সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের খারাপ দিক বর্জন করতে হবে : মোস্তাফা জব্বার
ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেছেন, সোস্যাল মিডিয়া হচ্ছে ডিজিটাল যুগের প্রোডাক্ট। এটি গণমাধ্যমকেও বদলে দিয়েছে। অন্য দিকে ছোট ছোট উদ্যোক্তাদের জন্য ডিজিটাল ব্যবসার জন্য জনপ্রিয় প্লাটফর্ম হিসেবে অনেকের জীবন যাত্রাই শুধু নয়, অনেক ক্ষেত্রে সামাজিক জীবন ধারাকেও পাল্টে দিয়েছে।এটির ভাল খারাপ দুটি দিকই আছে। ভালটি গ্রহণ এবং খারাপটি বর্জন করার জন্য উপায়টিও জানতে হবে। তিনি বলেন, ইন্টারনেট হচ্ছে জ্ঞানের ভান্ডার। যুগের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় ডিজিটাল প্রযুক্তি থেকে সন্তানদেরকে দূরে রাখার সুযোগ নেই। প্যারেন্টাইল গাইডেন্স ব্যবহারের মাধ্যমে তাদের খারাপটি ব্যবহার থেকে নিবৃত্ত করতে অভিভাবকদের সচেষ্ট থাকার আহ্বান জানান তিনি।
মন্ত্রী আজ শুক্রবার ঢাকায় ওয়েবিনারে ডিজিটাল বাংলাদেশ ও কোভিডকালীন সময়ে বাংলাদেশ শীর্ষক সারা বাংলা এসএসসি-৯১ সংগঠন আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন।
ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী ডিজিটাল বাংলাদেশ কর্মসুচিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটি দূরদর্শী এবং বিশ্বের অনুকরণীয় কর্মসূচি হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, স্বাধীনতা পরবর্তী যুদ্ধের ধ্বংশের স্তুপে দাঁড়িয়েও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আইটিইউ, ইউপিইউ এর সদস্যপদ অর্জন, বেতবুনিয়ায় ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্র স্থাপন এবং টিএন্ডটি বোর্ড গঠনের মাধ্যমে ডিজিটাল বিপ্লবের বীজ বপন করে ছিলেন। প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৯৯৬ সালে সরকার গঠনের পর মোবাইল ও কম্পিউটার সহজলভ্য করাসহ ভি-সেটের মাধ্যমে ইন্টারনেট সংযোগের সুযোগ তৈরি করে জাতির পিতার বপন করা বীজটিকে চারা গাছে রূপান্তর করেন।তিনি ২০০৯ সালে সরকারে আসার পর তার হাত ধরে গত এগারো বছরে এটি আজ বিরাট এক বৃক্ষে পরিণত হয়েছে। বাংলাদেশ আজ অতীতের শতশত বছরের পশ্চাদপদতা অতিক্রম করে ডিজিটাল বিপ্লবের নেতৃত্বকারী দেশ হিসেবে বিস্ময়কর সফলতা অর্জন করেছে। মন্ত্রী বলেন, কোভিডকালে দেশে মানুষের জীবন ধারায় ডিজিটাল বাংলাদেশ কর্মসূচি অভাবনীয় পরিবর্তনের সূচনা করেছে। কোভিড পরবর্তী সময়েও এই জীবন ধারা থেকে ফিরে আসার সুযোগ নেই। ডিজিটাল এই অগ্রযাত্রা ধরে রাখতে হবে বলে তিনি উল্রেখ করেন। ইন্টারনেট নিরাপদ রাখতে গৃহীত বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরে তিনি বলেন, ইন্টারনেট নিরাপদ রাখতে ২৬ হাজর পর্ন সাইট ও ৬হাজার জোয়ার সাইট ইতোমধ্যে বন্ধ করা হয়েছে। ক্ষতিকর লিংকবন্ধ অব্যাহত আছে। তিনি ডিজিটাল বিপদ থেকে কিংবা হ্যাকিং থেকে নিজেকে রক্ষায় করণীয় বিষয়টি তুলে ধরে বলেন, একাউন্টের পাসওয়ার্ড তৈরি কিংবা সংরক্ষণে সাবধান হওয়ার উপায় গুলো আয়ত্ব করা খুব কঠিন কিছু নয়। শিক্ষায় ডিজিটাল রূপান্তরকে তিনি জ্ঞান ভিত্তিক ডিজিটাল সাম্য সমাজ প্রতিষ্ঠার অন্যতম হাতিয়ার উল্লেখ করে বলেন, প্রাথমিক স্তর থেকেই বাচ্চাদের ডিজিটাল শিক্ষার প্রতি গুরুত্ব দিতে হবে।
