শিরোনাম

South east bank ad

ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রতিবন্ধকতা তিন মাসের মধ্যে সমাধানের আশ্বাস

 প্রকাশ: ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ১২:০০ পূর্বাহ্ন   |   এনবিআর

ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রতিবন্ধকতা তিন মাসের মধ্যে সমাধানের আশ্বাস

দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যের বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতাগুলো নির্দিষ্টভাবে জানালে তিন মাসের মধ্যে সমাধান করা হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

তবে বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতির কারণে আসন্ন বাজেটে বড় ধরনের কর ছাড় দেয়ার সুযোগ সীমিত থাকবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। রাজধানীর একটি হোটেলে গতকাল জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ও দ্য ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বারস অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফবিসিসিআই) যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এনবিআরের পরামর্শক কমিটির ৪৬তম সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

সভায় বাজেট-পূর্ব আলোচনায় বিভিন্ন খাতের ব্যবসায়ীরা আমলাতান্ত্রিক জটিলতা, অতিরিক্ত ভ্যাট-ট্যাক্সের চাপ ও হয়রানির অভিযোগ তুলে ধরেন। তারা করনীতি সহজীকরণ, ডিজিটালাইজেশন, করের আওতা বৃদ্ধি, বন্দরের খরচ ও দুর্নীতি কমানো এবং ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের সুরক্ষার দাবি জানান। নারী উদ্যোক্তারা বিশেষ প্রণোদনা ও সহজ ঋণের আহ্বান জানান। সব মিলিয়ে ব্যবসায়ীরা বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ, নীতিগত সংস্কার এবং হয়রানিমুক্ত কর ব্যবস্থা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন।

এমসিসিআই সভাপতি কামরান টি রহমান তার বক্তব্যে বলেন, ‘বিভিন্ন অগ্রিম ও উৎসে করের কারণে অনেক ক্ষেত্রে কার্যকর করহার ৪০-৫০ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছে যায়।’ তিনি কোনো শর্ত ছাড়াই করপোরেট করহার কমানো এবং নগদ লেনদেনের ওপর কঠোর শর্ত শিথিল করার দাবি জানান।

এমসিসিআই সভাপতি আরো বলেন, ‘আয়কর, ভ্যাট ও কাস্টমসের জন্য একটি সমন্বিত করদাতা প্রোফাইল চালু করা এবং অনলাইন আপিল শুনানি ব্যবস্থা প্রবর্তন করা প্রয়োজন।’

আবাসন ব্যবসায়ীদের সংগঠন রিহ্যাবের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি আব্দুর রাজ্জাক কর কর্মকর্তাদের সততা ও নৈতিকতার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান। পাশাপাশি কর প্রশাসনের আধুনিকায়ন, হয়রানিমুক্ত সেবা এবং নিবন্ধন ব্যয় কমানোর ওপর গুরুত্ব দেন।

অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘ব্যবসার পরিবেশ সহজ করতে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও অন্যান্য প্রতিবন্ধকতা দ্রুত দূর করা হবে এবং ‘ইজ অব ডুয়িং বিজনেস’ উন্নয়নে কাজ চলছে।’ বন্দরের খরচ বৃদ্ধির যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি দুর্নীতি ও অদক্ষতা দূর করার কথা বলেন।

অর্থমন্ত্রী আরো বলেন, ‘সরকার রাজস্ব বাড়াতে আগ্রহী, কারণ এছাড়া ব্যবসায়ীদের প্রয়োজনীয় সুবিধা দেয়া কঠিন হবে।’ একই সঙ্গে ‘ওয়ান সিটিজেন, ওয়ান কার্ড, ওয়ান ওয়ালেট’ চালুর মাধ্যমে লেনদেনের স্বচ্ছতা বাড়িয়ে কর ফাঁকি ও দুর্নীতি কমানোর পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট সংকটের বিষয়টি উল্লেখ করে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করতে আগামী দুই বছর একটি ‘কুশন’ প্রয়োজন, এরপর অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াবে বলে আশা করছি।’ বেসরকারি খাত দেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি হিসেবে উল্লেখ করে তাদের সমস্যা সমাধানে অগ্রাধিকার দেয়ার আশ্বাস দেন তিনি।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, ‘জ্বালানি সংকট, উচ্চ সুদহার, ব্যাংক ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা ও লজিস্টিক সমস্যার কারণে দেশের অনেক শিল্প খাত কঠিন পরিস্থিতির মুখে রয়েছে। এ অবস্থায় নতুন বিনিয়োগের পাশাপাশি বিদ্যমান শিল্প ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান টিকিয়ে রাখাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।’

এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান বলেন, ‘ট্যাক্স ও ডিউটির ক্ষেত্রে ব্যবসায়ীদের স্বস্তি দিতে সরকার কাজ করছে এবং অতিরিক্ত রেগুলেশন কমিয়ে ব্যবসা সহজ করা হবে। জটিল বিধিনিষেধ ধাপে ধাপে কমানো হবে এবং রাজস্ব কমপ্লায়েন্স আরো সহজ করা হবে। একই সঙ্গে ট্যাক্সের আওতা বাড়িয়ে বৈষম্য কমানোর ওপর গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে।’

সভাটি সঞ্চালনা করেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ও এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক আবদুর রহিম খান।

BBS cable ad

এনবিআর এর আরও খবর: