সারাদেশে যথাযোগ্য মর্যাদায় বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্যদিয়ে পালিত হচ্ছে বঙ্গবন্ধুর জন্মবার্ষিকী

শতবর্ষ পেরিয়ে ১০১ বয়স দাঁড়াবে শেখ মুজিবুর রহমানের। বেঁচে থাকলে এমনটাই হতো তার বয়স। গোপালগঞ্জের নিভৃত পল্লি টুঙ্গিপাড়ায় তিনি জন্মগ্রহণ করেছিলেন ১৯২০ সালের ১৭ মার্চ। আর এই দিনটিকে উৎসাহ-উদ্দীপনায় উদযাপন করছে মুজিবের সকৃতজ্ঞ দেশবাসী আর অনুসারীরা। সারাদেশে যথাযোগ্য মর্যাদায় বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্যদিয়ে পালিত হচ্ছে বঙ্গবন্ধুর জন্মবার্ষিকী।
খুলনায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মবার্ষিকী ও জাতীয় শিশু দিবস উপলক্ষে ১৯ হাজার ২০০বার কোরআন খতম এবং বৃহৎ পরিসরে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে গতকাল বুধবার আসরের নামাজের পর খুলনা জেলা স্টেডিয়ামে কোরআন খতম এবং বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম শতবার্ষিকী উপলক্ষে বুধবার বিকেল সাড়ে ৪টায় খুলনা জেলা স্টেডিয়ামে খুলনা সিটি মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম কামাল হোসেন, বিভাগীয় কমিশনার মো. ইসমাইল হোসেন, পুলিশ কমিশনার প্রমুখ।
এছাড়া খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়সহ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসমূহ নিজস্ব উদ্যোগে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। জেলা ও উপজেলায় বঙ্গবন্ধুর জীবনী ও মহান মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক পুস্তক ও ডকুমেন্টরি প্রদর্শন এবং বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ প্রচার করা হয়। স্থানীয় পত্রিকায় বিশেষ নিবন্ধ ও ক্রোড়পত্র প্রকাশিত হয়।
শ্রদ্ধা ভালবাসা আর সম্মৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে রংপুর বিভাগে পালন করা হয়েছে মুক্তির মহানায়ক স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ১০১ তম জন্মদিন। বুধবার (১৭ মার্চ) সকাল ৯ টায় নগরীর বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান সিটি কর্ফোরেশনের মেয়র মোস্তা ফিজার রহমান মোস্তফা, বিভাগীয় কমিশনার আব্দুল ওয়াহাব ভুইঞা, মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো: আব্দুল আলিম মাহমুদসহ প্রশাসন, জেলা প্রশাসক মো. আসিব আহসান সহ আওয়ামীলীগ ও তার অঙ্গ সংগঠন, বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক, পেশাজীবি, সামাজিক সংগঠন ও স্কুল-কলেজ সংশ্লিষ্টরা। এসময় এক সাথে ১০১জন শিশু শিল্পী জাতীয় সংগীত পরিবেশন করেন।
সিলেটে যথাযোগ্য মর্যাদায় হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মবার্ষিকী ও জাতীয় শিশু দিবস উদযাপন করা হয়েছে।
এ উপলক্ষে বুধবার (১৭ মার্চ) বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, রাজনৈতিক ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
মুজিববর্ষকে বর্ণিল সাজে সেজেছে সিলেট নগরী। গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও মোড়ে সাঁটানো হয়েছে উৎসব লোগো সম্পর্কিত ব্যানার, ফেস্টুন। জাতির পিতার জন্ম উৎসবকে রঙিন করে তুলতে আলোকসজ্জা ডিজিটাল প্রচারণায় ভাসছে সিলেট।
বরিশালে নানা আয়োজনে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন ও জাতীয় শিশু দিবস পালিত হয়েছে। বুধবার (১৭ মার্চ) সূর্যোদয়ের সাথে সাথে নগরীর সোহেল চত্ত্বরস্থ আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। বরিশাল জেলা পরিষদ চত্ত্বরে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পন করেন জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান সাবেক সাংসদ মো. মইদুল ইসলাম, নগরীর বঙ্গবন্ধু উদ্যানে জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পন করেন বিভাগীয় কমিশনার মোঃ সাইফুল হাসান বাদল, রেঞ্জ ডিআইজি মো. শফিকুল ইসলাম, পুলিশ কমিশনার মো. শাহাবুদ্দিন খান, জেলা প্রশাসক জসীম উদ্দীন হায়দার, পুলিশ সুপার মো. মারুফ হোসেন সহ সরকারী বিভিন্ন দপ্তরের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
রাজশাহীতে দিনভর নানা আয়োজনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ১০১তম জন্মবার্ষিকী ও জাতীয় শিশু দিবস উদযাপন করা হয়েছে। এ উপলক্ষে জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ, প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা, বিভিন্ন স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় পৃথক কর্মসূচি পালন করে। বুধবার (১৭ মার্চ) সকালে জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে বঙ্গবন্ধুর জীবনীর উপর আলোচনা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও পুরস্কার বিতরণীতে প্রধান অতিথি ছিলেন বিভাগীয় কমিশনার ড. হুমায়ুন কবীর। জেলা প্রশাসক আব্দুল জলিলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে পুলিশের রাজশাহী রেঞ্জের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) আব্দুল বাতেন, রাজশাহী মেট্টোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) কমিশনার আবু কালাম সিদ্দিক, জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) এবিএম মাসুদ হোসেন ও বীর মুক্তিযোদ্ধা শফিকুর রহমান রাজা বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী ও জাতীয় শিশু দিবস উপলক্ষে সকালে জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালে উপজেলা প্রশাসনসহ বিভিন্ন সংগঠন ও প্রতিষ্ঠান পুষ্পস্তবক অর্পণ করে। পরে উপজেলা সভাকক্ষে কেক কাটা ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। ইউএনও সোহেল সুলতান জুলকার নাইন কবিরের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য রাখেন সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক ইয়াসিন আলি, উপজেলা চেয়ারম্যান শাহরিয়ার আজম মুন্না, আওয়ামী লীগ সভাপতি সইদুল হক, সাধারণ সম্পাদক তাজউদ্দিন আহমেদ, পৌর মেয়র মোস্তাফিজুর রহমান, ভাইস চেয়ারম্যান- শেফালী বেগম, সহকারী কমিশনার (ভূতি) প্রীতম সাহা, কৃষি কর্মকর্তা সঞ্জয় দেবনাথ, ওসি ( তদন্ত) আব্দুল লতিফ শেখ, পৌর আওয়ামী লীগ সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম, বীর মুক্তিযোদ্ধা হবিবর রহমান, প্রেসক্লাব প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি অধ্যাপক আনোয়ারুল ইসলাম, মহিলা লীগ সম্পাদক ফরিদা ইয়াসমিন, প্রেসক্লাব (পুরাতন) সভাপতি কুশমত আলী, প্রেসক্লাব সভাপতি ফারুক আহমেদ, প্রভাষক প্রশান্ত বসাক প্রমুখ।