শিরোনাম

South east bank ad

ফিউচার মার্কেটে ৫,৬০০ ডলার অতিক্রম করেছে স্বর্ণের দাম

 প্রকাশ: ৩০ জানুয়ারী ২০২৬, ১২:০০ পূর্বাহ্ন   |   ক্রয়-বিক্রয়

ফিউচার মার্কেটে ৫,৬০০ ডলার অতিক্রম করেছে স্বর্ণের দাম

ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে স্বর্ণের চাহিদা ক্রমেই বাড়ছে। গতকাল দিনব্যাপী বেচাকেনার শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের ফিউচার মার্কেটে আউন্সপ্রতি ৫ হাজার ৬০০ ডলার ছাড়িয়ে যায় মূল্যবান ধাতুটির দর। একই সময় রুপার দাম ইতিহাসে প্রথমবারের মতো আউন্সপ্রতি ১২০ ডলার অতিক্রম করে যায়। খবর রয়টার্স।

স্পট মার্কেটে গতকাল স্বর্ণের দাম ২ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে আউন্সপ্রতি দাঁড়ায় ৫ হাজার ৫৪৬ ডলার ২৯ সেন্টে। এদিন বেচাকেনার একপর্যায়ে মূল্যবান ধাতুটির দর পৌঁছেছিল আউন্সপ্রতি রেকর্ড ৫ হাজার ৫৯৪ ডলার ৮২ সেন্টে। গতকাল ফেব্রুয়ারিতে সরবরাহ চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের ফিউচার মার্কেটে স্বর্ণের আউন্সপ্রতি দাম পৌঁছে ৫ হাজার ৫৩৯ ডলার ২০ সেন্টে, যা আগের দিনের তুলনায় ৪ দশমিক ৫ শতাংশ বেশি। এদিন বেচাকেনার শুরুতে মূল্যবান ধাতুটির দাম আউন্সপ্রতি সর্বোচ্চ ৫ হাজার ৬২৬ ডলার ৮০ সেন্টে পৌঁছেছিল।

এ বিষয়ে এএনজেড ব্যাংকের বিশ্লেষক সনি কুমারি বলেন, ‘বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি ও যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে আপৎকালীন বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণের চাহিদা বাড়ছে। বিশেষ করে ফেডারেল রিজার্ভের স্বাধীনতা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হওয়ায় বিনিয়োগকারীদের আর্থিক ব্যবস্থার ওপর আস্থা কিছুটা কমে এসেছে।’

বিনিয়োগকারীরা যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের (ফেড) স্বাধীনতা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন। কারণ ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে ফেড চেয়ারম্যান জেরোম পাওয়েলের বিরুদ্ধে ফৌজদারি তদন্ত, ফেড গভর্নর লিসা কুককে অপসারণের প্রচেষ্টা এবং মে মাসে পরবর্তী চেয়ারম্যান মনোনয়নের বিষয়টি বাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।

ম্যারেক্সের বিশ্লেষক এডওয়ার্ড মেইর বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমবর্ধমান ঋণ ও বৈশ্বিক বাণিজ্য ব্যবস্থা যুক্তরাষ্ট্রকেন্দ্রিক কাঠামো থেকে সরে আঞ্চলিক ব্লকে বিভক্ত হয়ে যেতে পারে। এতে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে স্বর্ণের চাহিদা আরো বাড়ছে।’

বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম শুধু চলতি সপ্তাহেই ১০ শতাংশের বেশি বেড়েছে। আর বছরের প্রথম ২৯ দিনে তা বেড়েছে ২৭ শতাংশের বেশি। এর আগে ২০২৫ সালে স্বর্ণের দাম বেড়েছিল ৬৪ শতাংশ। খাতসংশ্লিষ্টরা জানান, এর পেছনে মূল ভূমিকা রেখেছে আপৎকালীন বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণের চাহিদা, কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর ঊর্ধ্বমুখী ক্রয় ও ডলারের বিনিময় হার কমে যাওয়া।

এছাড়া ভূরাজনৈতিক উত্তেজনাও ক্রমে বাড়ছে। গত বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র বিষয়ে আলোচনায় বসার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তিনি হুঁশিয়ারি দেন, ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো হামলা হলে তা গত বছর ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় চালানো হামলার চেয়েও অনেক বেশি ভয়াবহ হবে। এর জবাবে তেহরান যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও তাদের সমর্থকদের বিরুদ্ধে পাল্টা হামলার হুমকি দেয়।

স্পট মার্কেটে গতকাল রুপার দাম ১ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে আউন্সপ্রতি দাঁড়িয়েছে ১১৮ ডলার ২৫ সেন্টে। এদিন বেচাকেনার শুরুতে রুপার দাম আউন্সপ্রতি রেকর্ড ১২০ ডলার ৪৫ সেন্টে পৌঁছায়।

এ বিষয়ে ক্যাপিটাল ডটকমের সিনিয়র মার্কেট অ্যানালিস্ট কাইল রডা বলেন, ‘রুপার দামের এ উত্থানের কারণে দ্রুত মুনাফা তুলে নিচ্ছেন বিনিয়োগকারীরা। ফলে ধাতুটির দামে তীব্র সংশোধনও দেখা দিতে পারে। তবে একই সঙ্গে সরবরাহ সংকটসহ অন্যান্য কারণে ধাতুটির দাম ঊর্ধ্বমুখী থাকার সম্ভাবনাও প্রবল।’

অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর বাজারেও গতকাল ঊর্ধ্বগতি অব্যাহত ছিল। স্পট মার্কেটে প্লাটিনামের দাম ২ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে আউন্সপ্রতি ২ হাজার ৭৭০ ডলার ৪৯ সেন্টে। একই সময় প্যালাডিয়ামের দাম ১ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে আউন্সপ্রতি ২ হাজার ১০৭ ডলার ৩৭ সেন্টে।

BBS cable ad

ক্রয়-বিক্রয় এর আরও খবর: