রেলের জমিতে মাদ্রাসা সিলগালা করায় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী
প্রদীপ মোহন্ত, (বগুড়া) :
বগুড়ার আদমদীঘির সান্তাহার রেলওয়ে জংশন স্টেশনের পশ্চিম পাশে রেলের জমিতে ভবন নির্মাণ করার অভিযোগে জামিয়া আরাবিয়া দারুল উলুম মাদরাসা সিলগালা করেছে রেল কর্তৃপক্ষ। রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চল পাকশী বিভাগের ভূ-সম্পত্তি কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নুরুজ্জামান রবিবার বিকেল ৩টার দিকে সিলগালা করার পর ঘটনাটি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে এলাকাবাসী ক্ষোভ প্রকাশ করেন। অবশেষে ২২ ঘন্টা পর সোমবার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে মাদ্রাসাটির সিলগালা খুলে দেয়া হয়েছে।
জানা গেছে, ১৯৭৪ সালে উপজেলার সান্তাহার জামিয়া আরাবিয়া দারুল উলুম মাদরাসা ও এতিমখানাটি স্থানীয় ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের সহযোগিতায় রেলওয়ে জমিতে প্রতিষ্ঠিত হয়। এরপর থেকে ৬০০ শিক্ষার্থীদের পাঠদানের পাশাপাশি ধীরে ধীরে মাদ্রাসাটি সম্প্রসারণ করা হয়। সেই সঙ্গে রেল কর্তৃপক্ষের কাছে লিজ নেয়ার জন্য একাধিকবার আবেদন করা হয়। কিন্তু আজ পর্যন্ত মাদ্রাসাটি লিজ পাওয়া যায়নি। এমন পরিস্থিতিতে রবিবার বিকেল ৩টার দিকে রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চল পাকশী বিভাগের ভু-সম্পত্তি কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নুরুজ্জামান হঠাৎ ওই মাদ্রাসায় অভিযান চালিয়ে সিলগালা করে দেন। এরপর ঘটনাটি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে এলাকাবাসী ক্ষোভ প্রকাশ করতে শুরু করেন। একপর্যায়ে সোমবার সকালে মাদ্রাসা প্রাঙ্গনে পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক আহম্মেদ আলী সরদার স্বপনসহ কমিটির অন্যান্য সদস্য ও মাদ্রাসা সংশ্লিষ্টদের নিয়ে সান্তাহার পৌর মেয়র তোফাজ্জল হোসেন ভুট্টু, বগুড়া জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য আশরাফুল ইসলাম মন্টু, উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাজেদুল ইসলাম চম্পা, কাউন্সিলর আব্দুল কুদ্দুসসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দরা বৈঠক করেন। সেই বৈঠক থেকে ভূ-সম্পত্তি কর্মকর্তা নুরুজ্জামানের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি মাদ্রাসাটির সিলগালা খুলে দিতে সম্মতি জ্ঞাপন করেন। এরপর বেলা সাড়ে ১২টায় সান্তাহার রেলওয়ের প্রশাসনের উপস্থিতিতে ভূ-সম্পত্তি বিভাগের লোকজন এসে মূল গেটে করা সিলগালা খুলে দেয়।
মাদ্রাসার মুহতামিম মাওলানা মাহাবুবুল ইসলাম জানান, মাদরাসার পাশে পুকুর ও বেশ কিছু দোকান রয়েছে। সেগুলো লিজ নিয়ে নিয়মিত খাজনা দিয়ে পরিচালনা করা হচ্ছে। কিন্তু মাদ্রাসাটি লিজ নেয়ার জন্য বহুবার ঘোরাঘুরি করেও লিজ পাওয়া যায়নি। শেষ পর্যন্ত গত দুই বছর আগে রেল মন্ত্রণালয়ে আবেদন করা হয়। রেলমন্ত্রী, সচিবসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সেটি গ্রহণ করেন। আজ পর্যন্ত সেই মাদ্রাসাটির লিজ অনুমোদন করা হয়নি।
এব্যাপারে রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চলের পাকশী বিভাগের ভূ-সম্পত্তি কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নুরুজ্জামানের মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করলে তিনি কলটি কেটে দেন।


