শিরোনাম

South east bank ad

বিশ্বকাপ ঘিরে দেশের বাজারে বেড়েছে বড় মনিটরের টিভি বিক্রি

 প্রকাশ: ১১ জুন ২০২৬, ১২:০০ পূর্বাহ্ন   |   ক্রয়-বিক্রয়

বিশ্বকাপ ঘিরে দেশের বাজারে বেড়েছে বড় মনিটরের টিভি বিক্রি

যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোয় আজ শুরু হচ্ছে বিশ্বকাপ ফুটবল। এর প্রভাবে দেশের বাজারে টেলিভিশনের বিক্রি বেড়েছে। বিক্রেতারা জানাচ্ছেন, বড় মনিটরের টিভির চাহিদা সবচেয়ে বেশি।

হাতে হাতে মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ ও ইন্টারনেট সংযোগ থাকলেও বিশ্বকাপের আমেজ টেলিভিশন ছাড়া পূর্ণ হয় না বলে মনে করেন দর্শকরা। তাদের মতে, দলবেঁধে হইহুল্লোড় করে খেলা দেখার আনন্দই আলাদা। আর সেই অভিজ্ঞতা বড় স্ক্রিন ছাড়া সম্ভব নয়।

রাজধানীর কারওয়ান বাজারের একটি ফাইন্যান্স ফার্মে চাকরিরত তানিয়া তানি-নাসিরুল ইসলাম নবদম্পতি। এবার প্রথমবারের মতো একসঙ্গে তারা বিশ্বকাপ ফুটবল দেখবেন বলে টেলিভিশন কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। বণিক বার্তাকে তানি বলেন, ‘বাসায় বসে খেলা দেখতে আমরা টিভি কেনার প্ল্যান করেছি। বড় পর্দা দেখেই নিতে চাই, তবে আমাদের বাজেট ৫০ হাজারের মধ্যে থাকায় এখনো ঠিক করে উঠতে পারছি না যে বড় পর্দায় নাকি মানের ওপর গুরুত্ব দেব।’

বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপের সময় যেখানে ৩২ ইঞ্চি টিভির চাহিদা ছিল সবচেয়ে বেশি, এবার ২০২৬ বিশ্বকাপে বেশির ভাগ ক্রেতার ৪৩ ইঞ্চি বা এর চেয়ে বড় টিভি কেনায় ঝোঁক। ধনাঢ্য অধ্যুষিত এলাকায় ৭৫-১০০ ইঞ্চির ওপর পর্যন্ত টিভি কেনার প্রবণতাও দেখা যাচ্ছে। অর্থাৎ ছোট টিভির যুগ শেষ হয়ে এখন বড় স্ক্রিনই বাজারে আধিপত্য বিস্তার করছে। সামগ্রিকভাবে ক্রেতাদের আচরণেও পরিবর্তন এসেছে—অনেকে তুলনামূলক কম দামের টিভি কিনলেও তাদের নজর স্মার্ট ফিচারে।

বিক্রেতারা বলছেন, নিম্ন-মধ্যবিত্ত ক্রেতারা টফি অ্যাপ, ইউটিউবসহ বিভিন্ন প্লাটফর্মে লাইভ স্ট্রিমিং দেখার সুবিধা থাকলে খারাপ কোয়ালিটি হলেও টিভি কিনতে আগ্রহী হচ্ছেন। বর্তমানের অভিভাবকরাও সন্তানদের মোবাইল ফোন থেকে দূরে রাখতে টিভিকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। ফলে তাদের কাছে স্মার্ট ফিচার গুরুত্ব পাচ্ছে।

অন্যদিকে ২০২২ সালের তুলনায় বর্তমানে টিভির দাম ৭ থেকে ১০ শতাংশ বাড়লেও মানুষের আয় তত বাড়েনি বলে জানাচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে বর্তমানে চাহিদার শীর্ষে থাকা ৪৩ ও ৫৫ ইঞ্চি টিভি ৬৪-৬৮ হাজারের মধ্যে পাওয়া যাওয়ায় তা মধ্যবিত্তের পছন্দের শীর্ষে অবস্থান করছে।

বাজার বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ৪৩ ইঞ্চির নিচে ছোট সাইজের চাহিদা ৪২ শতাংশ, সেখানে এর ওপরের আকারের টিভির চাহিদা ৫ থেকে ১০ শতাংশ বেশি। বিশেষ করে ৪৩, ৫০ ও ৫৫ ইঞ্চি বা তার চেয়ে বড় স্ক্রিনের টিভি কিনতে আগ্রহী হচ্ছেন তারা।

এছাড়া অনেক শোরুম বিশ্বকাপ উপলক্ষে সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য থেকে কম দামে বিক্রি করছে, যাতে বেশি বিক্রি নিশ্চিত করা যায়। এছাড়া ফ্রি জার্সি-ফুটবল, ওয়ারেন্টি-গ্যারান্টি-সার্ভিসিংয়ে নানা আকর্ষণীয় প্যাকেজ দেয়া হচ্ছে।

একটি বিদেশী কোম্পানির এরিয়া ম্যানেজার কামরুল হাসান বণিক বার্তাকে বলেন, ‘বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার আগেই আমরা বাড়তি স্টক নিয়েছিলাম। তবুও চাহিদা এত বেশি যে প্রতিদিন নতুন করে টিভি আনতে হচ্ছে। আমাদের ৪৩ ইঞ্চি ও ৫৫ ইঞ্চির টিভি স্টক আউট।’

বিশ্বকাপ ফুটবলকে কেন্দ্র করে বাজার নিয়ে দেশের শীর্ষস্থানীয় টেলিভিশন প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের বিজনেস হেড (টেলিভিশন) জানান, সাধারণ সময়ের তুলনায় বিশ্বকাপ চলাকালীন টিভির চাহিদা দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে। যদিও দেশের বাজারে ৩২ ও ৪৩ ইঞ্চি টিভির চাহিদা সবসময়ই বেশি থাকে, তবে এবারের বিশ্বকাপে বড় মনিটরের বা বড় পর্দার টিভির প্রতি ক্রেতাদের আগ্রহ ও চাহিদা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।

ক্রেতাদের এ ক্রমবর্ধমান চাহিদাকে গুরুত্ব দিয়ে তার প্রতিষ্ঠান এবার বাজারে নতুন করে ১০০, ৮৫ ও ৬৫ ইঞ্চির মতো বড় পর্দার টিভি নিয়ে এসেছে। তিনি আরো উল্লেখ করেন, মানসম্মত পণ্য এবং দেশজুড়ে শক্তিশালী বিক্রয়োত্তর সেবার (সার্ভিসিং) কারণে দেশের ৬০-৭০ শতাংশ ক্রেতা এখন দেশীয় ব্র্যান্ডগুলোর ওপর আস্থা রাখছেন, যার মধ্যে ওয়ালটন, ভিশন, যমুনা শীর্ষস্থানে অবস্থান করছে।

রাজধানীর ইলেকট্রনিকস বাজার ঘুরে জানা গেছে, উচ্চ চাহিদা থাকা কোম্পানির সাধারণ সময়ে একটি শোরুমে মাসে গড়ে ৪৫-৫০টি টিভি বিক্রি হলেও বিশ্বকাপের মাসে তা কয়েক গুণ বাড়তে পারে। অনেক কোম্পানির জন্য তাদের বার্ষিক মোট টিভি বিক্রির ৬০-৭০ শতাংশ এ সময়েই হয়ে থাকে।

বিভিন্ন শোরুম, দোকানে কর্মরত বিক্রয়কর্মীরা জানিয়েছেন, ঢাকার মানুষ এখন আর দেশী ব্র্যান্ডের দিকে তেমন ঝুঁকছে না। তারা বলছেন, নিম্ন-মধ্যবিত্ত শ্রেণীর ক্রেতারাও এখন ইন্টারনেটে গবেষণা করে ইলেকট্রনিকস পণ্য কিনতে আসেন। ফলে দেশী ব্র্যান্ডের প্রতি আগ্রহ কমছে।

এ নিয়ে একজন বিক্রয়কর্মী প্রশ্ন তোলেন, ‘যদি ২০ হাজার টাকার মধ্যে ৪৩ ইঞ্চি টিভি বানানোর চেষ্টা করা হয়, তবে মান (কোয়ালিটি) কীভাবে নিশ্চিত হবে?’ তার মতে, মান নিশ্চিত করা গেলে বাজার যত ছোটই হোক না কেন, চাহিদা থাকবেই।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সাধারণত এক্সক্লুসিভ শোরুমগুলোতে মাসে সাধারণত ৩৭-৩৮টি টিভি বিক্রি হয়ে থাকে। তবে বিশ্বকাপ উপলক্ষে তারা ১০ শতাংশ বিক্রি বৃদ্ধির লক্ষ্য নিয়েছে। তারা প্রতিদিন ৮-১৫টি টিভি বিক্রির আশা করছেন।

তবে নিম্নবিত্তের মানুষ এখনো দেশী ব্র্যান্ডগুলোতেই আস্থা রাখছে। যেমন দেশী মাঝারির মানের ৩২ ইঞ্চির নানা কনফিগারেশনের টিভি ২৩ হাজার ৯০০ থেকে শুরু করে ২৯ হাজার ৯০০ টাকায় পাওয়া যায়, যা সাধারণ সময়গুলোতেই বিক্রির শীর্ষে থাকে।

বর্তমানে বাজারে বিভিন্ন রেজল্যুশন ও ডিসপ্লে কোয়ালিটির টিভি পাওয়া যাচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে এইচডি, ফুল এইচডি, কিউএলইডি, আল্ট্রা এইচডি ফোরকে, এমনকি ইউএইচডি এইটকে (যা বর্তমানে শুধু স্যামসাংয়ের রয়েছে)। এছাড়া প্যানেল প্রযুক্তির দিক থেকেও বাজারে বৈচিত্র্য রয়েছে। বর্তমানে পাওয়া যাচ্ছে কিউএলইডি প্যানেল, মিনি এলইডি প্যানেল, ওএলইডি (অর্গানিক এলইডি) প্যানেল। এর মধ্যে ওএলইডি টিভির চাহিদা সবচেয়ে বেশি। কারণ এর ডিসপ্লে মান, রঙের গভীরতা ও কনট্রাস্ট অন্য প্রযুক্তির তুলনায় উন্নত। ক্রেতারা বাজেট ও পছন্দ অনুযায়ী এসব মডেল বেছে নিচ্ছেন।

বিক্রেতারা জানাচ্ছেন, বিশ্বকাপের ম্যাচগুলো পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে বসে উপভোগ করার জন্য বড় স্ক্রিনের টিভি এখন সবচেয়ে জনপ্রিয়। অনেক দোকানে নির্দিষ্ট মডেলের টিভির স্টক শেষ হয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন তারা।

BBS cable ad