রেকর্ড ৪৯৬৭ ডলারে পৌঁছেছে স্বর্ণের দাম
ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক বাজারে বেড়েই চলেছে মূল্যবান ধাতুগুলোর বাজারদর। গতকালই আউন্সপ্রতি ৪ হাজার ৯০০ ডলার ছাঁড়িয়েছে স্বর্ণের দাম। একই সঙ্গে রুপা ও প্লাটিনামের মূল্যও ঊর্ধ্বমুখী হয়ে রেকর্ড সর্বোচ্চে পৌঁছেছে। খবর রয়টার্স।
স্পট মার্কেটে গতকাল বেচাকেনার শুরুতে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম পৌঁছে রেকর্ড ৪ হাজার ৯৬৭ ডলার ৩ সেন্টে। পরে তা বিক্রি হচ্ছিল প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৯১৭ ডলার ৩৭ সেন্টে। এ সময় যুক্তরাষ্ট্রের ফিউচার মার্কেটে ফেব্রুয়ারির সরবরাহ চুক্তিতে আউন্সপ্রতি স্বর্ণের দাম দাঁড়ায় ৪ হাজার ৯২১ ডলার ৭০ সেন্টে, যা আগের দিনের তুলনায় দশমিক ২ শতাংশ বেশি।
বিশ্ববাজারে ২০২৬ সালে এক মাসেরও কম সময়ে স্বর্ণের দাম বেড়েছে প্রায় ১৪ শতাংশ। অনলাইন ট্রেডিং প্রতিষ্ঠান ক্যাপিটালডটকমের সিনিয়র মার্কেট অ্যানালিস্ট কাইল রডা বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ও তার আর্থিক সম্পদের ওপর বিনিয়োগকারীদের আস্থা উল্লেখযোগ্য মাত্রায় কমে আসছে, যা সাময়িক নয় বরং দীর্ঘমেয়াদি রূপ নেয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। এ আস্থাহীনতার ফলে বিনিয়োগের অর্থ নিরাপদ বিকল্প হিসেবে স্বর্ণসহ অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দিকে সরে যাচ্ছে। পরিস্থিতির গভীরতা বোঝাতে অনেকেই ‘রাপচার’ বা বড় ধরনের ভাঙনের কথা বলছেন, যা বাস্তবতার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ।’
ডলারের বিনিময় হার গতকাল দুই সপ্তাহের বেশি সময়ের সর্বনিম্নের কাছাকাছি পৌঁছেছে। ফলে অন্যান্য মুদ্রা ব্যবহারকারী দেশগুলোর জন্য তুলনামূলক সস্তা হয়ে উঠেছে স্বর্ণের দাম। এতে চাহিদা বাড়ার কারণে প্রভাব পড়েছে মূল্যবান ধাতুটির বাজারদরে।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউরোপীয় ইউনিয়নের ওপর নতুন শুল্ক আরোপের হুমকি দেয়ায় ওয়াল স্ট্রিটের প্রধান সূচকগুলোয় তীব্র পতন দেখা গেলেও পরে তা কিছুটা পুনরুদ্ধার হয়। গত বৃহস্পতিবার রাতে ব্রাসেলসে জরুরি বৈঠকে মিলিত হয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নেতারা গ্রিনল্যান্ড বিষয়ে ট্রাম্পের অবস্থান পরিবর্তনে স্বস্তি প্রকাশ করেন। তবে ভবিষ্যতে নতুন করে হুমকি এলে পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত থাকার সতর্কবার্তাও দেন তারা।
অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানান, ন্যাটোর সঙ্গে এক চুক্তির মাধ্যমে তিনি গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের ‘সম্পূর্ণ ও স্থায়ী প্রবেশাধিকার’ নিশ্চিত করেছেন। তবে চুক্তির বিস্তারিত এখনো স্পষ্ট নয়।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, স্বর্ণের দামের রেকর্ড বাড়ার পেছনে বিশ্বের কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর ঊর্ধ্বমুখী ক্রয় ও বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার বিরুদ্ধে সুরক্ষা হিসেবে ইটিএফে বিনিয়োগপ্রবাহ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ২০২৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের সুদহার কমানোর প্রত্যাশা।
রুপার বাজারেও শক্তিশালী ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে। স্পট মার্কেটে গতকাল ধাতুটির বাজারদর দাঁড়িয়েছে আউন্সপ্রতি ৯৭ ডলার ৮৫ সেন্টে, যা আগের দিনের তুলনায় ১ দশমিক ৭ শতাংশ বেশি। এদিন বেচাকেনার এক পর্যায়ে প্রতি আউন্স রুপার দাম রেকর্ড ৯৯ ডলার ৩৪ সেন্টে পৌঁছেছিল। ২০২৬ সালে এখন পর্যন্ত রুপার দাম বেড়েছে ৩৭ শতাংশ।
অন্যদিকে স্পট মার্কেটে প্লাটিনামের দাম গতকাল বেচাকেনার শুরুতে রেকর্ড ২ হাজার ৬৮৪ ডলার ৪৩ সেন্টে পৌঁছায়। পরবর্তী সময়ে দশমিক ৩ শতাংশ কমে আউন্সপ্রতি ২ হাজার ৬২২ ডলার ৮০ সেন্টে নেমে আসে। চলতি বছরজুড়ে প্লাটিনামের দাম বেড়েছে ২৭ শতাংশ। একই সময় প্যালাডিয়ামের দাম ১ দশমিক ৮ শতাংশ কমে আউন্সপ্রতি দাঁড়ায় ১ হাজার ৮৮৫ ডলার ৭৫ সেন্টে।


