শিরোনাম

South east bank ad

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সার্ভার বন্ধ হয়ে লেনদেন বিঘ্ন

 প্রকাশ: ০৭ ডিসেম্বর ২০২৫, ১২:০০ পূর্বাহ্ন   |   ব্যাংক

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সার্ভার বন্ধ হয়ে লেনদেন বিঘ্ন


কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সার্ভার রুমে বিদ্যুৎ না থাকায় গত বৃহস্পতিবার আন্তঃব্যাংক লেনদেন নিষ্পত্তিতে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটে। বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার পর স্বয়ংক্রিয়ভাবে জেনারেটর চালু হয়নি। ফলে পুরো সার্ভার সিস্টেম বন্ধ হয়ে লেনদেন নিষ্পত্তি আটকে যায়। সপ্তাহের শেষ দিনের লেনদেন নিষ্পত্তি না করতে পেরে বিড়ম্বনায় পড়ে অনেক ব্যাংক। এরই মধ্যে সব ঠিক করা সম্ভব হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।


জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার সকালের দিকে সার্ভার রুমের বিদ্যুৎ চলে যায়। নিয়ম অনুযায়ী স্বয়ংক্রিয়ভাবে জেনারেটর চালু হওয়ার কথা। জেনারেটর চালু হওয়ার আগ পর্যন্ত সর্বোচ্চ ১৫ মিনিটের জন্য ‘আইপিএস ব্যাকআপ’ থাকে। তবে গত বৃহস্পতিবার নির্ধারিত সময় পার হলেও কারিগরি ত্রুটির কারণে জেনারেটর চালু হয়নি। সার্ভার রুম বিদ্যুৎহীন হওয়ার কারণে পুরো সিস্টেম বন্ধ হয়ে যায়। ওই দিন গভীর রাত পর্যন্ত আন্তঃলেনদেন নিষ্পত্তি হয়নি। এ নিয়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে যে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সার্ভার আবার হ্যাকার আক্রমণ করেছে। যদিও তা সঠিক নয় বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। এরই মধ্যে সার্ভার আবার আগের অবস্থায় এসেছে।


বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান বলেন, বৈদ্যুতিক সমস্যার কারণে পুরো সিস্টেম ‘শাটডাউন’ হয়ে যাওয়ায় বৃহস্পতিবার লেনদেনে কিছু সমস্যা হয়। এরই মধ্যে সিস্টেম চালু হয়েছে। সব ঠিক করা হয়েছে। আশা করা যায় রোববার থেকে সব লেনদেন যথাযথভাবে নিষ্পত্তি হবে।


বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্ভার ব্যবহার করে বর্তমানে চার ধরনের আন্তঃব্যাংকে লেনদেন নিষ্পত্তি হয়। এসব সিস্টেম হলো– রিয়েলটাইম গ্রস সেটেলমেন্ট (আরটিজিএস), বাংলাদেশ অটোমেটেড চেক ক্লিয়ারিং হাউস (বিএসিএইচ), ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার নেটওয়ার্ক (ইএফটিএন) এবং ন্যাশনাল পেমেন্ট সুইচ বাংলাদেশ (এনপিএসবি)। সম্প্রতি এনপিএসবির আওতায় এমএফএস, ব্যাংকসহ অন্য ডিজিটাল মাধ্যমে ‘ইন্টারঅপারেবল সিস্টেম’ চালু হয়েছে। গত সেপ্টেম্বর মাসে এসব ব্যবস্থায় মোট লেনদেনের পরিমাণ ছিল আট লাখ ৫৮ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে শুধু আরটিজিএসেই নিষ্পত্তি হয়েছে ছয় লাখ ২৫ হাজার কোটি টাকা। যে কারণে এ ব্যবস্থায় কোনো ক্রটি হলে লেনদেনে বড় সংকট তৈরি হয়। গত বৃহস্পতিবার মধ্যরাত পর্যন্ত এ ব্যবস্থায় কোনো লেনদেন নিষ্পত্তি হয়নি। অবশ্য বিদ্যুৎহীন হওয়ার আগ পর্যন্ত অপেক্ষমাণ লেনদেন  নিষ্পত্তি হয়ে গেছে।


জানা গেছে, সার্ভারের ক্রটি মেরামতের জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পেমেন্ট সিস্টেম ও আইটি বিভাগের কর্মকর্তারা সাপ্তাহিক ছুটির দুদিন গত শুক্র ও শনিবার মধ্যরাত পর্যন্ত অফিস করেছেন। তবে এই দুদিনে নতুন কোনো লেনদেনের আদেশ না পাওয়ায় পুরো সিস্টেম ঠিক হয়েছে কিনা নিশ্চিত করে তারা বুঝতে পারছে না। আজ রোববার নতুন আদেশ পাওয়ার পর সব স্বাভাবিক হয়েছে কিনা বোঝা যাবে। স্বাভাবিকভাবে লেনদেন নিষ্পত্তি করা যাবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন। 


বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা বলেন, এ সমস্যার কারণে কারও অর্থ খোয়া যাওয়ার ঘটনা ঘটবে না। এ ধরনের সিস্টেম শাটডাউনের প্রয়োজন হলে সাধারণভাবে সব কিছু বন্ধ রাখা কিংবা বিকল্প সার্ভারে লেনদেন করতে হয়। তবে আকস্মিক ঘটনার কারণে সমস্যা হয়েছে। আর্থিক ক্ষতি না হলেও গত বৃহস্পতিবার পরিশোধ নিষ্পত্তির শেষ তারিখ ছিল– এমন লেনদেন না হওয়ায় কোনো কোনো ক্ষেত্রে জরিমানার মধ্যে পড়তে হতে পারে।


বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্ভার ক্রটির কারণে বিভিন্ন সময়ে লেনদেন বাধাগ্রস্ত হলেও বিদ্যুৎহীন হওয়ার ঘটনা সাম্প্রতিক সময়ে ঘটেনি। এর আগে ২০২১ সালের এপ্রিলে একবার বিটিসিএলের লাইন কাটা পড়লে কয়েক দিন আন্তঃলেনদেন ত্রুটি দেখা দেয়। এ ছাড়া ২০২৩ সালে দুদফা সার্ভার ত্রুটির কারণে আংশিক লেনদেন বন্ধ ছিল।

BBS cable ad

ব্যাংক এর আরও খবর: