ব্যাংক এশিয়ার কাছে ৫৮০ কোটি টাকায় ব্যবসা বিক্রি করছে ব্যাংক আলফালাহ্
পাকিস্তানের অন্যতম বৃহৎ বাণিজ্যিক ব্যাংক আলফালাহ্ লিমিটেডের বাংলাদেশের সম্পদ ও দায় কিনে নিচ্ছে ব্যাংক এশিয়া পিএলসি।
ব্যাংক আলফালাহ্র শেয়ারহোল্ডাররা বার্ষিক সাধারণ সভায় (এজিএম) এ বিষয়ে অনুমোদন দিয়েছেন। শেয়ারহোল্ডারদের এ অনুমোদনের বিষয়টি পাকিস্তান স্টক এক্সচেঞ্জকে (পিএসএক্স) অবহিত করেছে ব্যাংক আলফালাহ্।
তথ্যানুসারে, ব্যাংক আলফালাহ্র ৭৮তম এজিএমে ব্যাংকটির শেয়ারহোল্ডাররা ব্যাংক এশিয়ার কাছে ৫৮০ কোটি টাকায় (প্রায় ৪ কোটি ৭৫ লাখ ডলার) বাংলাদেশে থাকা পাকিস্তানের ব্যাংকটি সম্পদ ও দায় বিক্রির বিষয়টি অনুমোদন করেছেন। এজিএমের কার্যবিবরণী গত শুক্রবার পাকিস্তান স্টক এক্সচেঞ্জে জমা দেয়া হয়েছে। বিক্রয় মূল্য চূড়ান্ত করার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য আইন ও বিধি অনুযায়ী ব্যাংক আলফালাহ্র বাংলাদেশ কার্যক্রম ব্যাংক এশিয়ার সঙ্গে একীভূতকরণের সময় কিছু সমন্বয় করা হতে পারে। তবে পুরো প্রক্রিয়াটি স্টেট ব্যাংক অব পাকিস্তান, বাংলাদেশ ব্যাংক এবং পাকিস্তান ও বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট অন্যান্য নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদনের ওপর নির্ভরশীল।
এদিকে ব্যাংক আলফালাহ্ লিমিটেডের বাংলাদেশ কার্যক্রমের সম্পদ ও দায় অধিগ্রহণ স্কিমে বিনিয়োগকারীদের অনুমোদন নিতে আগামী ১২ এপ্রিল বেলা ১১টায় ডিজিটাল প্লাটফর্মে বিশেষ সাধারণ সভা (ইজিএম) আহ্বান করা হয়েছে। এর আগে ২০২৪ সালের ১৮ এপ্রিল অনুষ্ঠিত পর্ষদ সভায় ব্যাংক আলফালাহ্র বাংলাদেশ কার্যক্রমের সম্পদ ও দায় অধিগ্রহণের বিষয়ে নীতিগত অনুমোদন দিয়েছিল ব্যাংক এশিয়ার পর্ষদ। পাশাপাশি এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিগত অনুমোদন গ্রহণের জন্য ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষকে দায়িত্ব দিয়েছিল ব্যাংক এশিয়ার পর্ষদ।
আর্থিক প্রতিবেদন অনুসারে, সর্বশেষ সমাপ্ত ২০২৫ হিসাব বছরের প্রথম তিন প্রান্তিকে (জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর) ব্যাংক এশিয়ার শেয়ারপ্রতি সমন্বিত আয় (ইপিএস) হয়েছে ২ টাকা ৫৮ পয়সা, আগের হিসাব বছরের একই প্রান্তিকে যা ছিল ১ টাকা ৪৪ পয়সা। ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৫ শেষে ব্যাংকটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ২৯ টাকা ২৮ পয়সায়।
৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০২৪ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের ২০ শতাংশ লভ্যাংশ দিয়েছে ব্যাংকটি। এর মধ্যে ১০ শতাংশ নগদ ও ১০ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ। আলোচ্য হিসাব বছরে ব্যাংক এশিয়ার ইপিএস হয়েছে ২ টাকা ১৪ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ১ টাকা ৭৯ পয়সা ছিল। ৩১ ডিসেম্বর ২০২৪ শেষে ব্যাংকটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ২৭ টাকা ২৮ পয়সায়।
ব্যাংক এশিয়ার সর্বশেষ সার্ভিল্যান্স রেটিং দীর্ঘমেয়াদে ‘এএ প্লাস’ ও স্বল্পমেয়াদে ‘এসটি- ওয়ান’। ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০২৪ হিসাব বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন, ৩১ মার্চ ২০২৫ পর্যন্ত অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন এবং রেটিং ঘোষণার দিন পর্যন্ত প্রাসঙ্গিক অন্যান্য গুণগত ও পরিমাণগত তথ্যের ভিত্তিতে এ প্রত্যয়ন করেছে ক্রেডিট রেটিং ইনফরমেশন অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড (সিআরআইএসএল)।
১৯৯৯ সালে কার্যক্রম শুরু করা ব্যাংক এশিয়া পরবর্তী সময়ে ব্যাংক অব নোভা স্কটিয়া ও মুসলিম কমার্শিয়াল ব্যাংক লিমিটেডের (এমসিবি) বাংলাদেশ শাখাগুলো কিনে নেয়ার মাধ্যমে ব্যবসা সম্প্রসারণ করে। ২০০১ সালে ব্যাংকটি স্কটিয়া ব্যাংকের এ দেশীয় কার্যক্রমও অধিগ্রহণ করে।
২০০৪ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ব্যাংক এশিয়ার অনুমোদিত মূলধন ১ হাজার ৫০০ কোটি ও পরিশোধিত মূলধন ১ হাজার ২৮২ কোটি ৪৯ লাখ ৮০ হাজার টাকা। রিজার্ভে রয়েছে ১ হাজার ৮৯৮ কোটি ২৯ লাখ টাকা। মোট শেয়ার সংখ্যা ১২৮ কোটি ২৪ লাখ ৯৭ হাজার ৫৪৬। এর ৫০ দশমিক ৭০ শতাংশ রয়েছে উদ্যোক্তা পরিচালকদের কাছে। এছাড়া প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ৩৮ দশমিক ৯৩ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে বাকি ১০ দশমিক ৩৭ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) ব্যাংক এশিয়ার শেয়ার সর্বশেষ ২২ টাকা ১০ পয়সায় লেনদেন হয়েছে। গত এক বছরে শেয়ারটির দর ১৪ টাকা ৬০ থেকে ২৩ টাকা ৯০ পয়সার মধ্যে ওঠানামা করেছে।


