হাঁস পালন করে ভাগ্য পরিবর্তন করতে চান কৃষক ইদ্রিস
সুশান্ত কুমার সরকার, (পাবনা) :
কৃষি প্রধান দেশে গ্রামের মানুষের ভাগ্যপরিবর্তনের অন্যতম অবলম্বন কৃষি। এর পাশাপাশি বিভিন্ন গবাদিপশু পালন, হাঁস-মুরগি পালন এবং মাছ চাষ করেও অনেকেই ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটিয়ে থাকেন। তেমনি একজন কৃষক ইদ্রিস আলী হাঁসপালন করে তার ভাগ্য পরিবর্তন করতে চান।
পাবনার আটঘরিয়া উপজেলার তারাপাশা গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুল হামিদ আলীর ছেলে ইদ্রিস আলী। বাড়ীর পাশ দিয়ে বয়ে গেছে চিকনাই নদী। নদীর পাশে রয়েছে একটি ক্যানেল ও একটি ব্যক্তি মালিকানাধীন জলাশয়। অন্যের হাঁসপালন দেখে তিনি মাঝেমধ্যে উদ্যোগ নেন হাঁসপালন করার। সংসারের কাজ কর্মের পাশাপাশি শখের বসে হাঁসপালনের ইচ্ছোকে কাজে লাগান।
পরিকল্পনা অনুযায়ী চিকনাই নদীর পাশে ২ লাখ ২৫ হাজার টাকায় ব্যাক্তি মালিকানাধীন একটি জলাশয় ২ বছরের জন্য লিজ নেন। নদী এবং ক্যামানের কারণে সারা বছরই পানি থাকে ঐ জলাশয়ে। সেই জলাশয়ে প্রথমে এক হাজার হাঁসের বাচ্চা কিনে শুরু করেন হাঁসপালন। এর পর ধীরে ধীরে বড় পরিসরে হাঁস পালনের ইচ্ছাও তার মনে রয়েছে। নিজের তেমন কোন জমিজমা নেই। অন্যের জলাশায় ও পুকুর লিজ নিয়ে মাছ চাষের পাশাপাশি এবারই প্রথম তিনি হাঁস পালন করছেন।
ইদ্রিস আলী জানান, গত ফাল্গুন মাসে ১ হাজার হাঁসের বাচ্চা কেনেন ৩২ হাজার টাকা দিয়ে। হাঁস পালতের জন্য বসতবাড়ির পাশেই সোয়া ২ লাখ টাকার দিয়ে জলাশয় লিজ নেন। এ জন্য তিনি বিভিন্ন এনজিও থেকে ৩ লাখ টাকা ঋণ নিয়েছেন।
উপজেলার তাঁরাপাশা গ্রামের ইদ্রিস আলী হাঁসপালন করে এলাকায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন। তার খামার দেখতে বিভিন্ন এলাকা থেকে উৎসুক জনতার ভিড় করছেন। জলাশয়ের পানিতে হাঁসগুলো যখন ভেসে বেড়ায় তখন দেখতে খুব সুন্দর লাগে।
সরজমিনে হাঁসের খামার ঘুরে দেখে এবং ইদ্রিস আলীর সাথে কথা বলে জানা গেছে, মাস ছয়েক আগে মান্নাননগর হ্যাঁচাড়ী থেকে এক হাজার হাঁসের বাচ্চা কিনে একটি খামার শুরু করেন। বর্তমানে তার খামারে কেমবেল ও ঝিনুক জাতের হাঁস রয়েছে। প্রায় দুই সপ্তাহ হলো হাঁস ডিম দেওয়া শুরু করেছে। আরো এক মাস গেলে পর্যায়ক্রমে সবগুলো হাঁসে ডিম দেওয়া শুরু করবে বলে তিনি জানান। তিনি নিজে ও পরিবারের সদস্যরা এই হাঁস দেখা শুনা করেন। জলাশয়ের পাড়ে টিনশেড করে নেট দিয়ে ঘিরে রেখেছেন হাঁসগুলো রাতে রাখার জন্য। পাশেরই একটি ছোট ঘরে থেকে রাতে পাহাড়া দেন হাঁসগুলো। তার দেখা দেখি ওই এলাকার অনেক পরিবার হাঁসের খামার গড়ার জন্য পরামর্শ নিচ্ছেন ইদ্রিস আলীর কাছ থেকে।
খামারী ইদ্রিস আলী বলেন, আমি শখের বসে ১ হাজার কেমবেল ও ঝিনুক জাতের হাঁসের বাচ্চা কিনে ছোট পরিসরে একটি খামার করেছি। হাঁসের খাবারের জন্য প্রতিদিন ধান, গম ও ফিড কিনতে হয়। এ জন্য প্রতিদিন ৩ থেকে সাড়ে ৩ হাজার টাকা খরচ লাগে। সব মিলে প্রায় ৫ মন খাদ্য দিতে হয়। বর্তমানে কিছু হাঁস ডিম দিতে শুরু করেছে।
তিনি আরও জানান, বর্তমানে ঘর থেকে টাকা খরচ করে হাঁসের খাদ্য ও ঔষধ কিনতে হচ্ছে। সব হাঁস ডিম দেওয়া শুরু করলে খরচবাদে ভালো টাকা লাভ হবে বলে তিনি আশা করছেন। বর্তমানে হাঁসের খাবারের দাম, ঔষধ এর দাম একটু বেশি। এতে খরচ একটু বেশি হয়ে যাচ্ছে।


