আন্তর্জাতিক জীববৈচিত্র্য দিবস আজ : জীববৈচিত্র্য রক্ষায় দরকার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা
মানুষই প্রাণ-প্রকৃতি সুরক্ষায় প্রধান সহায়ক হলেও, মানুষই এই প্রাণ-প্রকৃতির নির্মম হন্তারক। একক প্রজাতি হিসেবে মানুষের লাগাতার ভোগবিলাসিতা, লুণ্ঠন আর খবরদারির জন্যই আজ প্রাণ-প্রকৃতির মুমূর্ষু অবস্থা। মানুষ কেবল একা নিজে জিততে চায়, নিজের বাহাদুরি প্রতিষ্ঠা করতে চায়। একা নিজের খাবার ফলাতে গিয়ে মাটি পানি সব বিষাক্ত করে ফেলেছে। অণুজীব থেকে পতঙ্গ সব ধ্বংস করছে।
দুনিয়াজুড়ে প্রাণ-প্রকৃতির এই নিদান একেবারেই মানুষের তৈরি। আজ যুদ্ধবোমায় ঝলসে দেওয়া হচ্ছে ফিলিস্তিন, অঙ্গার হয়েছে আমাজন অরণ্য, রেস্টুরেন্টের জন্য কেটে ফেলা হয়েছে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবাহী সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের গাছ।
আজ ২২ মে, আন্তর্জাতিক জীববৈচিত্র্য দিবস। বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে জীববৈচিত্র্য সম্পর্কে ধারণা ও সচেতনতা বৃদ্ধি এবং এ ব্যাপারে করণীয় নির্ধারণে দিবসটি গুরুত্বপূর্ণ। জীববৈচিত্র্য রক্ষায় প্রকল্প নয়, দরকার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা এবং এলাকাভিত্তিক জীববৈচিত্র্য গবেষণাগার তৈরি করতে হবে । জীববৈচিত্র্যের সার্বিক সংরক্ষণ অর্থাৎ দেশজ উদ্ভিদ ও প্রাণী প্রত্যেকটার সংরক্ষণ করতে হবে। মানুষ প্রকৃতিরই অংশ এবং মানুষের নানাবিধ রোগের সমাধান প্রকৃতির মধ্যেই রয়েছে। খাদ্য নিরাপত্তার জন্য জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ করতে হবে। গ্রাম ও নগরকে পাখিবান্ধব করতে দেশীয় প্রজাতির গাছ রোপণ করতে হবে। অতিরিক্ত ফসল উত্পাদনের জন্য আমরা মাটিকে বারবার এত বেশি সার বা কীটনাশক দিচ্ছি যে, মাটি এখন পিপাসার্ত এবং নেশাগ্রস্ত হয়ে পড়েছে। এখন মাটিতে সার কীটনাশক না দিলে মাটি আর সাড়া দেয় না।
আন্তর্জাতিক জীববৈচিত্র্য দিবস উপলক্ষ্যে পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন (পবা) এবং বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘বারসিক’ যৌথভাবে গতকাল অনলাইন আলোচনাসভার আয়োজন করে। এতে অংশ নিয়ে পবা চেয়ারম্যান আবু নাসের খান বলেন, দেশের নাগরিকদের পরিবেশ প্রকৃতি সুরক্ষার কাজে সম্পৃক্ত হতে হবে। মানুষ উন্নত জীবনযাপনের জন্য নিজের অজান্তে জন্য জীববৈচিত্র্য ধ্বংস করছে, এটা রোধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।
মানুষ তার চাহিদা, কৌতূহল মেটাতে পাহাড়, মাটি খুঁড়ে, বরফ গলিয়ে জীববৈচিত্র্যর ভারসাম্য নষ্ট করছে। এসব কারণে বিচিত্র সব ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া তাদের আবাস হারাচ্ছে, ফলে টিকে থাকার জন্য আশ্রয় খুঁজছে গবাদি পশু, মানুষ কিংবা লোকালয়ে। ফলে পরিবেশে বিপর্যয় নামছে। যার ফলে মহামারি দেখা দিচ্ছে। কোভিড-১৯-এর মতো ‘জুনটিক’ রোগের ঝুঁকি বাড়ছে। ক্ষতিকর প্রাণিকে বিনাশ নয়, তাকে দমন করতে হবে।
সচেতনতার দ্বারা জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কার্যকর করা যায়। বিভিন্ন পরিবেশবাদী সংগঠন, সরকারি-বেসরকারি সংস্থা এ ব্যাপারে ভূমিকা পালন করতে পারে। বানিপার সাধারণ সম্পাদক এস এম ওয়াহেদ বলেন, প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্যকে কেন্দ্রবিন্দুতে রেখে সব পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করতে হবে।