আওয়ামী লীগের সম্মেলনে অসহায় স্বাস্থ্য বিধি
প্রদীপ মোহন্ত, (বগুড়া):
দেশে আবারও বৃদ্ধি পাচ্ছে প্রাণঘাতি করোনা। প্রতিদিনই বাড়ছে শনাক্তের সংখ্যা। দীর্ঘ হচ্ছে মৃতদের সারি।
এই মহামারির বিস্তার ঠেকাতে ইতোমধ্যেই বন্ধ করে দেয়া হয়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। দেশব্যাপী আরোপ করা হয়েছে বিধি নিষেধ।
সকল রাজনৈতিক সভা সমাবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কিন্তু তারপরও করোনার এ কঠিন মুহুর্তে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের নির্দেশে বগুড়ার শিবগঞ্জে অনুষ্ঠিত হলো উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রি বার্ষিক সম্মেলন।
আজ (১ ফেব্রুয়ারি) মঙ্গলবার স্থানীয় এমএইচ কলেজ মাঠে বেলা ১১ টা থেকে শুরু হওয়া এ সম্মেলনে বিভিন্ন ইউনিয়নের কয়েক সহস্রাধিক নেতাকর্মী যোগ দেন।
যাদের অধিকাংশই মানেননি স্বাস্থ্য বিধি। মঞ্চের সামনে বসে থাকা অধিকাংশ নেতাকর্মীর মুখে ছিলো না কোনো মাস্ক।
কর্মীদের স্বাস্থ্য বিধি মানার ব্যাপারে দলীয় নির্দেশনা থাকলেও মাস্ক ব্যবহার করেননি অনেকেই। সম্মেলনে আশা বেশির ভাগ নেতা কর্মীর থুতনি ও গলায় ঝুলতে দেখা গেছে মাস্ক।
এছাড়া ব্যাপক জন সমাগম হওয়ায় শারিরিক দূরত্বের বালাই ছিলো না সম্মেলন স্থলে। কয়েক হাজার মানুষ সমাবেশে যোগ দিলেও কোনো স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষিত। প্রসাশন ছিল অসহায়। তারা কোনো পদক্ষেপ নেননি।
যদিও কদিন আগে করোনার মধ্যে সম্মেলন অনুষ্ঠানের ব্যাপারে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রাগেবুল আহসান রিপু জানিয়েছিলেন, কেন্দ্রের সিদ্ধান্তেই সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে।
উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতারাও ঘরোয়া পরিবেশে স্বাস্থ্য বিধি মেনে সম্মেলন অনুষ্ঠানের ঘোষণা দিলেও শেষ পর্যন্ত তারা তা মানেননি।
এ ব্যাপারে শিবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা তারকনাথ কুন্ডু বলেন, যে কোন প্রকার জনসমাগমেই স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলা উচিত। না মানলে সবার জন্যই ক্ষতিকর।
শিবগঞ্জ থানার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উম্মে কুলসুম সম্পার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেন নি।
শিবগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাস্টার হাবিবুর আলম বলেন, স্বাস্থ্য বিধি মেনে সামাজিক দুরত্ব বজায় রেখে নেতাকর্মীদের চেয়ার দেওয়া হয়।
প্রবেশের সময় সবাইকে মাস্ক দেওয়া হয়। দ্বিতীয় অধিবেশনেও কঠোরভাবে স্বাস্থ্য বিধি মেনে কমিটি ঘোষণা করা হয়।


