবং ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করতেই এ মেলার আয়োজন করা হয়েছে।


