পদত্যাগের আগেই চাকুরি গেল কর্মচারীর
মো: আব্দুস ছাত্তার, (ফুলবাড়িয়া) :
ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার আছিম তা’লিমুল মিল্লাত দাখিল মাদ্রাসার নিম্নমান সহকারী মো: আব্দুল কদ্দুছ পদত্যাগ পত্র জমা দেওয়ার ৫ মাস আগেই এমপিও থেকে নাম কর্তন করে দেওয়ায় মাসিক বেতন বঞ্চিত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। মাদ্রাসা সুপার ঘটনাটি ধামাচাপা দিলেও জট খুলতে শুরু করেছে। ফলে পরিচালনা কমিটি বনাম সুপারের মধ্যে সম্পর্কের অবনতি নিয়োগ নিয়ে জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনার অনুসন্ধানে জানা যায়, মো: আব্দুল কদ্দুছ ঐ মাদ্রাসার নিম্নমান সহকারী হিসাবে প্রায় ৬০ বছর চাকুরি করে আসছেন। চাকুরির শেষ পর্যায়ে মাদ্রাসা সুপার মো: আব্দুল হক নিম্নমান সহকারী মো: আব্দুল কদ্দুছ কে অফার দেন। সেই অফারের ফাঁদে পড়েন আব্দুল কদ্দুছ। নিম্নমান সহকারী (বর্তমান পদ- অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর) পদে তারই পুত্রকে স্থলাভিষিক্ত করতে সুপার ও কদ্দুছের মধ্যে একটি গভীর চুক্তিবদ্ধ হয়। কারণ সরকার পর্যায়ক্রমে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নিয়োগে হস্তক্ষেপ করছে বিধায় যে কোন মুহুর্তে কর্মচারী নিয়োগটি সরকার নিয়ন্ত্রণে নিয়ে যেতে পারেন। তাই আ: কদ্দুছ কে দিয়ে গোপনে একটি পদত্যাগ পত্র নিয়ে এমপিও থেকে তার নাম কর্তন করার আবেদন করেন সুপার। সেমতে অধিদপ্তর মার্চ মাস থেকে মো: আব্দুল কদ্দুছের নাম কর্তন করে দেন। করোনাকালীন সময় প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় সেটি আর প্রচার হয়নি। গোপনে সুপার মো: আব্দুল হক কমিটির সাথে লিয়াজো করার চেষ্টা করেন। করোনার দোহাই দিয়ে দীর্ঘদিন যাবত কমিটির মিটিং আহ্বান করেন নি তিনি।
অবশেষে দৃশ্যমান পদত্যাগপত্র ১৭ জুলাই জমা দেন মো: আব্দুল কদ্দুছ। সেটিতে তিনি অসুস্থতার কারণে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করছেন বলে উল্লেখ করেন। জুলাই মাসে পরিচালনা কমিটির সভায় তার পদত্যাগপত্র কমিটির অনুমোদন লাভ করে। কিন্তু সুপার গত বছরের ডিসেম্বর মাসে মো: আব্দুল কদ্দুছ কে দিয়ে একটি পদত্যাগপত্র নিয়ে তা অধিদপ্তরে জমা দেন। সেটি গোপন করে কমিটির কাছে।
ফলে এ নিয়ে স্টাফদের মধ্যে শুরু হয় কানাকানি শেষ পর্যন্ত ব্যাংক থেকে এমপিও বিলের কপি উত্তোলন করে সততা পাওয়া যায় ঘটনার। সুপার নিম্নমান সহকারী মো: আব্দুল কদ্দুছ এর নিকট থেকে চাকুরি শেষ হওয়ার আগেই একটি পদত্যাগ পত্র গ্রহণ করেন এবং তা অধিদপ্তরে জমা দিয়ে নাম কর্তন করেন। অথচ জুলাই মাসে দৃশ্যমান পদত্যাগপত্র পরিচালনা কমিটিকে দেখিয়ে ১৫আগস্ট জাতীয় শোক দিবসের দিন কমিটির একটি সাধারণ সভা আহ্বান করেন সুপার মো: আব্দুল হক। সেই প্রেক্ষিতে নোটিশ প্রদান করা হলে কমিটির ৩ জন সদস্য বাদে কেউ ঐ নোটিশে স্বাক্ষর করেননি। কারণ জাতীয় শোক দিবসের দিন ঐ সংক্রান্ত কোন এজেন্ডা না থাকায় এদিন কোন মিটিং বৈধ হবে না বলে মনে করেন কমিটির অন্য সদস্যরা।
কমিটির সদস্য মো. গোলাম ফারুক বলেন, জাতীয় শোক দিবসে সুপার যে মিটিং আহ্বান করেছিলেন সেটিতে আমার মতে করা ঠিক না বলেই আমি স্বাক্ষর করি নাই। নিয়োগ নিয়ে সুপার একটি নীল নকশা একেছেন যা কোন ভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
কমিটির সদস্য মো. শহিদুল্লাহ মেম্বার বলেন, জাতীয় শোক দিবসের দিন কোন সুস্থ মানুষ পরিচালনা কমিটির সাধারণ সভা করতে পারে? তাও ঐ সংক্রান্ত কোন এজেন্ডা না রেখে। আব্দুল কদ্দুছ পদত্যাগ করলেন জুলাই মাসে কিন্তু ৫মাস যাবত তিনি বিল করেন না কেন? ইতিমধ্যে সকল প্রমাণ আমরা হাতে পেয়েছি। সামনে মিটিং এ সুপারকে জবাবদিহি করতে হবে।
সুপার মো: আব্দুল হক বলেন, পদত্যাগ বিষয়ে মোবাইল ফোনে কিছু বলা যাবে না, আগামীকাল (বুধবার) ফুলবাড়িয়ায় এসে বিস্তারিত ঘটনা বলবো।
পরিচালনা কমিটির সভাপতি এ,টি,এম দেলোয়ার হোসেন বলেন, ১৫ আগস্ট কমিটির মিটিং হয়নি। অন্যদিন হয়েছে। সঠিক তারিখ এই মুহুর্তে বলতে পারছি না। পদত্যাগ পত্রের বিষয়ে সুপার কাজটি মোটেও ঠিক করেনি। সামনের মিটিং তাকে জবাবদিহি করতে হবে।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার বেলায়েত হোসেন বলেন, স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করার কারণটি যথাযথভাবে তদন্ত করে দেখতে হবে।


