শিরোনাম

South east bank ad

রেকর্ড আয়-মুনাফার পরও কমছে ফরচুন ৫০০ কোম্পানির কর্মীসংখ্যা

 প্রকাশ: ২১ জুন ২০২৬, ১২:০০ পূর্বাহ্ন   |   কর্পোরেট

রেকর্ড আয়-মুনাফার পরও কমছে ফরচুন ৫০০ কোম্পানির কর্মীসংখ্যা

যুক্তরাষ্ট্রের বৃহৎ কোম্পানিগুলোর আয় ও মুনাফা নতুন রেকর্ড গড়েছে।

তবে একই সময়ে এসব প্রতিষ্ঠানে কর্মীসংখ্যা কমেছে। ফলে উৎপাদনশীলতা বাড়লেও কর্মসংস্থান সে হারে বাড়ছে না। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবসা এ প্রবণতাকে আরো জোরালো করছে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদেরা। যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ ৫০০ কোম্পানির তালিকা ফরচুন ৫০০-এর ২০২৬ সালের তথ্য বিশ্লেষণে এমন চিত্র উঠে এসেছে। খবর ফরচুন।

চলতি বছরের তালিকা অনুযায়ী, ফরচুন ৫০০-এর অন্তর্ভুক্ত কোম্পানিগুলোর এখন পর্যন্ত সম্মিলিত আয় দাঁড়িয়েছে ২১ ট্রিলিয়ন ডলারে, আগের বছরের তুলনায় যা ৫ শতাংশ বেশি। একই সময়ে মোট মুনাফা ১২ শতাংশ বেড়ে ২ দশমিক ১ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। পাশাপাশি এসব প্রতিষ্ঠানের সম্মিলিত বাজারমূল্যও ১৯ শতাংশ বেড়ে ৫৫ ট্রিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এআই প্রযুক্তিতে বিপুল বিনিয়োগ ও প্রযুক্তি খাতকে ঘিরে বাজারের উচ্চ প্রত্যাশা এ প্রবৃদ্ধির অন্যতম কারণ।

তবে সাফল্যের বিপরীতে একটি ব্যতিক্রমী চিত্রও দেখা গেছে। ফরচুন ৫০০ কোম্পানিগুলোর মোট কর্মীসংখ্যা টানা দ্বিতীয় বছরের মতো কমেছে। বর্তমানে এসব প্রতিষ্ঠানে কর্মরত মানুষের সংখ্যা ৩ কোটি ৫ লাখ, আগের বছরের তুলনায় যা ১ শতাংশ কম। সংখ্যার হিসেবে প্রায় ৩ লাখ ১ হাজার কর্মী কমেছে।

ফরচুন ৫০০ তালিকায় কর্মীসংখ্যা কমার ঘটনা নতুন নয়। তবে ১৯৯৫ সালে সেবা খাতের প্রতিষ্ঠানগুলো তালিকায় যুক্ত হওয়ার পর সাধারণত মন্দা বা অর্থনৈতিক সংকটের সময়েই এমন প্রবণতা দেখা গেছে। এবার অর্থনীতি মন্দায় না থাকলেও কর্মীসংখ্যা কমেছে।

বিশ্লেষকেরা বলছেন, এর একটি বড় কারণ তালিকা থেকে কয়েকটি বড় নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠানের বাদ পড়ে যাওয়া।

এর মধ্যে অন্যতম ফার্মেসি চেইন ওয়ালগ্রিনস বুটস অ্যালায়েন্স। প্রতিষ্ঠানটি ২০২৫ সালে একটি প্রাইভেট ইকুইটি প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রি হয়ে যাওয়ার পর ফরচুন ৫০০ তালিকা থেকে বাদ পড়ে। গত বছর প্রতিষ্ঠানটিতে কর্মরত ছিলেন প্রায় ২ লাখ ৫২ হাজার ৫০০ জন। সে সময় এটি তালিকার ২৫টি বৃহৎ নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠানের একটি ছিল।

এছাড়া খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান নর্ডস্ট্রমও তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। প্রতিষ্ঠানটিতে কর্মী ছিলেন প্রায় ৪১ হাজার। সব মিলিয়ে এ বছর ফরচুন ৫০০ তালিকা থেকে বাদ পড়া ২২টি প্রতিষ্ঠানে কাজ করত প্রায় ৬ লাখ ৬০ হাজার মানুষ।

অন্যদিকে নতুন যুক্ত হওয়া ২২টি প্রতিষ্ঠানে কর্মীসংখ্যা ছিল ৩ লাখ ১৭ হাজারের কিছু বেশি। অর্থাৎ বাদ পড়া প্রতিষ্ঠানের তুলনায় নতুন প্রতিষ্ঠানের কর্মীসংখ্যা অর্ধেকেরও কম।

নতুন যুক্ত হওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় নিয়োগদাতা হলো প্রকৌশল ও প্রযুক্তি সেবা প্রতিষ্ঠান অ্যামেন্টাম হোল্ডিংস। প্রতিষ্ঠানটিতে প্রায় ৫০ হাজার কর্মী রয়েছে। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে স্বাস্থ্যসেবা সরঞ্জাম সরবরাহকারী মেডলাইন, যেখানে কর্মরত প্রায় ৪৫ হাজার মানুষ।

তবে তালিকায় টিকে থাকা অনেক প্রতিষ্ঠান কিছু নতুন কর্মী নিয়োগ দিয়েছে। ২০২৫-২৬ সালের মধ্যে একই তালিকায় থাকা প্রতিষ্ঠানগুলো মোট ৪১ হাজার ১৭৭ জন কর্মী নিযুক্ত করেছে। এক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বৃদ্ধি দেখা গেছে ডিকস স্পোর্টিং গুডসে। প্রতিষ্ঠানটি ফুট লকার অধিগ্রহণের পর কর্মীসংখ্যা ৮৩ শতাংশের বেশি বাড়িয়েছে। নতুন করে প্রায় ৩১ হাজার কর্মী যুক্ত হয়েছে।

অনলাইনে ব্যবহৃত গাড়ি বিক্রেতা কারভানাও কর্মীসংখ্যা বাড়িয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি নতুন করে ৫ হাজার ৭০০ নতুন কর্মী নিয়োগ দিয়েছে, যা আগের তুলনায় প্রায় ৩৩ শতাংশ বেশি।

তবে সামগ্রিকভাবে চিত্র ভিন্ন। সাম্প্রতিক হিসাব অনুযায়ী, ফরচুন ৫০০-এর বিদ্যমান কোম্পানিগুলোর কর্মসংস্থান দশমিক ১ শতাংশ বেড়েছে। অর্থনীতিবিদেরা একে ‘লো-হায়ার, লো-ফায়ার’ অর্থনীতি বলে অভিহিত করছেন। অর্থাৎ প্রতিষ্ঠানগুলো খুব বেশি নতুন কর্মী নিচ্ছে না, আবার বড় পরিসরে ছাঁটাইও করছে না।

হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির অধ্যাপক লরেন্স ক্যাটজের মতে, বড় প্রতিষ্ঠানগুলো এখন শ্রমনির্ভর অনেক কাজ আউটসোর্সের মাধ্যমে করছে। একই সঙ্গে প্রযুক্তির কারণে উৎপাদনশীলতা দ্রুত বাড়ছে। ফলে বিক্রি ও আয় বাড়লেও কর্মীসংখ্যা সে হারে বাড়ানোর প্রয়োজন হচ্ছে না।

তথ্যানুযায়ী, ফরচুন ৫০০ তালিকার শীর্ষ প্রতিষ্ঠান অ্যামাজন গত বছর প্রায় ২০ হাজার কর্মী নিয়োগ দিয়েছে। তবে এটি মোট কর্মীর কেবল ১ দশমিক ৩ শতাংশ বৃদ্ধি। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা ওয়ালমার্টের কর্মীসংখ্যা প্রায় অপরিবর্তিত রয়েছে। তৃতীয় অবস্থানের ইউনাইটেডহেলথ গ্রুপে কর্মীসংখ্যা ১০ হাজার কমেছে।

ক্যাটজের ভাষ্য, বড় প্রতিষ্ঠানগুলো এখন দক্ষ ও বিশেষজ্ঞ কর্মীদের বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। এসব কর্মী উচ্চ বেতন পাচ্ছেন। তবে প্রযুক্তির মাধ্যমে যে বিপুল উৎপাদনশীলতা অর্জিত হচ্ছে, তার সুফল পুরো কর্মীবাহিনীর মধ্যে আগের মতো ছড়িয়ে পড়ছে না। কয়েক দশক ধরেই বড় কোম্পানিগুলো কম কর্মী দিয়ে বেশি আয় করছে বলে উঠে এসেছে প্রতিবেদনে।

ফরচুন ৫০০ কোম্পানির প্রতি কর্মীর বিপরীতে গড় আয় এখন ৬ লাখ ৮৭ হাজার ডলারের বেশি। একইভাবে প্রতি কর্মীর বিপরীতে গড় মুনাফা প্রায় ৬৮ হাজার ৭৪৩ ডলারে পৌঁছেছে। উভয় ক্ষেত্রেই এটি নতুন রেকর্ড।

অন্যদিকে মূল্যস্ফীতির প্রভাব সমন্বয় করার পর দেখা যায়, কর্মীদের প্রকৃত মজুরি দীর্ঘ সময় ধরে প্রায় স্থির রয়েছে।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, ডিজিটাল সম্পদ বা ক্রিপ্টো খাতের দুটি নতুন প্রতিষ্ঠান এক হাজারেরও কম কর্মী নিয়ে তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে। এর মধ্যে বিটগো হোল্ডিংসে কর্মী রয়েছেন মাত্র ৬০৩ জন। তবু প্রতিষ্ঠানটি ফরচুন ৫০০ তালিকার ২৭৮ নম্বরে অবস্থান করেছে। অন্যদিকে গ্যালাক্সি ডিজিটালের কর্মীসংখ্যা প্রায় ৭০০। প্রতিষ্ঠানটি প্রথমবারের মতো তালিকায় প্রবেশ করেই শীর্ষ ১০০-এর মধ্যে জায়গা করে নিয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, প্রযুক্তি ও এআইনির্ভর ব্যবসায় ভবিষ্যতে কম কর্মী নিয়েও বড় অংকের রাজস্ব অর্জন করা সম্ভব হতে পারে।

BBS cable ad

কর্পোরেট এর আরও খবর: