শিরোনাম

South east bank ad

ভাতা কার্ড ফিরিয়ে দেওয়া সেই বিধবা লাজিনাকে সম্মাননা প্রদান

 প্রকাশ: ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১২:০০ পূর্বাহ্ন   |   অটোমোবাইল

প্রদীপ মোহন্ত, (বগুড়া) :

বগুড়ার আদমদীঘিতে লাজিনা বেওয়া নামে এক বিধবা তার ভাতার কার্ড ফেরত দিয়ে এলাকায় আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন। প্রতিশ্রুতি অনুসারে সংসারে সচ্ছলতা আসায় তিনি এ সিদ্ধান্ত নেন। তার এ মহৎ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয় থেকে তাকে সম্মাননা দেয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ৩টায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে (ইউএনও) শ্রাবণী রায় তার হাতে সম্মাননা স্মারক ও ফুলেল শুভেচ্ছা দিয়ে অভিনন্দন জানিয়েছেন।

এসময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ সিরাজুল ইসলাম খাঁন রাজু, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা শরিফ উদ্দিন, আওয়ামী লীগ নেতা রফিকুল ইসলাম ও বিধবার ছেলে মামুনুর রশিদ প্রমুখ।

স্বজনরা জানান, লাজিনা বেওয়া উপজেলার ছাতিয়ানগ্রাম ইউনিয়নের ধুলাতইর গ্রামের মৃত হাদিস আলীর স্ত্রী। মাত্র ১০ শতক সম্পত্তি রেখে স্বামী ১৯৮২ সালে মারা যান। মাত্র ২২ বছর বয়সে বিধবা লাজিনা বেওয়া ছোট দুটি মেয়ে ও ছয় মাস বয়সের ছেলে মামুনকে আঁকড়ে নতুন করে বেঁচে থাকার স্বপ্ন দেখতে শুরু করেন। সংসারে একটু সচ্ছলতা ফেরাতে ১৯৯৮ সালে বিধবা ভাতার তালিকাভুক্ত হন। তবে তখন তিনি স্থির করেন, সংসারে সচ্ছলতা ফিরলে তিনি এ কার্ড ফেরত দেবেন। অনেক কষ্টের মাঝে দুটি মেয়েকে বিয়ে দেন। একমাত্র ছেলে মামুনুর রশিদ মামুন লেখাপড়া শেষ করেন। সংসারের হাল ধরতে সরকারিভাবে (জিটুজি পদ্ধতিতে) ২০১৪ সালে মাত্র ৩৩ হাজার টাকা খরচে মালয়েশিয়া যান। তিনি দুই বছর পর দেশে ফিরে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে চাকরি লাভ করেন। ছেলে আয় করায় লাজিনা বেওয়ার সংসারে অভাব দূর হয়ে যায়, আসে স্বচ্ছলতা। তাই তিনি সিদ্ধান্ত অনুসারে তার বিধবা ভাতার কার্ড ফেরত দেওয়ার জন্য তার ছেলেকে বলেন। তার ছেলে স্থানিয় গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে পরামর্শ নিয়ে পরের দিন কার্ডটি সমাজ সেবা দপ্তরে ফেরত দিতে আবেদন করেন। কষ্টের দিনে এমন সহযোগিতা পাওয়ায় এবং উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয় থেকে মঙ্গলবার দুপুরে সম্মাননা পাওয়ায় তিনি সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।

মা লাজিনার কার্ড ফিরিয়ে দেওয়ার বিষয়ে মামুনুর রশিদ বলেন, ‘মা অনেক কষ্ট করলেও সততার সঙ্গে জীবনযাপন করেছেন। তিনি কারও অনুকম্পা বা অনুগ্রহ নিতে চাননি। বিধবা ভাতা কার্ডটি সরকারি সহায়তা এবং সেটি তার প্রাপ্য ছিল। তাই তিনি নিয়েছিলেন। আমি যখন সরকারি চাকরিতে যোগ দিলাম, তখন থেকেই তিনি ভাতার কার্ডটি আর রাখতে চাননি।’

লাজিনা বেওয়া বলেন, ‘যখন হামার দরকার ছিল তখন হামি সরকারের সাহায্য লিছি। এখন তো হামার আর দরকার নাই। তাই হামি সেডা ফেরত দিছি। হামার ফেরত দেওয়া কার্ডের বদলে যদি আরেকজন অভাবী বিধবা সাহায্য পায় তাহলে হামি খুশি হমো।’ সেই সঙ্গে উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয় থেকে সম্মাননা দেয়ায় কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।

উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা শরিফ উদ্দিন জানান, ‘লাজিনা বেওয়া সারাদেশে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। সেজন্য আমরা তাকে সংবর্ধনা দিয়েছি।’ এ উপজেলায় কার্ড ফেরত দেওয়ার ঘটনা ঘটেনি। বিধবা ওই নারীর সিদ্ধান্ত খুব ভালো লেগেছে। ওই নারীর কাছে শিক্ষা নেওয়া উচিত, প্রয়োজন ছাড়া কোনো কিছু নেওয়া ঠিক নয়।

BBS cable ad

অটোমোবাইল এর আরও খবর: