ভোলার বাজারে কমেছে ইলিশের দাম, বেড়েছে সরবরাহ
ভরা মৌসুমের মাঝামাঝি পর্যায়ে এসে অবশেষে কমেছে ইলিশের দাম। নদীতে জেলেদের জালে ইলিশ ধরা পড়ায় বাজারে সরবরাহ বেড়েছে।
এতে আকার ও মানভেদে কেজিপ্রতি ইলিশের দাম কমেছে ৫০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, দাম কিছুটা কমায় ইলিশ কিনতে বাজারে ক্রেতাদের উপস্থিতি বেড়েছে।
ফলে আগের তুলনায় বেচাকেনাও বাড়ছে।
ব্যবসায়ী জলিল ও সাহাবুদ্দিন বলেন, গত সপ্তাহ ধরে নদীতে ইলিশ ধরা পড়ছে।
এতে আড়তে মাছের সরবরাহ বাড়ছে। স্থানীয় বাজারের পাশাপাশি মোকামেও যাচ্ছে ইলিশ।
ইলিশ বিক্রেতা রহিম ও সিরাজ বলেন, আকারভেদে ইলিশের দাম কিছুটা কমেছে। তাই ক্রেতাদের ভিড় বাড়ছে।
তবে ব্যবসায়ীদের এ বক্তব্যের সঙ্গে একমত নন ক্রেতারা। তাদের অভিযোগ, বাজারে পর্যাপ্ত ইলিশের সরবরাহ থাকলেও সে অনুযায়ী দাম কমেনি। অনেক ব্যবসায়ী এখনো আগের দামেই ইলিশ বিক্রি করছেন।
ক্রেতা মাইনুদ্দিন, মনিরুজ্জামান ও রাসেল বলেন, মাছের দাম আগের মতোই। দাম কমেনি। ব্যবসায়ীরা নিজেদের ইচ্ছেমতো দাম হাঁকাচ্ছেন।
ভোলার মাছ বাজার ঘুরে দেখা গেছে, এক কেজি ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে প্রায় ২ হাজার ৮০০ টাকায়। মাঝারি আকারের ইলিশের দাম ২ হাজার ৫০০ টাকার মতো। আর ছোট আকারের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৫০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকা কেজি দরে। বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, আকারভেদে কেজিপ্রতি ইলিশের দাম ৫০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত কমেছে।
সচেতন মহল বলছে, মাছের দাম তুলনামূলক কিছুটা কমলেও তা এখনো নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের নাগালের বাইরে। তাঁদের মতে, বাজারে সরবরাহ আরও বাড়লে এবং নিয়মিত বাজার মনিটরিং করা হলে ইলিশসহ অন্যান্য নিত্যপণ্যের দামও সহনীয় পর্যায়ে আসতে পারে। ভোক্তারাও কার্যকর বাজার মনিটরিংয়ের দাবি জানিয়েছেন।
এ ব্যাপারে ভোক্তা অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠন কনজুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) সভাপতি মো. ছুলাইমান বলেন, বাজারে মাছসহ নিত্যপণ্যের দামে যে অস্থিরতা রয়েছে, তা মেনে নেওয়ার মতো নয়। আমরা এ বিষয়ে প্রশাসনের মনিটরিং দাবি করছি।
ভোলা কৃষি বিপণন কর্মকর্তা মোস্তফা সোহেল বলেন, মাছসহ নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে আমাদের নিয়মিত অভিযান চলছে। কেউ যদি অতিরিক্ত মূল্যে বিক্রি করে, তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


