কেন্দুয়ায় পূর্ব বিরোধের জেরে অতর্কিত হামলায় কিশোর খুন, স্কুলছাত্রসহ আহত
মোঃ নজরুল ইসলাম, (ময়মনসসিংহ):
মাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে নেত্রকোনার কেন্দুয়ায় পূর্ব বিরোধের জেরে সুমন মিয়া (১৫) নামে এক কিশোর ছুরিকাঘাতে খুন হয়েছে। সুমন মিয়া উপজেলার চিরাং ইউনিয়নের চিথোলিয়া গ্রামের মৃত ইনচান মিয়ার ছেলে। এছাড়াও আরো ৪জন গুরুতর আহত হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে। আইনশৃংখলা নিয়ন্ত্রণে এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
এ ঘটনায় আগত আরও চার কিশোরকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়েছে। তারা হলো চিথোলিয়া গ্রামের কাঞ্চন মিয়ার ছেলে রেদুওয়ান হাসান রিয়াজ (১৩), শরিফ আকন্দের ছেলে রিফাত আকন্দ (১৩), মুজিবুর রহমানের ছেলে সালাউদ্দিন বিজয় (১৪), জসিম উদ্দিনের ছেলে হাসান (১৫)। তাদের মধ্যে কেন্দুয়া জয়হরি স্পাই সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ৯ম শ্রেণীর মেধাবী ছাত্রকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আশংকাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছে। আগে গত বছরের ১৩ নভেম্বর বাড়িঘরে
হামলায় দ্রুত বিচার আইনে দায়েরকৃত মামলার সাক্ষী রিয়াজ।
এ ঘটনায় আজ রোববার (১৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সাগুলি গ্রামের ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মোঃ ফখরুজ্জামান জুয়েল (পিপিএম)। চিথোলিয়া গ্রামে পুলিশ মোতায়ন রয়েছে। পুলিশ ও বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, চিথোলিয়া গ্রামের সমাজ কল্যাণ নামে একটি সমিতি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে একই গ্রামের লোকদের মধ্যে পূর্ববিরোধে একাধিকবার সংঘর্ষ ও ভাংচুরের ঘটনা ঘটেছে। এর প্রভাব গ্রামের কিশোরদের মাঝেও রয়েছে। গত শনিবার গ্রামের কিশোরদের মাঝে ফুটবল খেলায় বিরোধ হয়।
পরে শনিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাতে একই ইউনিয়নের সাগুলী গ্রামে হাসান শাহ্’র মাজারে বার্ষিক ওরশে যায় ওই কিশোররা। রাত সাড়ে ১০টার দিকে তাদের পথরোধ করে হামলা চালায়। এসময় ধারালো অস্ত্রের আঘাতে পাঁচ কিশোর মারাত্মক আহত হলে স্থানীয়রা তাদেরকে উদ্ধার
করে রাত ১২টার দিকে কেন্দুয়া উপজেলা হাসপাতালে নিয়ে আসে। প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাদেরকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রাত ৩টার দিকে সুমন মিয়াকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক।
কেন্দুয়া থানার ওসি কাজী শাহনেওয়াজ জানান, চিথোলিয়া গ্রামে সমিতি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। শনিবার সাগুলী মাজারে ওরশে গিয়ে পূর্ববিরোধ ও ফুটবল খেলা নিয়ে বিরোধে কিশোরদের কথা কাটাকাটি ও মারামারি হয়। এ সময় ধারালো অস্ত্রের আঘাতে ৫ কিশোর মারাত্মক আহত হলে তাদেরকে হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করলে সুমন মিয়া (১৪) ময়মনসিংহ মেডিকেল হাসপাতালে মারা যায়। রোববার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং চিথোলিয়া গ্রামে পুলিশ মোতায়ন করা হয়েছে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত মামলা হয়নি। এ দিকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ মর্গে সুমন মিয়ার লাশের ময়না তদন্ত শেষে তার স্বজনদের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হয়েছে।


