লাফার্জহোলসিমের নিট মুনাফা বেড়েছে ৩৪%
সিমেন্ট খাতের বহুজাতিক কোম্পানি লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশ পিএলসি সর্বশেষ ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০২৫ হিসাব বছরে নিট মুনাফা বেড়েছে ৩৪ শতাংশ।
আলোচ্য হিসাব বছরে কোম্পানিটি বিনিয়োগকারীদের জন্য মোট ৪০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। এর মধ্যে ১৮ শতাংশ অন্তর্বর্তী নগদ লভ্যাংশ ছিল। কোম্পানিটির আর্থিক প্রতিবেদন সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
প্রতিবেদন অনুসারে, সমাপ্ত ২০২৫ হিসাব বছরে লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশের মোট বিক্রি হয়েছে ২ হাজার ৯৩১ কোটি টাকা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ২ হাজার ৭৫৪ কোটি টাকা। আলোচ্য হিসাব বছরে কোম্পানিটির কর-পরবর্তী নিট মুনাফা হয়েছে ৫১০ কোটি ৮০ লাখ টাকা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ৩৮১ কোটি ৯০ লাখ টাকা।
সমাপ্ত ২০২৫ হিসাব বছরে লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশের শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ৪ টাকা ৪০ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ৩ টাকা ২৯ পয়সা।
আর্থিক ফলাফলের বিষয়ে লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ইকবাল চৌধুরী বলেন, ‘গত বছর সরকারি বিনিয়োগে মন্দা ও বেসরকারি ঋণ প্রবৃদ্ধি কমে যাওয়ায় গত বছর নির্মাণ শিল্প চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছিল। তবু লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশ সন্তোষজনক ফলাফল অর্জন করেছে। সিমেন্ট ও অ্যাগ্রিগেটস—উভয় খাতে বিক্রি বেড়েছে এবং ‘হোলসিম ওয়াটার প্রোটেক্ট’ ও ‘সুপারক্রিট প্লাস’-এর মতো উদ্ভাবনী পণ্যে প্রবৃদ্ধি এসেছে। ‘জিওসাইকেল’ পদ্ধতিতে ২০২৫ সালে ৪৫ হাজার টনের বেশি বর্জ্য কো-প্রসেস করে প্রায় ১১ শতাংশ জীবাশ্ম জ্বালানি সাশ্রয় করা হয়েছে। তবে জ্বালানি ব্যয় বৃদ্ধি ও বাজার অস্থিরতার চাপ ব্যয় সংকোচন ও কৌশলগত মূল্য নির্ধারণের মাধ্যমে মোকাবেলা করা হয়েছে।’
৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০২৪ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের মোট ৩৮ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে কোম্পানিটি। এর মধ্যে ১৯ শতাংশ চূড়ান্ত নগদ ও ১৯ শতাংশ অন্তর্বর্তী নগদ লভ্যাংশ। আলোচ্য হিসাব বছরে লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশের ইপিএস হয়েছে ৩ টাকা ২৯ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ৫ টাকা ১২ পয়সা। ৩১ ডিসেম্বর ২০২৪ শেষে কোম্পানিটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ১৬ টাকা ১ পয়সায়।
৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০২৩ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের ৫০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে কোম্পানিটি। আলোচ্য হিসাব বছরে লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশের ইপিএস হয়েছে ৫ টাকা ১২ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ৩ টাকা ৮৩ পয়সা। ৩১ ডিসেম্বর ২০২৩ শেষে কোম্পানিটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ১৯ টাকা ১৪ পয়সায়।
৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০২২ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের ৪৮ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে কোম্পানিটি। আলোচ্য হিসাব বছরে লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশের ইপিএস হয়েছে ৩ টাকা ৮৩ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ৩ টাকা ৩৪ পয়সা। ৩১ ডিসেম্বর ২০২২ শেষে কোম্পানিটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ১৫ টাকা ২৫ পয়সায়।
লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশের সর্বশেষ ঋণমান দীর্ঘমেয়াদে ‘এএএ’ ও স্বল্পমেয়াদে ‘এসটি-১’। ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০২৪ হিসাব বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন এবং রেটিং ঘোষণার দিন পর্যন্ত প্রাসঙ্গিক অন্যান্য পরিমাণগত ও গুণগত তথ্যের ভিত্তিতে এ প্রত্যয়ন করেছে ক্রেডিট রেটিং ইনফরমেশন অ্যান্ড সার্ভিসেস পিএলসি (সিআরআইএসএল)।
সুইজারল্যান্ডভিত্তিক হোলসিম গ্রুপ ও স্পেনভিত্তিক সিমেন্টোস মলিন্স গ্রুপের যৌথ উদ্যোগ লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশ পিএলসি দেশের পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয় ২০০৩ সালে। বর্তমানে কোম্পানিটির অনুমোদিত মূলধন ১ হাজার ৪০০ কোটি ও পরিশোধিত মূলধন ১ হাজার ১৬১ কোটি ৩৭ লাখ টাকা। রিজার্ভে রয়েছে ৬৯৭ কোটি ৮৬ লাখ টাকা। মোট শেয়ার সংখ্যা ১১৬ কোটি ১৩ লাখ ৭৩ হাজার ৫০০।
এর ৬৩ দশমিক ৩৯ শতাংশ রয়েছে উদ্যোক্তা পরিচালকদের কাছে। এছাড়া প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ২২ দশমিক শূন্য ৯, বিদেশী বিনিয়োগকারী দশমিক ৮০ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে বাকি ১৩ দশমিক ৭২ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।


