১ বছরে ওয়ালটনের ১,১২৪ কোটি টাকা নিট মুনাফা
পুঁজিবাজারে প্রকৌশল খাতে তালিকাভুক্ত দেশের শীর্ষ ইলেকট্রনিকস, ইলেকট্রিক্যাল ও প্রযুক্তিপণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসি সর্বশেষ সমাপ্ত ২০২৫-২৬ হিসাব বছরে আর্থিক সক্ষমতা ও পরিচালন দক্ষতায় ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে।
আলোচ্য হিসাব বছরে কোম্পানিটির ১ হাজার ১২৪ কোটি ৫৭ লাখ টাকার কর-পরবর্তী নিট মুনাফা হয়েছে, যেখানে আগের হিসাব বছরে নিট মুনাফা ছিল ১ হাজার ৩৬ কোটি ৬১ লাখ টাকা। সর্বশেষ সমাপ্ত হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের জন্য ১৮০ শতাংশ নগদ ও ১০ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ সুপারিশ করেছে কোম্পানিটির পর্ষদ। গতকাল অনুষ্ঠিত সভায় ৩০ জুন ২০২৬ সমাপ্ত হিসাব বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণী অনুমোদনের পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের জন্য লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজের পর্ষদ।
নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুসারে, ২০২৫-২৬ হিসাব বছরে ওয়ালটনের শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৩ টাকা ৭৫ পয়সা, যা আগের হিসাব বছরে ছিল ৩১ টাকা ১১ পয়সা। কোম্পানির ইপিএস বৃদ্ধির পেছনে নিট আয় গত বছরের চেয়ে ৩২২ কোটি ৫৬ লাখ টাকা বা ৪ দশমিক ৫৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি এবং আর্থিক ব্যয় ২৬৭ কোটি ২৬ লাখ টাকা হ্রাস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। আগের হিসাব বছরে আর্থিক ব্যয় ছিল ৪৪৮ কোটি ৪০ লাখ টাকা, যা কোম্পানির বিক্রির ৬ দশমিক ৩৩ শতাংশ, ২০২৫-২৬ হিসাব বছরে তা কমে বিক্রির ২ দশমিক ৪৫ শতাংশে নেমে এসেছে। একই সময়ে কোম্পানির শেয়ারপ্রতি নিট পরিচালন নগদ প্রবাহ (এনওসিএফপিএস) উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে ৬৩ টাকা ৭২ পয়সায় উন্নীত হয়েছে, যা আগের হিসাব বছরে ছিল ৫২ টাকা ৯১ পয়সা। নগদ প্রবাহ বৃদ্ধির পেছনে গ্রাহকদের কাছ থেকে সংগ্রহ করা অর্থের পরিমাণ ৬৯৪ কোটি ৩৬ লাখ টাকা বা ৮ দশমিক ৮৪ শতাংশ বৃদ্ধির পাশাপাশি সরবরাহকারীদের পরিশোধ করা অর্থের পরিমাণ ২ দশমিক ৩১ শতাংশ হ্রাস পাওয়াকে মূল কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে কোম্পানিটি।
২০২৫-২৬ হিসাব বছরে পুনর্মূল্যায়নসহ ওয়ালটনের মোট নিট সম্পদ মূল্য (এনএভি) দাঁড়িয়েছে প্রায় ১২ হাজার ৭০৪ কোটি টাকা, যা আগের অর্থবছরে ছিল প্রায় ১২ হাজার ১০৯ কোটি টাকা। পুনর্মূল্যায়নসহ শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদ মূল্য (এনএভিপিএস) বেড়ে হয়েছে ৩৮১ টাকা ২৬ পয়সা, যা আগের বছর ছিল ৩৬৩ টাকা ৪০ পয়সা।
প্রস্তাবিত ১০ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ কোম্পানির চলমান গ্রিন এনার্জি সক্ষমতা সম্প্রসারণ, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিতকরণ এবং অন্যান্য আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণমূলক কার্যক্রমে অর্থায়নের লক্ষ্যে সুপারিশ করা হয়েছে। এ স্টক লভ্যাংশ সম্পূর্ণভাবে রিটেইনড আর্নিংস থেকে প্রদান করা হবে।
ওয়ালটনের কর্মকর্তারা জানান, বিভিন্ন খাতে পরিচালন ব্যয় নিয়ন্ত্রণ করার পাশাপাশি দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে ব্যবসা সম্প্রসারণের মাধ্যমে পণ্য বিক্রির স্বাভাবিক ধারা বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছে কোম্পানি। ফলে নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও গত হিসাব বছরে কোম্পানির মুনাফা হয়েছে ১ হাজার ১২৪ কোটি ৫৭ লাখ টাকা। ভবিষ্যতেও মুনাফা অর্জনের ক্ষেত্রে আরো সফলতার দিকে এগিয়ে যাবে বলে দৃঢ় আশাবাদী ওয়ালটন কর্তৃপক্ষ।


