বেড়েছে নগদ টাকার চাহিদা
মানুষের হাতে নগদ টাকার চাহিদা বেড়েছে। মাত্র এক বছরের ব্যবধানে বাজারে এই নগদ টাকার প্রবাহ বেড়েছে প্রায় ১০ শতাংশ। অঙ্কের হিসাবে যেটা ২ লাখ টাকা ব্যাংক খাতের বাইরে চলে এসেছে। যার ফলে মূল্যস্ফীতির চাপ নিয়ন্ত্রণে আনা যাচ্ছে না।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র (নির্বাহী পরিচালক) আরিফ হোসেন খান এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘ব্যাংকের বাইরে টাকার প্রবাহ কেন বেড়েছে, এটা এভাবে মুখস্থ বলা কঠিন। তবে ব্যাংক খাতের আস্থার সংকট কিছুটা তো ছিল। একই সঙ্গে মূল্যস্ফীতি বেড়ে যাওয়াও এটার একটা কারণ। এদিকে মধ্যপ্রাচ্যসংকটের প্রভাব আমাদের ওপর এখনো সেভাবে পড়েনি।
গত ৮ মার্চ বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত ‘উইকলি ইকোনমিক ইনডিকেটরস’ শীর্ষক প্রতিবেদন অনুযায়ী এক বছরের ব্যবধানে মানুষের হাতে টাকার প্রবাহ বেড়েছে ২ লাখ কোটির বেশি। ওই প্রতিবেদনের তথ্যমতে জানুয়ারি ২০২৫-এর চেয়ে জানুয়ারি ২০২৬-এর নগদ টাকার চাহিদা বেড়েছে ৯ দশমিক ৪৬ শতাংশ। অর্থাৎ আগের (২০২৫ জানুয়ারি) বছরের জানুয়ারিতে বাজারে নগদ টাকার প্রবাহ ছিল ২০ লাখ ৫৬ হাজার কোটি টাকা। সেটা চলতি (২০২৬) বছরের জানুয়ারিতে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২২ লাখ ৫০ হাজার কোটিতে। এ সময়ের ব্যবধানে কমেছে টাকার মূল্যমানও। কিন্তু মানুষের হাতে টাকার প্রবাহ বাড়ায় নিয়ন্ত্রণে আসছে না মূল্যস্ফীতি। যদিও এক বছরের ব্যবধানে ডলারের বিপরীতে টাকার মূল্যমান খুব একটা কমেনি। জানুয়ারি ২০২৫-এর চেয়ে জানুয়ারি ২০২৬-এর ডলারের বিপরীতে টাকার মান কমেছে শূন্য দশমিক ৪৫ শতাংশ। তবে আগের বছর অর্থাৎ ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের জানুয়ারি সময়ে ডলারের বিপরীতে টাকার মান কমেছে ১২ শতাংশ। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যমতে ২০২৪ সালের শুরুতে প্রতি ডলার ছিল ১১০ টাকা। সেটা ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে দাঁড়ায় ১২২ টাকায়। এবং পরের বছর (২০২৬) জানুয়ারিতে সেটা দাঁড়ায় ১২২ দশমিক ৫৬ টাকায়।
বিশ্বব্যাংক ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলছেন, ‘টাকার প্রবাহ বেড়ে গেলে মূল্যস্ফীতি বাড়ে, যা মানুষের সার্বিক জীবনযাত্রায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। চলমান ইরান-ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধের কারণে সামনের দিনে এ পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। যদি অল্প কয়েক দিনের মধ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হয় তবে জ্বালানি খাতে এর ব্যাপক প্রভাব পড়বে। যার ফলে সব ধরনের জিনিসপত্রের দাম বাড়বে। বাধাগ্রস্ত হবে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানে।’
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মুদ্রাস্ফীতি ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণেই মানুষের হাতে টাকার প্রবাহ বাড়ে। অর্থাৎ জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে গেলে বা ব্যাংক খাতে আস্থা কমে গেলে মানুষ প্রয়োজনে কিংবা কম প্রয়োজনে ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলন করে। এতে মানুষের মধ্যে খরচের প্রবণতাও বাড়ে। আবার কখনো কখনো জিনিসপত্রের দাম বেড়ে গেলে বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত অর্থ গুনতে হয়; তখন মানুষের হাতে টাকার প্রবাহ বাড়ে। কিন্তু এ সত্ত্বেও মানুষের সংকট কমে না।


