দেশের খাদ্য-পুষ্টির চাহিদা পূরণে দিচ্ছে বাকৃবি : মেয়র টিটু
মো. নজরুল ইসলাম, (ময়মনসিংহ ব্যুরো) :
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) বৃক্ষ রোপন কর্মসূচির উদ্বোধন করে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য এবং ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের (মসিক) মেয়র মোঃ ইকরামুল হক টিটু বলেছেন বাকৃবি’র শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে দেশের মানুষের খাদ্য ও পুষ্টির চাহিদা পূরণ এবং পরিবেশের উন্নয়ন ঘটেছে। বিশ্বের অন্যতম সেরা স্বনামখ্যাত এই আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন প্রতিষ্ঠান বাকৃবি নিয়ে দেশের প্রতিটি মানুষ গর্বিত। তিনি এই বিশ^বিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়নে আরো কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন।
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের আয়োজনে ব্রিটিশ আমেরিকান টোবাকো (বিএটি), বাংলাদেশ এর সহযোগিতায় শোকের মাসের শেষদিন মঙ্গলবার (৩১ আগষ্ট) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয় টিএসসির সংলগ্ন আঙ্গিনায় বৃক্ষরোপন কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মসিক মেয়র টিটু এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য কৃষি বিজ্ঞানী প্রফেসর ড. লুৎফুল হাসান। ছাত্র বিষয়ক উপদেষ্টা প্রফেসর ড. এ কে এম জাকির হোসেনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন বৃটিশ আমেরিকান টোবাকো (বিএটি) বাংলাদেশের প্রতিনিধি মোঃ আক্তার আনোয়ার খান। এসময় বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন প্রশাসনিক শাখার দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকবৃন্দ, কর্মকর্তা ও ছাত্রছাত্রী, প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মসিক মেয়র মোঃ ইকরামুল হক টিটু বলেন, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় দেশকে সবুজায়ন পুষ্টি ও খাদ্য নিরাপত্তার সুযোগ্য নেতৃত্ব দিয়ে আসছে। বাকৃবির সার্বিক কর্মকান্ড নিয়ে জাতি গর্বিত। তিনি ক্যাম্পাসকে আরো সবুজায়ন ও দৃষ্টিনন্দন করার পাশাপাশি ময়মনসিংকে বিভাগ ও জেলাকে সবুজায়ন করার আগ্রহ ব্যক্ত করা করায় বিএটি কর্তৃপক্ষকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। এরমাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য পূরণে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।
সভাপতির বক্তব্যে বাকৃবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. লুৎফুল হাসান বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যে জায়গায় বাংলাদেশকে দেখতে চেয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা সে জায়গায় বাংলাদেশকে নিয়ে যেতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি।
উপাচার্য বলেন, ইতিমধ্যেই দেশের উপর দিয়ে বহু ঝড়-জলোচ্ছাসে অনেক ক্ষতি হলেও সুন্দরবন রক্ষায় নানামূখী পদক্ষেপ নিয়েছে শেখ হাসিনার সরকার। তাই সুন্দরবন এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি সমৃদ্ধ হয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন সুন্দরবন হলো দেশের লাইফলাইন। এই সুন্দরবনে যতবেশি গাছ থাকবে, ততই এই দেশ বন্যা ও জলোচ্ছাস থেকে রক্ষা পাবে। পরিবর্তিত জলবায়ুতে এটা কিন্ত একটা
অবধারিত বিষয়। তাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আহবান পরিবেশ রক্ষায় গাছ লাগানোর কোনো বিকল্প নেই।
উপাচার্য আরো বলেন, গত বছর বিএটি থেকে বাকৃবিকে প্রায় ৭০ হাজার ফলজ, বনজ, ওষুধি ও সৌন্দর্যবর্ধন গাছ দিয়েছে। বাকৃবি’র জার্মপ্ল্যাজম সেন্টার, বোটানিক্যাল গার্ডেনসহ প্রতিটি জায়গায় মাটি উন্নয়ন করে ছোট ছোট বাগান তৈরি করে সৌন্দর্যবর্ধনে বিএটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। তিনি ক্যাম্পাসের এ গাছগুলো রক্ষণাবেক্ষনের ব্যাপারেও নিরাপত্তা কাউন্সিলকে নির্দেশ দেন উপাচার্য।
কৃষকদের বাউধান-৩ এর বীজের সাথে যাতায়াত ভাতা ও খাবারের প্যাকেটের সাথে দুটি করে গাছের চারা বিতরণের ঘোষণা দেন উপাচার্য।
ছাত্র বিষয়ক উপদেষ্টা প্রফেসর ড. এ কে এম জাকির হোসেন বলেন, একজন প্রথিতযশা কৃষিবিজ্ঞানী যিনি ইতিমধ্যেই কয়েকটি নতুন ধান ও সরিষার জাত উদ্ভাবন করে দেশে বিভিন্ন পুরষ্কারে ভূষিত হয়েছেন। সেই স্বনামধ্যণ্য উপাচার্য অধ্যাপক ড. লুৎফুল হাসানের নেতৃত্বে বর্তমানে বাকৃবি’র আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন শিক্ষা, গবেষণা ও প্রশাসনিক অগ্রগতি এক অনন্য উচ্চতায় অবস্থান করছে। উপাচর্যের নেতৃত্বে ক্যাম্পাসের প্রতিটি জায়গা সবুজায়নের মাধ্যমে আরো সৌন্দর্যবর্ধন ও দৃষ্টিনন্দন করতে আমরা কাজ করছি। ফলজ, বনজ, ওষুধি ও সৌন্দর্যবর্ধন গাছ দিয়ে ক্যাম্পসকে সাজানোর জন্য গাছ দিয়েছেন বিএটি।


