আজ টাঙ্গাইল হানাদার মুক্ত দিবস
মো.আবু জুবায়ের উজ্জল, (টাঙ্গাইল):
আজ শনিবার (১১ ডিসেম্বর) টাঙ্গাইল হানাদার মুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে বাংলার দামাল সূর্য সন্তানরা পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর কবল থেকে মুক্ত করে টাঙ্গাইল। মুক্তিযুদ্ধের কোম্পানী কমান্ডার বর্তমান কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুল রাজ্জাক প্রথম টাঙ্গাইল সদর থানায় স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করেন। মানুষ জয়ের আনন্দে রাস্তায় বেরিয়ে আসে। জয় বাংলা স্লোগানে মুখোরিত হয় সারা জেলা। যুদ্ধকালীন টাঙ্গাইলের অকুতোভয় বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সাহসিকতাপূর্ণ যুদ্ধের কাহিনী দেশের সীমানা পার হয়ে বিদেশেও ছড়িয়ে পড়েছিল।
২৭ মার্চ বিন্দুবাসিনী সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত সভায় টাঙ্গাইলকে হানাদার মুক্ত ঘোষণা করা হয়। ওইদিন রাতেই সার্কিট হাউজ আক্রমন করে মুক্তিযোদ্ধারা। অতর্কিত ওই আক্রমনে দুই জন পাকিস্তানী সেনা নিহত হয় ও ১৫০ জন আত্মসমর্পন করে। প্রথম আক্রমনে ব্যাপক সাফল্য পাওয়ায় মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস জন্মে। এরপর থেকে গ্রামে গ্রামে যুবকরা সংগঠিত হতে থাকে।
আজ শনিবার (১১ ডিসেম্বর) ভোর থেকে মুক্তিযোদ্ধারা বীর বেশে শহরে প্রবেশ করতে থাকে এবং সারা শহর নিজেদের দখলে নিয়ে হানাদারদের ধরতে থাকেন। এভাবেই টাঙ্গাইল শহর সম্পূর্ণ হানাদার মুক্ত হয়। মুক্তির স্বাদ পেয়ে উল্লসিত মানুষ রাস্তায় বেড়িয়ে পড়ে। ‘জয় বাংলা’ স্লোগানে মুখরিত হয়ে উঠে টাঙ্গাইল শহর।
প্রতি বছরের ন্যায় আজও নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিবসটি পালন করা হবে। টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসন, টাঙ্গাইল পৌরসভা ও জেলা আওয়ামী লীগ নানা কর্মসূচি হাতে নিয়েছে।
এ দিনে সকালে শহরের শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যানে জাতীয় সংগীতের সাথে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হবে। পরে কবুতর ও বেলুন উড়িয়ে দিনব্যাপি কর্মসূচির উদ্বোধন করা হবে। তারপর মুক্তিযোদ্ধা, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে শোভা যাত্রা বের করে শহরের গুরত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করা হবে। সন্ধ্যায় আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি থাকবেন কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক এমপি।
জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীরমুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমান খান ফারুকের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি থাকবেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বীরমুক্তিযোদ্ধা জোয়াহেরুল ইসলাম (ভিপি) জোয়াহের এমপি, ছানোয়ার হোসেন এমপি, খন্দকার মমতা হেনা লাভলী এমপি, টাঙ্গাইল পৌরসভার মেয়র ও অনুষ্ঠান উদযাপন কমিটির সদস্য সচিব এসএম সিরাজুল হক আলমগীর, মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক জেলা কমান্ডার ফজলুল হক বীরপ্রতীক প্রমুখ।


