নবনির্বাচিত ইউপি সদস্যকে হত্যার কথা স্বীকার আরিফের
আমিনুল ইসলাম জুয়েল, (রংপুর) :
গাইবান্ধার লক্ষ্মীপুর ইউনিয়নের নবনির্বাচিত ইউপি সদস্য আব্দুর রউফ মাস্টার হত্যা মামলার প্রধান আসামি আরিফ মিয়াকে (৩৩) গ্রেফতার করেছে র্যাব-১৩। এ সময় তার কাছ থেকে দেশীয় অস্ত্রসহ ২টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নবনির্বাচিত ইউপি সদস্য আব্দুর রউফকে হত্যার ঘটনায় তার সংশ্লিষ্টতার কথা স্বীকার করেছে আরিফ মিয়া।
রোববার (১৪ নভেম্বর) দুপুরে র্যাব-১৩ এর রংপুর ব্যাটালিয়ন সদর দপ্তরে এক সংবাদ সম্মেলনে অধিনায়ক রেজা আহমেদ ফেরদৌস সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান। এর আগে শনিবার রাতে র্যাব-১৩ এর একটি আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার পাঁচপীর এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
রেজা আহমেদ ফেরদৌস জানান, শুক্রবার (১২ নভেম্বর) রাত সাড়ে ১০টার নবনির্বাচিত ইউপি সদস্য আব্দুর রউফ তার বন্ধুর সাথে মোটরসাইকেল যোগে হাটলক্ষ্মীপুর বাজার থেকে বাড়ি যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে রাস্তার মাঝে নির্মাণাধীন ব্রীজে উঠার সময় আব্দুর রউফ মোটরসাইকেল থেকে নেমে যান এবং তার বন্ধু মোটরসাইকেল নিয়ে ব্রীজটি পার হয়ে যান। এ সময় আব্দুর রউফ ব্রীজে উঠার পর আগে থেকে ওঁৎ পেতে আরিফ মিয়া এবং তার সঙ্গীরা পথরোধ করেন। পরে তাদের হাতে থাকা দেশীয় অস্ত্র দিয়ে অতর্কিতভাবে আব্দুর রউফকে আঘাত করেন।
এ সময় আব্দুর রউফের চিৎকারে তার বন্ধুসহ আশপাশের লোকজন ছুটে এলে আরিফসহ হামলাকারীরা সেখান থেকে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় আব্দুর রউফকে উদ্ধার করে গাইবান্ধা সদর হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় শনিবার নিহতের বড় বোন মমতাজ বেগম বাদী হয়ে আরিফ মিয়াকে প্রধান এবং অজ্ঞাত পরিচয়ের আরও ৬-৭ জনকে আসামি করে গাইবান্ধা সদর থানায় মামলা দায়ের করেন। ঘটনার পর থেকে পলাতক ছিলেন আরিফ মিয়া।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, নবনির্বাচিত ইউপি সদস্য আব্দুর রউফ হত্যার ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। এরই প্রেক্ষিতে র্যাব ওই ঘটনায় ছায়াতদন্ত শুরু করে ও জড়িতদের গ্রেফতারে গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করে। এরই ধারাবাহিকতায় শনিবার রাতে র্যাব-১৩ এর একটি আভিযানিক দল আরিফ মিয়াকে গ্রেফতার করে। সে গাইবান্ধা সদর উপজেলার হাট লক্ষ্মীপুর গ্রামের ছাইপার রহমানের ছেলে। রোববার বিকেলে গ্রেফতারকৃত আরিফ মিয়াকে গাইবান্ধা সদর থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়।


