শিরোনাম

South east bank ad

বিশ্ববাজারে ইউরিয়া সারের দাম কমল ৫০ শতাংশ

 প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, ১২:০০ পূর্বাহ্ন   |   ক্রয়-বিক্রয়

বিশ্ববাজারে ইউরিয়া সারের দাম কমল ৫০ শতাংশ

আন্তর্জাতিক বাজারে নাইট্রোজেনভিত্তিক রাসায়নিক সার, বিশেষ করে ইউরিয়ার দাম ব্যাপক হারে কমেছে।

ব্যবসায়ী ও বাজার বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক সরবরাহ সংকটের প্রভাব কাটতে শুরু করেছে। ফলে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল পুরোপুরি স্বাভাবিক হওয়ার আগেই সারের দামে এ বড় পতন দেখা গেল। খবর ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস ও ওয়ার্ল্ডগ্রেইন ডটকম।

পণ্যবাজারের তথ্য সরবরাহকারী আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান আর্গুসের হিসাব অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যের বাজারে প্রতি টন ইউরিয়া সারের আদর্শ মূল্য (বেঞ্চমার্ক প্রাইস) প্রায় ৫০ শতাংশ কমে গেছে। গত এপ্রিলে যেখানে প্রতি টন ইউরিয়া সারের দাম সর্বোচ্চ ৯১৮ ডলারে উঠেছিল, তা এখন কমে ৪৭৫ ডলারে নেমে এসেছে। এ দরপতনের মাধ্যমে নাইট্রোজেনভিত্তিক সারের দাম যুদ্ধপূর্ববর্তী পর্যায়ে ফিরে এসেছে।

বাজার বিশ্লেষকরা জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার শান্তি চুক্তি হওয়ার আগেই সারের দাম কমতে শুরু করে। বিশ্বজুড়ে সারের কম চাহিদা এবং চীন পুনরায় সার রফতানি শুরু করার ইঙ্গিত দেয়ায় মূলত আন্তর্জাতিক বাজারে এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

আর্গুসের সার মূল্য নির্ধারণ বিভাগের প্রধান সারাহ মার্লো বলেন, ‘হরমুজ প্রণালি বন্ধ হওয়ার পর ইউরিয়ার দাম সবচেয়ে দ্রুত ও বেশি বেড়েছিল। আবার এ নৌপথ পুরোপুরি উন্মুক্ত হওয়ার আগেই এর দামই সবচেয়ে দ্রুতগতিতে কমে গেছে।’

তবে সারের এ আকস্মিক দরপতনের পেছনের কারণ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বৈশ্বিক খাদ্য ও কৃষি বিশেষজ্ঞরা। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) প্রধান অর্থনীতিবিদ ম্যাক্সিমো তোরেরো সতর্ক করে বলেন, ‘বিশ্ববাজারে সারের চাহিদা কমে যাওয়া এ দরপতনের একটি বড় কারণ। আর চাহিদা কমে যাওয়া কৃষি খাতের জন্য কোনো ভালো খবর নয়।’

তোরেরো ব্যাখ্যা করে বলেন, ‘উত্তর গোলার্ধের অনেক কৃষক যখন সারের দাম সবচেয়ে বেশি ছিল, তখনই তা কিনতে বাধ্য হয়েছিলেন। ফলে খরচ বাঁচাতে তারা জমিতে প্রয়োজনের চেয়ে কম সার ব্যবহার করেছেন। এর নেতিবাচক প্রভাবে আগামী মৌসুমে ফসলের ফলন কমে যেতে পারে, যা পরবর্তী সময়ে বিশ্ববাজারে খাদ্যের দাম আরো বাড়িয়ে দিতে পারে।’

তিনি আরো বলেন, ‘বর্তমানে সারের দাম কমলেও বৈশ্বিক কৃষির যে ক্ষতি হওয়ার তা এরই মধ্যে হয়ে গেছে।’

বাজার বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, অতিরিক্ত খরচের কারণে বিশ্বজুড়ে কৃষকরা সার কেনা কমিয়ে দিয়েছিলেন। মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের সময় সারের দাম আকাশচুম্বী হলেও ফসলের দাম ছিল বেশ কম। এতে কৃষকদের মুনাফা কমে যায় এবং তারা সার ব্যবহারের বাজেট কমাতে বাধ্য হন।

সার ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠান স্টোনেক্সের ভাইস প্রেসিডেন্ট জশ লিনভিল বলেন, ‘চড়া দামের কারণে বিশ্বজুড়ে কৃষকরা শেষ পর্যন্ত নাইট্রোজেন সার ব্যবহার কমিয়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেন। হিসাব অনুযায়ী, বিশ্বব্যাপী কৃষকরা প্রায় ৫ শতাংশ নাইট্রোজেন সার কম ব্যবহার করেছেন। শতাংশের হিসাবে এটি কম মনে হলেও বৈশ্বিক পরিমাপে এর পরিমাণ বিশাল। আর এ বিষয়টিই বাজারে সার সরবরাহ ও চাহিদার মধ্যে পুনরায় ভারসাম্য ফিরিয়ে এনেছে।’

BBS cable ad