শিরোনাম

South east bank ad

নতুন বছরে পুঁজিবাজারে সবচেয়ে বড় দরপতন

 প্রকাশ: ১২ জানুয়ারী ২০২৬, ১২:০০ পূর্বাহ্ন   |   শেয়ার বাজার

নতুন বছরে পুঁজিবাজারে সবচেয়ে বড় দরপতন

দেশের পুঁজিবাজারে সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে গতকাল সূচকে নিম্নমুখিতা দেখা গেছে। এদিন দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সার্বিক সূচক ১ দশমিক ১৮ শতাংশ কমেছে, যা নতুন বছরে এখন পর্যন্ত একদিনে সবচেয়ে বড় দরপতন। পাশাপাশি এদিন এক্সচেঞ্জটির দৈনিক লেনদেনও কিছুটা কমেছে।

বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, নতুন বছরের প্রথম সাত কার্যদিবসের মধ্যে তিন কার্যদিবসেই সূচক নিম্নমুখী ছিল। এর মধ্যে ৫ জানুয়ারি সূচক কমেছিল দশমিক ২০ শতাংশ এবং ৬ জানুয়ারি কমেছিল দশমিক শূন্য ২ শতাংশ। তবে গতকালই সূচকে সবচেয়ে বড় পতন ঘটে, যা ১ শতাংশেরও বেশি।

গতকাল লেনদেনের শুরু থেকেই নিম্নমুখী ছিল সূচক। দিন শেষে ডিএসইর সার্বিক সূচক ডিএসইএক্স ৫৮ দশমিক ৯৬ পয়েন্ট কমে ৪ হাজার ৯৪০ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের কার্যদিবসে যা ছিল ৪ হাজার ৯৯৯ পয়েন্ট। নির্বাচিত কোম্পানির সূচক ডিএস-৩০ দিনের ব্যবধানে ১৮ দশমিক ৭৪ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ৮৯৬ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের কার্যদিবসে যা ছিল ১ হাজার ৯১৫ পয়েন্ট। শরিয়াহ সূচক ডিএসইএস এদিন ১১ দশমিক ৯২ পয়েন্ট কমে ৯৯৯ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের কার্যদিবসে যা ছিল ১ হাজার ১১ পয়েন্ট।

গতকাল সূচকের পতনে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রেখেছে ইসলামী ব্যাংক, পূবালী ব্যাংক, স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস, ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ ও সিটি ব্যাংকের শেয়ার।

ডিএসইতে গতকাল ৪১২ কোটি ২৮ লাখ ৪৩ হাজার টাকার সিকিউরিটিজ লেনদেন হয়েছে, আগের কার্যদিবসে যা ছিল ৪২৯ কোটি ১১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা। সে হিসাবে একদিনের ব্যবধানে এক্সচেঞ্জটির দৈনিক লেনদেন কমেছে ৩ দশমিক ৯২ শতাংশ। গতকাল এক্সচেঞ্জটিতে লেনদেন হওয়া ৩৯২টি কোম্পানি, মিউচুয়াল ফান্ড ও করপোরেট বন্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ৩৮টির, কমেছে ৩১৩টির ও দর অপরিবর্তিত ছিল ৪১টির।

বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, শেয়ারের ক্যাটাগরি পরিবর্তন নিয়ে গুজব, দেশজুড়ে গ্যাস সংকটের উদ্বেগ এবং বাড়তে থাকা ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে বিনিয়োগকারীদের মনোভাব নেতিবাচক ছিল। ফলে সূচকে নিম্নমুখিতা দেখা গেছে।

খাতভিত্তিক লেনদেনচিত্রে দেখা যায়, গতকাল ডিএসইর মোট লেনদেনের ১৫ দশমিক ৬ শতাংশ দখলে নিয়ে শীর্ষে অবস্থান করছে ব্যাংক খাত। ১৩ দশমিক ৮ শতাংশ দখলে নিয়ে তালিকার দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ওষুধ ও রসায়ন খাত। বস্ত্র খাত ১৩ দশমিক ৫ শতাংশ লেনদেন নিয়ে তালিকার তৃতীয় অবস্থানে ছিল। ১০ দশমিক ৪ শতাংশ লেনদেনের ভিত্তিতে তালিকার চতুর্থ স্থানে ছিল প্রকৌশল খাত। আর পঞ্চম অবস্থানে থাকা খাদ্য ও আনুষঙ্গিক খাতের দখলে ছিল লেনদেনের ৯ দশমিক ৪ শতাংশ।

গতকাল ডিএসইতে সব খাতের শেয়ারেই নেতিবাচক রিটার্ন এসেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ২ দশমিক ১ শতাংশ নেতিবাচক রিটার্ন এসেছে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে। এছাড়া আর্থিক প্রতিষ্ঠান খাতে ২, সাধারণ বীমা, কাগজ ও মুদ্রণ এবং সিরামিক খাতে ১ দশমিক ৯ শতাংশ নেতিবাচক রিটার্ন ছিল।

দেশের আরেক পুঁজিবাজার চিটাগং স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) নির্বাচিত সূচক সিএসসিএক্স গতকাল ৭৩ দশমিক ৫৩ পয়েন্ট কমে ৮ হাজার ৫৭৯ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। সিএসইর সব শেয়ারের সূচক সিএএসপিআই এদিন ১১৬ দশমিক ৮৮ পয়েন্ট কমে ১৩ হাজার ৮৭৭ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। এদিন এক্সচেঞ্জটিতে লেনদেন হওয়া ১৫৪টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ৪১টির, কমেছে ৯২টির ও দর অপরিবর্তিত ছিল ২১টির। গতকাল সিএসইতে ৪ কোটি ৩ লাখ টাকার সিকিউরিটিজ হাতবদল হয়েছে, আগের কার্যদিবসে যা ছিল ১২ কোটি ৬৭ লাখ টাকা।

BBS cable ad

শেয়ার বাজার এর আরও খবর: