শিরোনাম

South east bank ad

ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও জ্বালানি খাতের শেয়ারে নিম্নমুখিতা

 প্রকাশ: ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ১২:০০ পূর্বাহ্ন   |   কর্পোরেট

ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও জ্বালানি খাতের শেয়ারে নিম্নমুখিতা

মধ্যপ্রাচ্যে সৃষ্ট ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার প্রভাবে কয়েক সপ্তাহ ধরেই দেশের পুঁজিবাজারে অস্থিরতা দেখা যাচ্ছে।

যুদ্ধবিরতির পর কিছুটা ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গেলেও সেটি টেকসই হবে কিনা এমন শঙ্কায় রয়েছেন বিনিয়োগকারীরা। গত সপ্তাহে দেশের পুঁজিবাজারে সূচক প্রায় অপরিবর্তিত ছিল। এ সময়ে ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, জ্বালানি ও বিদ্যুৎসহ বড় মূলধনি কোম্পানির শেয়ারে নিম্নমুখিতা দেখা গেছে। সূচকে স্থবিরতা দেখা গেলেও গত সপ্তাহে পুঁজিবাজারের গড় লেনদেন বেড়েছে ২২ শতাংশ।

বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত সপ্তাহে প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সার্বিক সূচক ডিএসইএক্স আগের সপ্তাহের তুলনায় ১ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ২৫৭ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। নির্বাচিত কোম্পানির সূচক ডিএস-৩০ সপ্তাহের ব্যবধানে ১২ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ৯৯০ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের সপ্তাহ শেষে যা ছিল ২ হাজার ২ পয়েন্ট। শরিয়াহ সূচক ডিএসইএস গত সপ্তাহে ৩ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ৬৬ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের সপ্তাহ শেষে যা ছিল ১ হাজার ৬৩ পয়েন্ট।

ডিএসইতে গত সপ্তাহে মোট ৩৯০টি কোম্পানি, মিউচুয়াল ফান্ড ও করপোরেট বন্ডের লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে দর বেড়েছে ২১৩টির, কমেছে ১৪২টির ও অপরিবর্তিত ছিল ৩৫টির। আর লেনদেন হয়নি ২২টির। গত সপ্তাহে সূচকের পতনে সবচেয়ে বেশি অবদান রেখেছে ইসলামী ব্যাংক, পূবালী ব্যাংক, লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশ, ব্র্যাক ব্যাংক ও স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালসের শেয়ার।

ডিএসইতে গত সপ্তাহে দৈনিক গড়ে ৮১৩ কোটি টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে, আগের সপ্তাহে যা ছিল ৬৭০ কোটি টাকা। সে হিসাবে এক সপ্তাহের ব্যবধানে এক্সচেঞ্জটির দৈনিক গড় লেনদেন বেড়েছে ২২ দশমিক ২ শতাংশ।

বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, গত সপ্তাহের শুরুতে পুঁজিবাজারের অবস্থান ইতিবাচক ছিল। বিশেষ করে ডিসেম্বর ক্লোজিং শেয়ারগুলোর প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ এবং ভালো আয়ের প্রত্যাশার কারণে শেয়ার দর বেড়েছিল। তবে এ ইতিবাচক প্রবণতা বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধবিরতি আলোচনায় কোনো ইতিবাচক অগ্রগতি না হওয়ায় বাজারে পুনরায় ব্যাপক বিক্রয় চাপ শুরু হয়।

মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক এবং অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতির উন্নতির আশায় মাঝেমধ্যে কম দামে শেয়ার কেনার প্রবণতা দেখা গেলেও পুনরুদ্ধারের এ প্রচেষ্টা সফল হয়নি। বড় মূলধনি শেয়ারের ক্ষেত্রে ক্রমাগত সতর্ক বিক্রয় চাপের কারণে এবং সদ্যসমাপ্ত প্রান্তিকের করপোরেট আয়ের ঘোষণার অপেক্ষায় বিনিয়োগকারীরা পর্যবেক্ষণমূলক অবস্থানে থাকায় বাজার শেষ পর্যন্ত প্রায় স্থিতিশীল ছিল।

খাতভিত্তিক লেনদেনে গত সপ্তাহে প্রকৌশল খাতের শেয়ারের আধিপত্য ছিল। লেনদেনচিত্র বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত সপ্তাহে ডিএসইর মোট লেনদেনের ১৭ দশমিক ২ শতাংশ দখলে নিয়ে শীর্ষে অবস্থান করছে প্রকৌশল খাত। ১১ দশমিক ৬ শতাংশ লেনদেনের ভিত্তিতে দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল ওষুধ ও রসায়ন খাত। তৃতীয় অবস্থানে থাকা সাধারণ বীমা খাতের দখলে ছিল লেনদেনের ১০ দশমিক ৩ শতাংশ। বস্ত্র খাত ৯ দশমিক ১ শতাংশ লেনদেনের ভিত্তিতে তালিকার চতুর্থ অবস্থানে ছিল। আর পঞ্চম অবস্থানে থাকা ব্যাংক খাতের দখলে ছিল মোট লেনদেনের ৯ শতাংশ।

ডিএসইতে গত সপ্তাহে সবচেয়ে বেশি ৪ দশমিক ৮ শতাংশ ইতিবাচক রিটার্ন এসেছে সিরামিক খাতে। এছাড়া তথ্যপ্রযুক্তি খাতে ৩ দশমিক ৯ শতাংশ এবং সাধারণ বীমা খাতে ৩ দশমিক ৪ শতাংশ ইতিবাচক রিটার্ন এসেছে। গত সপ্তাহে ব্যাংক খাতে সবচেয়ে বেশি ১ দশমিক ৪ শতাংশ নেতিবাচক রিটার্ন এসেছে। এছাড়া এ সময়ে পাট খাতে ১ দশমিক ২ শতাংশ, সেবা ও আবাসন এবং খাদ্য ও আনুষঙ্গিক খাতে ১ দশমিক ১ শতাংশ হারে নেতিবাচক রিটার্ন ছিল। তাছাড়া এ সময়ে টেলিযোগাযোগ, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, কাগজ ও মুদ্রণ, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ এবং জীবন বীমা খাতের শেয়ারে নেতিবাচক রিটার্ন এসেছে।

দেশের আরেক পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) গত সপ্তাহে সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ১১ পয়েন্ট কমে ১৪ হাজার ৭৬২ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের সপ্তাহে যা ছিল ১৪ হাজার ৭৭৪ পয়েন্ট। সিএসসিএক্স সূচকটি সপ্তাহের ব্যবধানে ১ পয়েন্ট বেড়ে ৯ হাজার ৪০ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের সপ্তাহে যা ছিল ৯ হাজার ৩৯ পয়েন্ট।

সিএসইতে গত সপ্তাহে ১৫০ কোটি টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে, আগের সপ্তাহে যা ছিল ২৪৩ কোটি টাকা। আলোচ্য সপ্তাহে সিএসইতে লেনদেন হওয়া ২৯৫টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ১৪৭টির, কমেছে ১২১টির আর অপরিবর্তিত ছিল ২৭টির বাজারদর।

BBS cable ad

কর্পোরেট এর আরও খবর: