শিরোনাম

South east bank ad

রাজশাহীতে মাছচাষি হত্যা রহস্য উদঘাটন

 প্রকাশ: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১২:০০ পূর্বাহ্ন   |   অটোমোবাইল

আমজাদ হোসেন শিমুল, (রাজশাহী ব্যুরো) :

ট্রাক নিয়ে জেলায় জেলায় ঘুরে পুকুরের মাছ চুরি করাই তাঁদের পেশা। মাছ চুরি করতে গিয়ে এবার রাজশাহীর গোদাগাড়ীর চাঁপাল গ্রামের এক মাছচাষিকে হত্যা করেছেন তারা। বৃহস্পতিবার বিকেলে এই চক্রের তিনজন গোদাগাড়ীতে মাছচাষি হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে রাজশাহীর অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল অধিকারীর আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন।

আদালতে স্বীকারোক্তি দেওয়া আসামিরা হলেন নওগাঁ সদর উপজেলার ফারাদপুর গ্রামের মন্টুর ছেলে রেজাউল ইসলাম (৫০), দক্ষিণপাড় নওগাঁ গ্রামের ফসির উদ্দিনের ছেলে আবদুল করিম ওরফে জনি (২৫) ও আরজি নওগাঁর নাপিতপাড়া গ্রামের দুলালের ছেলে মো. শাহীন (৩৪)।

আদালতে স্বীকারোক্তি দেওয়া আসামিরা জানিয়েছেন, তাঁরা পেশাদার মাছ চোর। রাজশাহী, নওগাঁ, বগুড়া ও জয়পুরহাটের বিভিন্ন এলাকায় ছোট ট্রাক নিয়ে তাঁরা ঘুরে বেড়াতেন এবং সুবিধামতো স্থানে পুকুর থেকে মাছ চুরি করতেন।

গত ২৯ আগস্ট দিবাগত রাতে গোদাগাড়ীতে লালদিঘি গ্রামের পুকুরপাড়ের টংঘরে মাসুদ রানা (৩৯) নামের এক মাছচাষি খুন হন। ওই দিন রাতে ওই চক্রের নয়জন একটি ট্রাকে নিয়ে নওগাঁর ফারাদপুর থেকে মাছ চুরি করতে গোদাগাড়ী যান।

এ সময় তাঁরা পুকুরের টংঘরে মাসুদ রানা ও আরেক মাছচাষি লিটনের হাত, পা ও মুখ বেঁধে মাছ চুরি করতে শুরু করেন। মাছ ধরা শেষ হওয়ার আগেই লিটন ও মাসুদের জেলেরা মাছ ধরতে চলে এলে জাল ও মাছ ফেলে চোরেরা পালিয়ে যান। এরপর জেলেরা টংঘরে গিয়ে লিটন ও মাসুদের হাত ও পায়ের বাঁধন খুলে দিলে দেখা যায়, মাসুদ মারা গেছেন।

গোদাগাড়ী থানার ওসি কামরুল ইসলাম জানান, মাসুদ রানা হত্যার ঘটনার পর থেকে পুলিশ মাছ চোরদের ধরতে অনুসন্ধান শুরু করে। এরপর নওগাঁয় একটি দলের সন্ধান মেলে, যাঁরা বিভিন্ন এলাকার পুকুর থেকে মাছ চুরি করেন। এদিকে কয়েক দিন আগে গোদাগাড়ী থানা ও জেলা বিশেষ শাখার একটি দল অভিযান চালিয়ে প্রথমে রেজাউল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে দুদিনের রিমান্ডে নেয়।

ওসি আরও বলেন, রিমান্ডে নেওয়ার পর রেজাউলের দেওয়া তথ্যমতে, নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার ভোলার পালশা গ্রামের আবদুল মতিনের ছেলে আবদুল লতিব ও (৪০) আদালতে স্বীকারোক্তি দেওয়া অন্য দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের কাছ থেকে নিহত মাসুদ রানার ব্যবহৃত মুঠোফোনও উদ্ধার করা হয়। বৃহস্পতিবার বিকেলে জবানবন্দি গ্রহণ শেষে আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য ব্যক্তিদেরও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

BBS cable ad

অটোমোবাইল এর আরও খবর: