করোনা মহামারীতে কতটা নিরাপদ পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা
এম.এস রিয়াদ, (বরগুনা) :
যাদের পরিশ্রমে সকাল হলেই শহরটিকে সুন্দররূপে দেখতে পাই। মনোরম এক সকালের হাওয়ায় নিঃশ্বাস ফেলতে পারি। চলতে পারি সুন্দর ও তৃপ্তদায়ক মন নিয়ে। সুন্দরের পূজারি হিসেবে তুলে ধরতে পারি অনায়াসেই।
আর এই সুন্দরূপ যারা আমাদের উপহার দিয়ে যাচ্ছেন প্রতিনিয়ত, যাদের সাথে ময়লার ভাগারের একটি গভীর সম্পর্ক রয়েছে। যেখানে সামান্য ময়লা দেখলেই নাক ছিটকে ফেলি আমরা। মুখ ঘুরিয়ে নেই সর্বদা। যাদের এই মহানুভবতায় আমরা সুন্দর একটি শহর খুঁজে পাই। করোনা মহামারীর মধ্যে তারা কি সত্যিই নিরাপদ? নাকি বুকচাপা কষ্ট নিয়ে বেঁচে আছেন? তাদের কতটা খোঁজ রাখছেন কর্তৃপক্ষ? সামান্য বেতনে কিভাবে চলে তাদের সংসার! কিভাবে চলে তাদের ছেলেমেয়ের লেখাপড়া!
করোনাভাইরাস সংক্রমণ শুরু হওয়ার পর মানুষ যখন ঘরবন্দি, তখনো এই মানুষগুলোই প্রতিটি বাড়ি বাড়ি গিয়ে ময়লা-আবর্জনা সংগ্রহ করেছে। একদিনের জন্য হলেও তাদের কোনো বিরাম ছিল না। তবে এই মহামারিতে অনেক পেশার মানুষ সরকারি প্রণোদনা কিংবা অন্যান্য সহযোগিতা পেলেও তা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা। আর্থিক প্রণোদনা তো দূরের কথা, দুর্যোগের এই সময়ে তাদের কাজের কোনো স্বীকৃতিও দেয়নি কেউ। নিরাপত্তা নিশ্চিতে দেখা যায়নি সেভটি পোশাকের কোন চিহ্ন।
গতবছর করোনার শুরুর দিকে পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের সরকারের পক্ষ থেকে প্রণোদনা দেয়ার বিষয়ে আলোচনা উঠলেও তা আর বাস্তবে রূপ নেয়নি। জোটেনি জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও সহযোগিতা। পৌর কর্তৃপক্ষ এই মানুষগুলোর জন্য কতটা নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছেন তা বলাবাহুল্য।
বরগুনা পৌরসভা ও যথাযথ কর্তৃপক্ষ করোনা নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্য ঝুঁকি এড়াতে পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের অচিরেই স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে আশাবাদী বরগুনা পৌরবাসী।


