শিরোনাম

South east bank ad

দুর্নীতির অভিযোগে নেসকো কার্যালয়ে দুদকের অভিযান

 প্রকাশ: ০২ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১২:০০ পূর্বাহ্ন   |   অটোমোবাইল

আমজাদ হোসেন শিমুল, (রাজশাহী ব্যুরো) :

নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানী (নেসকো) লিমিটেডের রাজশাহী আঞ্চলিক কার্যালয়ের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ অভিযান চালিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদক। গত বুধবার (০১ সেপ্টেম্বর) দুদকের সমন্বিত রাজশাহী জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. আল-আমিন, উপ-সহকারী পরিচালক সদীপ কুমার চৌধুরী ও সহকারী পরিদর্শক মাহবুবুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত একটি দল এ অভিযান চালায়। এসময় তাঁরা বিভিন্ন নথিপত্র দেখতে চাইলে নেসকো কর্মকর্তারা তা দেখাতে পারেননি। দুদক টিম বৃহস্পতিবারের (০২ সেপ্টেম্বর) মধ্যে বিভিন্ন নথিপত্র সরবরাহ করার জন্য নির্দেশনা দিয়ে আসলেও এই সময়ের মধ্যে নেসকো কর্মকর্তারা নথি না দিয়ে সময় চেয়েছেন।

দুদকের সার্টিফাইড ফেসবুক পেজে বুধবার রাতে দেওয়া এক পোস্টে বলা হয়- নেসকোর রাজশাহীর ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) জাকিউল ইসলামসহ বেশ কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং ঠিকাদারের যোগসাজশে বিভিন্ন প্রকল্পে কাজ না করে বিল উত্তোলন, বিদ্যুৎ খাতে বরাদ্দের কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ এবং দুর্নীতির মাধ্যমে সরকারি অর্থ লুটপাটের মাধ্যমে কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হয়।

দুদক কর্মকর্তারা নেসকোর রাজশাহী অফিস সরেজমিনে গিয়ে নির্বাহী পরিচালক আবদুল আজিজ ও নির্বাহী পরিচালক সৈয়দ গোলাম আহম্মেদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। এ সময় তাঁদের কাছে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে লাইট লাগানোসহ অন্যান্য কাজের টেন্ডার সংক্রান্ত সকল রেকর্ডপত্র দেখতে চান। তবে নেসকো কর্মকর্তারা তাৎক্ষণিক তা সরবরাহ করতে পারেননি।

ফলে টিম দুদক কর্মকর্তারা এসব নথিপত্র ছাড়াও অফিসের ডিজিটাল হাজিরার রেকর্ড, এমডির গত ১৪ মাসের টিএ/ডিএ সংক্রান্ত বিলের সকল রেকর্ডপত্রের ফটোকপি, ঢাকা লিয়াজো অফিস ও রেস্ট হাউসের ভাড়াসহ গত এক বছরের তথ্য, ২০২০ সালে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির পদে নিয়োগ সংক্রান্ত সকল রেকর্ডপত্রের ফটোকপি, নেসকো রাজশাহীর মোট গ্রাহকসংখ্যার হিসাব, বকেয়া বিলের গত এক বছরের তথ্য; ২০২০-২১ অর্থ বছরের প্রকল্পগুলোর তালিকা, বাস্তবায়নের অগ্রগতি সংক্রান্ত নথিপত্রের ফটোকপি এবং অভিযুক্ত কিছু কর্মকর্তার ২০১৯-২০ অর্থ বছরে টিএ/ডিএ বিলের হিসাব সংক্রান্ত তথ্য পরদিনই দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে সরবরাহের নির্দেশ দেন।

এ ছাড়া দুদকের কর্মকর্তারা নেসকোর রাজশাহীর উপ-মহাব্যবস্থাপক দেলোয়ার হোসেন, নির্বাহী পরিচালক আব্দুল আজিজ, সৈয়দ গোলাম আহম্মেদ, সুব্রত কুমার দাস ও শরিফুল আওলাদ; ব্যবস্থাপক আবু মোতালেব, ডিসিএস সৈয়দ আবু তাহের এবং উচ্চমান সহকারী নজরুল ইসলাম ও শহীদুল ইসলাম এবং তাঁদের স্ত্রীদের সর্বশেষ আয়কর নথির ফটোকপি চাওয়া হয়েছে। এসব নথি আগামী ৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে পাঠাতে বলা হয়েছে।

এসব কর্মকর্তারা একাধিক গাড়ি-বাড়ির মালিক হয়েছেন বলে দুদক অভিযোগ পেয়েছে। তা খতিয়ে দেখতে দুদকের অভিযান পরিচালনাকারী কর্মকর্তারা গাড়ির তথ্য পেতে বিআরটিএ’র রাজশাহী অফিস এবং বাড়ি ও ফ্ল্যাট সংক্রান্ত তথ্যের জন্য রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ এবং রাজশাহী সিটি করপোরেশনেও অভিযান চালিয়েছেন। তবে এসব সংস্থাও তাৎক্ষণিক তথ্য সরবরাহ করতে পারেনি। এসব তথ্য আগামী ৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সরবরাহ করতে তিন সংস্থাকে বলা হয়েছে।

এ বিষয়ে দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. আল-আমিন বলেন, ‘অভিযোগ পেয়েই নেসকোতে অভিযান চালানো হয়েছে। কর্মকর্তাদের সব তথ্য পাওয়ার পর অভিযোগটি পর্যালোচনা করা হবে। এরপর বিস্তারিত প্রতিবেদন দুদকের প্রধান কার্যালয়ে পাঠানো হবে। তারপর সেখান থেকে যে নির্দেশনা আসবে সে অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইে রাজশাহী নেসকোর নির্বাহী পরিচালক প্রকৌশলী আবদুল আজিজ বলেন, ‘আজকে তথ্য সরবরাহ করা সম্ভব হয়নি। আমরা সময় চেয়েছি। সব তথ্য আছে, গোছানো হচ্ছে। সব তথ্যেই পাঠানো হবে।’ দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। আবদুল আজিজ আরও বলেন, ‘এ বিষয়টি দপ্তর প্রধান হিসেবে এমডি মহোদয় বলবেন। আমি কিছু বলতে পারব না।’

তবে বিষয়টি সম্পর্কে জানতে নেসকোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) জাকিউল ইসলামের মোবাইল ফোনে কল করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

BBS cable ad

অটোমোবাইল এর আরও খবর: