শিরোনাম

South east bank ad

করোনা ভাইরাস : ঈদে কালো মানিকের দাম নিয়ে চিন্তিত মালিক

 প্রকাশ: ০৬ জুলাই ২০২১, ১২:০০ পূর্বাহ্ন   |   অটোমোবাইল

এইচ. এম জোবায়ের হোসাইন ( ময়মনসিংহ) :

আসছে কোরবানি ঈদে ক্রেতাদের নজর কাড়বে ময়মনসিংহের কালো মানিক। ইতোমধ্যে গরুটি আলোচনার কেন্দ্র বিন্দুতে রয়েছে। তবে করোনা ভাইরাসের প্রার্দুভাবের কারনে ন্যায্য মূল নিয়ে চিন্তিত গরুর মালিক জাকির হোসেন সুমন। গরুটি লালন পালন করতে প্রতিদিন গড়ে তার দুই হাজার টাকা খরচ করতে হচ্ছে।

চার বছর ধরে ফ্রিজিয়ান ষাঁড়টি লালন পালন করছেন ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার ধানীখোলা ইউনিয়নের জাকির হোসেন সুমন। গেল বছর কোরবানি ঈদের আগে ষাঁড়টির নাম দিয়ে ছিলেন কালো মানিক। এখন ত্রিশালসহ জেলা শহরেও কালো মানিক নামটি বেশ পরিচিত। এবার ঈদের আকর্ষণীয় এই ষাঁড়টি দেখতে প্রতিদিন সুমনের বাড়িতে ভিড় জমাচ্ছেন সৌখিন মানুষেরা। লালন পালনে খরচ বেশি হওয়ায় গরুটি বিক্রি করার আশা ব্যক্ত করেছেন সুমন।

জাকির হোসেন সুমন বলেন, ২০১৭ সালে স্থানীয় বাজার থেকে শখের বসে ফ্রিজিয়ান কালো রংয়ের এই ষাঁড়ের বাছুরটি ক্রয় করেন। লালন-পালন করতে করতে কেমনে চারটি বছর চলে গেল খোঁজও পাননি তিনি। গরুটি লম্বায় ১০ ফিট। মাংস হবে প্রায় ১ হাজার ৫০০ কেজির মতো। সুঠাম আকৃতির এই গরুটি লালন পালন করতে সারাদিন দুইজন লোকের প্রয়োজন হয়। নিয়মিত দেখাতে হয় চিকিৎসককে। খাবার খাওয়ানো হয় খৈল, ভুষি, খড়, কাঁচা ঘাস, ভুট্টা এবং সয়াবিন। প্রতিদিন প্রায় দুই হাজার টাকা খরচ হয় কালো মানিকের পেছনে।

তিনি আরো বলেন, কোরবানি ঈদকে সামনে রেখে কালো মানিকের দাম চাচ্ছেন ৩০ লাখ টাকা। তবে কিছু কম বেশি হলেও বিক্রি করে দিবেন। কিন্তু করোনার ভয় সবসময় তাকে তাড়িয়ে বেড়াচ্ছেন। গরুটি লালন-পালন করতে তার ১০ থেকে ১২ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। তবে পাইকাররা দাম হাকাচ্ছেন ১২ লাখ টাকার মতো। তার আশা ঈদের আগেই ন্যায্য মূল্যে বিক্রি হবে কালো মানিক।

স্থানীয় সাজেদুল হক ও জাফর ইকবাল বলেন, এবারের কোরবানি ঈদে কালো মানিক ময়মনসিংহ তথা সারা দেশের মধ্যে অন্যতম আকর্ষণীয় গরু গুলোর মধ্যে একটি হবে। এতো বড় গরু জীবনে তারা খুব কমেই দেখেছেন। গরুটিকে কেন্দ্র করে ত্রিশাল উপজেলা সারাদেশে অন্যভাবে পরিচিতি পেয়েছে।

দীর্ঘদিন ধরে এমন একটি গরু লালন পালন করায় মালিককে ধন্যবাদ জানাই। আমাদের প্রত্যাশা ঈদে কালো মানিকের ন্যায্য মূল্য পাবে মালিক। সরকারি সহযোগিতা পেলে এইসব বড় বড় গরু পালনে খামারীরা উৎসাহ পাবে।
পশু চিকিৎসক কামাল হোসেন বলেন, দীর্ঘ চার বছর ধরে তিনি কালো মানিকের চিকিৎসা করে যাচ্ছেন। প্রাকৃতিক খাবার খাইয়ে কালো মানিককে লালন পালন করা হয়েছে। এমন গরু খুব কমেই দেখা যায়। এর মাংস সুস্বাদু হবে। তবে করোনার কারনে হয়তো প্রকৃত মূল্য নাও পেতে পারেন বলে ধারনা তার।

ময়মনসিংহ জেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডা.মোহাম্মদ ওয়াহেদুল আলম বলেন, কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে প্রশাসনিক সর্বোচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সাথে তাদের আলোচনায় সিদ্ধান্ত হয়েছে অনলাইনে গবাদি পশু বিক্রিতে ক্রেতা-বিক্রেতাদের উৎসাহ দিতে। সেই আঙ্গিকে কাজও করা হচ্ছে। এবার যেহেতু সিদ্ধান্ত হয়েছে দেশের বাইরে থেকে বৈধ ও অবৈধ গরু আসার সুযোগ নেই। তাই যারা দীর্ঘদিন ধরে গবাদি পশু লালন-পালন করছেন তারা এবছর ন্যায্য মূল্য পাবে, হতাশ হওয়ার কিছু নেই।

তিনি আরো বলেন, যেহেতু ঈদ আমাদের ধর্মীয় বিষয় তাই অনলাইন ছাড়াও স্বাস্থ্যবিধি মেনে কিছু হাট বসবে। তবে যে হারে করোনা বাড়ছে, স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করা ছাড়া কোন ভাবেই হাট পরিচালনার অনুমতি দেয়া হবে না।

বিভাগীয় কমিশনার শফিকুর রেজা বিশ্বাস বলেন, ধর্মপ্রিয় মুসলমানদের বড় উৎসব কোরবানি ঈদ। সকলেই হাটে গিয়ে গবাদি পশু কিনতে স্বাছন্দবোধ করে। কিন্তু এবার করোনাভাইরাসের জন্য স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত পরিসরে গবাদি পশুর হাট বসানোর নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। তবে অনলাইনে গবাদি পশু কেনার জোড় তৎপরতা চালানো হচ্ছে।

BBS cable ad

অটোমোবাইল এর আরও খবর: