শিরোনাম

South east bank ad

সিটি ব্যাংকের নিট মুনাফায় ১৬২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি

 প্রকাশ: ০১ মে ২০২৬, ১২:০০ পূর্বাহ্ন   |   কর্পোরেট

সিটি ব্যাংকের নিট মুনাফায় ১৬২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি

দেশের পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত সিটি ব্যাংক পিএলসি চলতি ২০২৬ হিসাব বছরের প্রথম প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) ২৪১ কোটি টাকা নিট মুনাফা করেছে, আগের হিসাব বছরের একই সময়ে যা ছিল ৯২ কোটি টাকা।

সে হিসাবে ব্যাংকটির নিট মুনাফায় প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৬২ শতাংশ। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত সভায় ব্যাংকটির প্রথম প্রান্তিকের অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুমোদন করেছে পর্ষদ।

আর্থিক প্রতিবেদন অনুসারে, চলতি ২০২৬ হিসাব বছরের প্রথম প্রান্তিকে সিটি ব্যাংকের শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ১ টাকা ৫৮ পয়সা, আগের হিসাব বছরের একই সময়ে যা ছিল ৬১ পয়সা।

প্রথম প্রান্তিকের এ শক্তিশালী পারফরম্যান্সের পেছনে মূলত সিটি ব্যাংকের কোর ব্যাংকিং আয় উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধিতে ভূমিকা রেখেছে। ঋণ থেকে সুদ আয় ১৪ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ১৪৩ কোটি থেকে ১ হাজার ৩০৬ কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে। বিনিয়োগ আয়ও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে ৬০৩ কোটি থেকে ১ হাজার ১৪ কোটি টাকায় পৌঁছেছে, যা মোট পরিচালন আয়ের ৩২ শতাংশ। একই সময়ে বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময় আয়, কার্ড-সংক্রান্ত ফি ও ট্রেড কমিশন বাড়ার ফলে ফি ও কমিশন আয় ২৭ শতাংশ বেড়েছে।

চলতি হিসাব বছরের প্রথম প্রান্তিকে সিটি ব্যাংকের মোট আয় ৩৮ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৩৩৮ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। কিন্তু ব্যয় নিয়ন্ত্রিত ছিল ৫৯৫ কোটি টাকায়। ফলে কস্ট-টু-ইনকাম রেশিওতে উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে। এ অনুপাত আগের বছরের একই সময়ের ৫২ থেকে কমে ৪৪ শতাংশে নেমে এসেছে।

ব্যাংকের পরিচালন মুনাফা গত বছরের তুলনায় ৬১ শতাংশ বেড়ে পেয়ে ৭৪৩ কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে, গত বছরের একই সময়ে যা ছিল ৪৬১ কোটি টাকায়। এছাড়া সম্পদের গুণগত মানে উন্নতি ঘটায় সঞ্চিতির প্রয়োজনীয়তা কিছুটা কমেছে, ফলে নিট মুনাফা বৃদ্ধিতে এ রেকর্ড অর্জন করা সম্ভব হয়েছে।

তবে ব্যাংকের এমডি ও সিইও মাসরুর আরেফিন এ প্রসঙ্গে তার সতর্ক মন্তব্যে বলেন, ‘এত বড় মুনাফা বৃদ্ধিতে আমি যতটা খুশি, ততটাই অখুশি ক্রেডিট গ্রোথ বা ঋণের প্রবৃদ্ধি প্রথম প্রান্তিকে একদম কমে যাওয়ায়। আমাদের খাতের ঋণের প্রবৃদ্ধির পরিস্থিতি যেদিকে যাচ্ছে, তা রীতিমতো দুশ্চিন্তার বিষয়।’

সর্বশেষ ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০২৫ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের জন্য ৩০ শতাংশ লভ্যাংশ প্রদানের সুপারিশ করেছে সিটি ব্যাংকের পর্ষদ। এর মধ্যে ১৫ শতাংশ নগদ ও ১৫ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ। আলোচ্য হিসাব বছরে ব্যাংকটির ইপিএস হয়েছে ৮ টাকা ৭১ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ৬ টাকা ৬৭ পয়সা। ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ শেষে ব্যাংকটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ৪০ টাকা ৬৭ পয়সায়। ঘোষিত লভ্যাংশ ও অন্যান্য এজেন্ডায় বিনিয়োগকারীদের অনুমোদন নিতে আগামী ৭ জুন ডিজিটাল প্লাটফর্মে বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) আহ্বান করেছে ব্যাংকটি। এ-সংক্রান্ত রেকর্ড ডেট নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ মে।

৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০২৪ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের ২৫ শতাংশ লভ্যাংশ দিয়েছে সিটি ব্যাংকের পর্ষদ। এর মধ্যে সাড়ে ১২ শতাংশ নগদ ও সাড়ে ১২ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ। আলোচ্য হিসাব বছরে সিটি ব্যাংকের ইপিএস হয়েছে ৭ টাকা ৫৩ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ৪ টাকা ৭৪ পয়সা। ৩১ ডিসেম্বর ২০২৪ শেষে ব্যাংকটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ৩৪ টাকা ৩৯ পয়সায়।

১৯৮৬ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত সিটি ব্যাংকের অনুমোদিত মূলধন ২ হাজার কোটি ও পরিশোধিত মূলধন ১ হাজার ৫২১ কোটি ২২ লাখ ২০ হাজার টাকা। রিজার্ভে রয়েছে ২ হাজার ৯৬১ কোটি ১৫ লাখ টাকা। মোট শেয়ার সংখ্যা ১৫২ কোটি ১২ লাখ ২২ হাজার ৬৯। এর ৩০ দশমিক ৩৭ শতাংশ রয়েছে উদ্যোক্তা পরিচালকদের কাছে। এছাড়া প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ১৭ দশমিক ৪১, বিদেশী বিনিয়োগকারী ৪ দশমিক ৮৭ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে বাকি ৪৭ দশমিক ৩৫ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।

BBS cable ad

কর্পোরেট এর আরও খবর: