শিরোনাম

South east bank ad

রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এলেও বিনিয়োগকারীরা আস্থা ফিরে পাননি

 প্রকাশ: ০৫ জুন ২০২৬, ১২:০০ পূর্বাহ্ন   |   কর্পোরেট

রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এলেও বিনিয়োগকারীরা আস্থা ফিরে পাননি

জুলাই অভ্যুত্থান-পরবর্তী নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নেয়া পর রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরলেও বিনিয়োগকারী ও উদ্যোক্তাদের আস্থা এখনো ফিরে আসেনি বলে মন্তব্য করেছেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিড) সম্মাননীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান।

তিনি বলেন, ‘বিনিয়োগ স্থবিরতার পেছনে দুটি উপাদন ছিল। একটি রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা, আরেকটি অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা। বর্তমানে রাজনৈতিক নিশ্চয়তাটা এসেছে। একটা নির্বাচিত সরকার ক্ষমতা গ্রহণ করেছেন। কিন্তু তার পরও বলতে হয় যে রাজনৈতিক যে নিশ্চয়তা আসছে তাতে করে বিনিয়োগকারী এবং উদ্যোক্তারা নিশ্চয়তা অনুভব করছেন না।’

গতকাল ঢাকায় সিপিডি কার্যালয়ে ‘২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ অর্থনীতি: উত্তরণকালীন সময়ে বহুমাত্রিক চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক এ সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকের এক প্রশ্নোত্তরে এসব কথা বলেন মোস্তাফিজুর রহমান।

সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো বলেন, ‘নতুন সরকার দুই মাস ক্ষমতায় আছেন। সুতরাং তাদের হয়তো আরেকটু সময় দিতে হবে। বিনিয়োগকারীরা অপেক্ষা করছেন যে বাজেটে কী ধরনের প্রস্তাব ও উদ্যোগের কথা উল্লেখ থাকবে। সংস্কার যেগুলো নেয়া দরকার সেগুলো সরকার কতটুকু নিচ্ছেন, কতটুকু নিচ্ছেন না সেটার জন্য অপেক্ষা করছেন।’

বাংলাদেশের পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের ১০ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের প্রস্তাবের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘শ্রমিকদের ওপর ভালোবাসার কারণে নয়, বরং রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক মারপ্যাঁচেই বাংলাদেশের ওপর বাড়তি ১০ শতাংশ শুল্কারোপের প্রস্তাব দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। যুক্তরাষ্ট্র তারা তাদের লেন্স দিয়ে অনেক সময় দেখার চেষ্টা করে। আমাদের দেশের বাস্তবতাকে অনেক সময় তারা হয়তো ঠিকভাবে নেয় না।’

সংবাদ সম্মেলনে সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, ‘এ মুহূর্তে দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান উদ্বেগের জায়গা হলো উচ্চ মূল্যস্ফীতি। তথ্যানুযায়ী, ২০২৬ সালের এপ্রিলে মূল্যস্ফীতির হার দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক শূন্য ৪ শতাংশে। মূলত জ্বালানি, পরিবহন ও বিভিন্ন সেবামূলক খাতের ব্যয়বৃদ্ধির কারণেই মূল্যস্ফীতি এ পর্যায়ে পৌঁছেছে। বাংলাদেশের অর্থনীতি বর্তমানে বহুমুখী চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। অভ্যন্তরীণ কাঠামোগত দুর্বলতার পাশাপাশি বৈশ্বিক অস্থিরতার কারণে দেশের অর্থনীতি এখনো ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।’

ব্রিফিংয়ে ফাহমিদা খাতুন উল্লেখ করেন, চলতি অর্থবছরের শেষ ভাগে এসে দেশের আর্থিক, সামাজিক ও উৎপাদনশীল খাতগুলো নানামুখী সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এ সংকটগুলো নতুন নয়, বরং কয়েক বছর ধরেই ধারাবাহিকভাবে দৃশ্যমান। বিশেষ করে উচ্চ মূল্যস্ফীতি, সরকারি অর্থায়ন এবং ব্যাংক খাতের চলমান অস্থিরতা ও চাপ থেকে এখনো পুরোপুরি উত্তরণ সম্ভব হয়নি।

জ্বালানি খরচের পাশাপাশি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার ব্যবস্থাপনায় ও সরবরাহ শৃঙ্খলের দুর্বলতাকেও মূল্যস্ফীতির আরেকটি বড় কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে সিপিডি। এ বিষয়ে ফাহমিদা খাতুন বলেন, ‘বাজারে মধ্যস্বত্বভোগীদের একাধিক স্তর থাকার কারণে প্রায়ই খুচরা পর্যায়ে পণ্যের দাম অনেক বেড়ে যায়। ফলে অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার এ সময়ে সাধারণ ভোক্তারা আরো বেশি অসহায় হয়ে পড়েন।’

BBS cable ad

কর্পোরেট এর আরও খবর: