রাজবাড়ীতে চলছে ঢিলেঢালা লকডাউন
খন্দকার রবিউল ইসলাম (রাজবাড়ী):
করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের হার বৃদ্ধি পাওয়ায় রাজবাড়ীতে চলছে সরকার ঘোষিত লকডাউন। আর এই লকডাউন বাস্তবায়নে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট এ পুলিশি চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। কিন্তু তাতেও লকডাউন চলছে ঢিলেঢালা ভাবে।
সোমবার (২২ জুন) সকাল থেকেই শহরের মধ্যে রিকশা-ভ্যান, অটোরিকশা, মাহেন্দ্র ও মোটর সাইকেলসহ ছোট যানবাহন চলাচল করতে দেখা গেছে।তবে বন্ধ রয়েছে দূরপাল্লার বাস।
সকাল ১১টায় শহরের বড়পুল মোড়ে লকডাউন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবেন জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার।
সরেজমিনে রাজবাড়ী শহরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, শহরের বিভিন্ন স্থানে খোলা রয়েছে চায়ের দোকান,মিষ্টির দোকান সহ মুদি দোকান। এছাড়াও বিপণি-বিতানের সামনে দেখা গেছে কর্মজীবী ও শ্রমজীবী মানুষের জটলা। রাস্তায় পায়ে হেঁটে পথচারীদেরকে চলাচল করতে দেখা গেছে। অনেকে বিভিন্ন অযুহাতে বাড়ির বাইরে বের হচ্ছে। পথচারীদের অনেককেই মাস্ক ছাড়াই চলাচল করেছন।
তবে চেকপোস্টে সকাল থেকে জনসাধারণ ও যানবাহন প্রবেশ বা চলাচল রোধ করতে দেখা গেছে পুলিশ সদস্যদের। জরুরি সেবা ছাড়া অন্যান্য যানবাহন চলতে দেয়া হচ্ছে না এবং যারা অকারনে রিকশা-ভ্যান, অটোরিকশা নিয়ে বের হচ্ছে তাদের পড়তে হচ্ছে বিভিন্ন প্রশ্নের মুখে। নিয়ে নেওয়া হচ্ছে গাড়ির সিট, চাবি এবং টায়ারের হাওয়াও ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে।
রহমান শেখ নামের এক রিকশা চালক বলেন, আমাগেরে কোন লকডাউন নাই। পেটের দায়ে রাস্তায় বের হতে হয়। রিকশা না চালাইলে খামু কি..?
বড়পুল এলাকার রবিউল নামের এক যাত্রীর সাথে কথা বললে তিনি জানান, জরুরি কাজে ঢাকা যেতে তিনি এখানে এসেছেন। কিন্তু গণপরিবহন সহ দূরপাল্লার বাস বন্ধ থাকায় ভোগান্তিতে পড়েছেন তিনি।
জেলা প্রশাসক দিলসাদ বেগম বলেন, করোনা সংক্রমনের ঝুঁকি এড়াতে সরকার ৭ জেলায় কঠোর বিধিনিষেধ জারি করেছে। রাজবাড়ী জেলা করোনা সংক্রমনের উচ্চ ঝুঁকিতে থাকায় এ জেলার রাজবাড়ী সদর সহ ৩ পৌরসভা ৭ দিনের লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে যা ৩০ জুন পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।
উল্লেখ্য, করোনা সংক্রমন বৃদ্ধি পাওয়ায় গত রবিবার রাজবাড়ী জেলা প্রশাসক দিলসাদ বেগম রাজবাড়ী পৌরসভা, পাংশা ও গোয়ালন্দ পৌরসভা ৭ দিনের কঠোর লকডাউন ঘোষণা করেন। এ সময় তিনি জরুরি পণ্যবাহী যানবাহন ছাড়া সকল প্রকার যানবাহন চলাচলে নিষেধাজ্ঞা আরোপসহ ১৩ দফা নির্দেশনা জারি করেন।
জেলা সিভিল সার্জন সূত্র জানায়, গত ২৪ ঘন্টায় সদর হাসপাতালে র্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্টে ৭২টি নমুনার মধ্যে ১৯ জন পজিটিভ ও আরটি-পিসিআর টেস্টে ১৫৭টি নমুনা আইসিডিডিআরবিতে পাঠালে ৪২ জনের শরীরে করোনা সংক্রমণ শনাক্ত হয়। এ জেলার করোনা শনাক্তের হার শতকরা ৮৫ শতাংশ।


